জানেন কি, ট্রেনের গায়ে যে নম্বর লেখা থাকে, তা দিয়ে আপনি নাড়ি-নক্ষত্র বলে দিতে পারবেন গড়গড় করে?

ট্রেন ছাড়া আমাদের দেশে চলা মুশকিল। সে যতই হাতের কাছে বাস, কার বা অ্যারোপ্লেনের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকুক। তৃতীয় বিশ্বের এই দেশে ট্রেনে যাতায়াত করাটা বলতে ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। পকেটে অনেক টাকা আছে, তাও অনেকে পরিবহন মাধ্যম হিসেবে ট্রেনকে বেছে নেন। সারা ভারতে বিভিন্ন বয়সের নাগরিক মিলিয়ে কোটি কোটি মানুষ ট্রেনে চড়েন প্রতিদিন। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো মেট্রো সিটিতে লোকাল ট্রেন রয়েছে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে। আবার বিহার. উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে অফিস যাতায়াতের মাধ্যম দূরপাল্লার মেইল ট্রেনই ভরসা।

যাইহোক, ট্রেনে আমরা সকলেই চড়েছি। আচ্ছা, প্রতিটি কামরা আর ইঞ্জিনের গায়ে লক্ষ্যও করেছেন নম্বর লেখা থাকে। জানেন, তার মানে কি?

ওই নম্বর কিন্তু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ওই নম্বরের মানে জানা থাকলে, ট্রেনের নাড়ি-নক্ষত্র থেকে শুরু করে জন্মবৃতান্ত বলে দিতে পারবেন আপনি। ওই সারিবদ্ধ সংখ্যার প্রথম থেকে শেষ, সবেরই আলাদা মানে আছে।

সংখ্যার সারি শূন্য দিয়ে শুরু হলে…

বুঝতে হবে, হোলি, দীপাবলির মতো বিশেষ বিশেষ ছুটির দিনে চালানো হয় এই ট্রেন।

সংখ্যার সারি ১ দিয়ে শুরু হলে…

কোন ট্রেনের নম্বর এক দিয়ে শুরু হলে বুঝে নেবেন, ওই ট্রেনটি দূরপাল্লার।

সংখ্যার সারি ২ দিয়ে শুরু হলে…

ট্রেনের নম্বর ২ দিয়ে শুরু হলে বুঝবেন, ট্রেনটি দূরপাল্লার তো বটেই, এটি চালানো হচ্ছে, কারণ ১ নম্বর সংখ্যার ট্রেনটি অত্যাধিক চলার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে সাময়িক বিরাম দেওয়ার জন্য।

সংখ্যার সারি ৩ দিয়ে শুরু হলে…

এই ধরনের সংখ্যাওয়ালা ট্রেন কলকাতা থেকে ছাড়ে এবং শহরতলীর মধ্যেই চলে।

সংখ্যার সারি ৪ দিয়ে শুরু হলে…

এই সব ট্রেন দিল্লি, চেন্নাই এবং অন্যান্য মেট্রো সিটির মধ্যে চালানো হয়। ওইসব শহর থেকে ট্রেনটি শহরতলী অঞ্চলে যাবে না।

সংখ্যার সারি ৫ দিয়ে শুরু হলে…

সাধারণ প্যাসেঞ্জার ট্রেন এটি। এছাড়া, আর কোনও বিশেষত্ব নেই।

সংখ্যার সারি ৬ দিয়ে শুরু হলে…

এমইএমইউ – ৬ সংখ্যার ট্রেন মানে মেইনলাইনে চলা ইলেক্ট্রকি ট্রেন।

সংখ্যার সারি ৭ দিয়ে শুরু হলে…

ডিইএমইউ – বুঝতে হবে ট্রেনটি ডিজেল এবং ইলেক্ট্রিক, দু’ধরনের ইঞ্জিনেই চালানো হয়।

সংখ্যার সারি ৮ দিয়ে শুরু হলে…

এর মানে ট্রেনটির রিজার্ভ জায়গা আছে কোনও কারণবশত।

সংখ্যার সারি ৯ দিয়ে শুরু হলে…

মুম্বইয়ের শহরতলী অঞ্চলের মধ্যে চলে এই ট্রেন।

এছাড়া ট্রেনের নম্বরের আরও বিশেষত্ব আছে সারা ভারতে। কোথাও ট্রেনের সারিবদ্ধ নম্বরের প্রথম দু’টি সংখ্যা ওই ট্রেনটি কোন সালে তৈরি হয়েছে, তা জানাতে লেখা থাকে। যেমন কোনও ট্রেনের সংখ্যা ০৩০৮৯ থাকে, তার মানে ট্রেনটি ২০০৩ সালে নির্মিত। আবার ৮৯৮৩ মানে, ১৯৮৯ সালে তৈরি।

 

এসি/ নন-এসি ট্রেন চিহ্নিত করার সংখ্যা –

০০১-০২৫ : এসি ফার্স্ট ক্লাস

০২৫-০৫০ : এসি ফার্স্ট ক্লাস এবং এসি ২ টিয়ার

০৫০-১০০ : এসি ২ টিয়ার

১০১-১৫০ : এসি ৩ ট্রিয়ার

১৫১-২০০ : এসি চেয়ার কার

২০১-৪০০ : স্লিপার সেকন্ড ক্লাস

৪০১-৬০০ : জেনারেল সেকন্ড ক্লাস

৬০১-৭০০ : ২এল জন শতাব্দী চেয়ার কার

৭০০-৮০০ : সিটিং কাম লাগেজ রেক

আবার ট্রেনেতে দেখবেন লেখা থাকে, ডব্লুসিআর, ইএফ, এনএফ’এর মতো ইংরেজি ক্যাপিটাল হরফ। এরকম থাকলে বুঝবেন

ডব্লুসিআর : মধ্য রেলওয়েজ তৈরি করেছে।

ইএফ : এর নির্মাতা পূব রেলওয়েজ

এনএফ : এটির নির্মাতা উত্তর রেলওয়েজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: