ফোবর্স তালিকা অনুযায়ী ভারতের শীর্ষ ৯ ধনকুবের ব্যাক্তি!

কেউ দাঁড়িয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে। কেউ নিজের পায়ে। কোমরের জোরে। শূণ্য থেকে উঠেছেন শিখরে। তবে এমন কম। বেশিরভাগেরই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ব্যবসা আরও বাড়িয়েছেন। বলা যায়, তাঁদের সময়েই সেই ব্যবসা সবচেয়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছে।হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। বড়লোক মানে ওই ধনীদের কথাই বলছি। তারওপর ভারতের মতো গরীব দেশে যখন এত এত টাকার মালিকদের দেখা যায়, তখন সত্যি বলতে কেমন একটা গা ছমছম করে।

যাইহোক, প্রতিবছর ফোবর্স দেশের ধনকুবেরদের তালিকা প্রকাশ করে। এবারও করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ভারতে একশো এক জন ধনকুবেরের বাস। এখানে আমরা ৯ জনকে বেছে নিলাম।

৯) গৌতম আদানি


জন্ম গুজরাটের আমেদাবাদে। আদিত্য বিড়লা গ্রপের চেয়ারম্যান তথা মালিক। ফোবর্স তালিকায় নবম ধনকুবের। বার্ষিক আয় ৭১৪ কোটি টাকা।

৮) কুমার বিড়লা


কুমার মঙ্গলম বিড়লা জন্মেছেন কলকাতায়। বেড়ে ওঠা মুম্বইতে। তিনি এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। ফোবর্স তালিকায় অষ্টম স্থানে। বার্ষিক আয় ৭৮৫ কোটি টাকা।

৭) শিব নাদার


এইচসিএল-এর কর্ণধার তথা মালিক। তামিলনাড়ুতে জন্ম। শিবনাদার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানও। সফটওয়্যার দুনিয়ায় তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য। ফোবর্সের তালিকায় সপ্তম ধনকুবের। বার্ষিক আয় ৮১৮ কোটি টাকা।

৬) গোদরেজ গ্রুপ


আরদেশির বুরজোরজি সোরাবজি গোদরেজ ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় শিল্পপতি। এখন যে কোম্পানিটি গোদরেজ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ নামে পরিচিত, আগে তারই নাম ছিল গোদরেজ ব্রাদার্স কোম্পানি। এই কোম্পানির আবিষ্কৃত পণ্যগুলির অর্ধেকই তাঁর আবিষ্কার। আরদেশির গোদরেজ জন্মসূত্রে ছিলেন মুম্বইকর।  ফোবর্স তালিকায় এই গ্রুপ রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। বার্ষিক আয়  ৯১৪ কোটি টাকা।

৫) পালুনজি মিস্ত্রি


‘সাপুনজি পালুনজি’ গ্রুপের মালিক ও চেয়ারম্যান। ফোবর্সের তালিকায় পঞ্চম ধনকুবের। বার্ষিক আয়  ১.০৩ লক্ষ কোটি টাকা।

৪) লক্ষ্মী মিত্তাল


জন্মসূত্রে রাজস্থানী। সাদুলপুর গ্রামে জন্ম। একজন ভারতীয় ইস্পাত ব্যবসায়ী। তিনি বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাত প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আর্সেলরমিত্তালের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। গোল্ডম্যান স্যাকস, ইএডিএস ও আইসিআইসিআই ব্যাংক অনির্বাহী পরিচালক এবং ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েনের ভাইস চেয়ারম্যান। এছাড়াও তিনি কাজাখস্তানের বৈদেশিক বিনিয়োগ কাউন্সিল, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কাউন্সিল, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক লৌহ ও ইস্পাত ইন্সিটিটিউটের নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য।ফোবর্সের তালিকায় চতুর্থ ধনী। বার্ষিক আয় ১.০৭ লক্ষ কোটি টাকা।

 

৩) হিন্দুজা ব্রাদার্স


বিশ্বের শীর্ষ ৮০ বিলিয়নেয়ারের মধ্যে ব্রিটেন থেকে শুধু ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দুজা ব্রাদার্সেরই নাম উঠে এসেছে। হিন্দুজা ভাইদের মধ্যে শ্রীচাঁদ ও গুপিচাঁদ হিন্দুজা বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে ৬৬তম অবস্থানে রয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) উপস্থাপিত অক্সফামের সাম্প্রতিক জরিপ প্রতিবেদনে। ফোবর্সের তালিকায় এঁরা আছেন তৃতীয় স্থানে। এঁদের বার্ষিক আয় ১.১৯ লক্ষ কোটি টাকা।

২) আজিম প্রেমজি


জন্মসূত্রে মুম্বইকর। ধর্মে শিয়া মুসলিম। পুরো নাম আজিম হাশিম প্রেমজি। এই ভারতীয় ব্যক্তিত্বের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ‘প্রথম’। তিনি একশ কোটি ভারতীয়র মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের, প্রযুক্তিখাতের পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব, শীর্ষ দানবীর, সেরা শিক্ষানুরাগী এবং শিল্পপতি। সফলতার সর্বোচ্চ সূচকে অবস্থান করা আজিম প্রেমজির কাছে সফলতার সংজ্ঞা বরাবরই প্রচলিত বৃত্তের বাইরে। ছাত্রজীবনে ছিলেন সেরা স্কলার। গড়ে তুলেছেন ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘উইপ্রো লিমিটেড’ ও শীর্ষ দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আজিম প্রেমজি ফাউন্ডেশন’। ফোবর্সের তালিকায় দেশের দ্বিতীয় বড় ধনকুবের পেমজি। তাঁর বার্ষিক আয় ১.২৩ লক্ষ কোটি টাকা।

১) মুকেশ আম্বানী


জন্মসূত্রে গুজরাতি। তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বৃহৎ শেয়ারের মালিক। রিলায়েন্স ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির একটি এবং বাজার মূল্যের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি। তিনি এই কোম্পানির ৪৪.৭% শেয়ারের মালিক। তাঁর বার্ষিক আয় ২.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই মালিকের পকেটে আসলে ফুটো পয়সাও থাকে না। এই ব্যাপারে বলেছিলেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকেই আমি পকেটে কোনো অর্থ রাখি না, এখনো রাখি না। আমার কোনো ক্রেডিট কার্ড নেই। আমার আশপাশে সব সময় সহযোগীরা থাকেন। তাঁরাই বিল পরিশোধ করেন। এভাবেই আমার কাজ চলে যায়।’

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: