দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত দশটি রাজ্য, দেখবেন নাকি চোখ বুলিয়ে একবার???

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে ভারতকে জায়গা করে নিতে হলে সবার আগে যেটা প্রয়োজন, সেটা হলো শিক্ষা। দেশের জনগণ শিক্ষিত হলেই সবক্ষেত্রে অগ্রগতি আসবে। অশিক্ষাই উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তাই দেশের প্রত্যেকটি বাবা-মা’য়ের উচিত ছেলেমেয়েকে পর্যাপ্ত শিক্ষা দেওয়া। আগামী প্রজন্মকে স্বাক্ষর করে তুলতে পারলেই, দেশ আগে এগোবে। বিশ্বের মঞ্চে জায়গা করে নেবে।

ভারত যখন স্বাধীনতা পায়, তখন দেখের স্বাক্ষরতার হার ছিল ১২ শতাংশ। স্বাধীনতার সত্তর বছর পর সেই হার ৭৪ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশের ছাব্বিশ শতাংশ জনগণ এখনও অশিক্ষিত। শিক্ষার এই অভাবাটাকে মুছে ফেলতে পারলেই, ভারত আরও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বর্তমানে সার্বভৌম রাষ্ট্র ভারতে ঊনত্রিশটি রাজ্য (অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচলপ্রদেশ, অসম, বিহার, ছত্তিসগড়, গোয়া, গুজরাট, হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ওড়িশা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, সিকিম, তামিলনাডু়, তেলেঙ্গানা, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ) এবং সাতটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল (আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন ও দিউ, লাক্ষাদ্বীপ, জাতীয় রাজধানী দিল্লির অঞ্চলসমূহ এবং পুদুচেরি) রয়েছে। এদের মধ্যে স্বাক্ষরতার নিরিখে সেরা দশে কোন কোন অঞ্চল রয়েছে দেখে নিন।

১০. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলে স্বাক্ষরতার হার বর্তমানে ৮৬ শতাংশ। ২০০১ সালে এই রাজ্য স্বাক্ষরতার তালিকায় সপ্তম স্থানে ছিল। বর্তমানে স্বাক্ষরতার তালিকায় ভারতের এই অঞ্চল দশে নেমে এলেও, গত ষোলো বছরে নারী ও পুরুষের স্বাক্ষরতার হার তখনকার তুলনায় চার শতাংশ বাড়িয়েছে।

৯. দিল্লি

দেশের রাজধানী। একসময় স্বাক্ষরতার তালিকায় ছয়ে ছিল। বর্তমানে ন’য়ে নেমে এসেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দিল্লির জনসংখ্যায় স্বাক্ষরতার হার আস্তে আস্তে কমছে। ২০০১ সালে ৮৬ শতাংশ মানুষ স্বাক্ষর ছিল। তার আগে এই সংখ্যা ৯০ শতাংশ ছিল।

৮. চণ্ডীগড়

২০০১ সালে সমীক্ষায় এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি স্বাক্ষরতার নিরিখে পঞ্চম স্থানে ছিল। কিন্তু, ক্রমে ক্রমে আটে নেমে এসেছে সেরা দশের তালিকায়। ২০০১ সালের সমীক্ষায় অঞ্চলটিতে স্বাক্ষরতার হার ছিল ৮৬ শতাংশ। তার আগে হওয়া সমীক্ষায় এই হাত ৪ শতাংশ বেশি ছিল।

৭. পুদুচেরি (পন্ডিচেরি)

এটিও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল। স্বাক্ষরতার হার অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বেড়েছে এখানে। একসময় আট নম্বরে থাকে এই অঞ্চলটি বর্তমানে সাতে উঠে এসেছে। ২০০১ সালে হওয়া সুমারিতে স্বাক্ষরতার হার ছিল ৮৬.৫৫ শতাংশ। তার আগে হওয়া সুমারিতে এই হায় ৫.৩১ শতাংশ কম ছিল।

৬. দমন ও দিউ

একসময় সেরা দশের তালিকায় ন’য় নম্বরে থাকা এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল স্বাক্ষরতার হারে বর্তমানে ছয় নম্বরে উঠে এসেছে। ২০০১ সালে হওয়া সুমারিতে স্বাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৯ থেকে ৮৭ শতাংশে পৌঁছে ছিল। দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের তুলনায় এখানে স্বাক্ষরতার হার সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে চলেছে।

৫. গোয়া

২০০১ সালের সুমারিতে চার নম্বরে থাকা গোয়া একধাপে নিচে নেমেছে। তবে, স্বাক্ষরতার হার আবার বাড়তে শুরু করেছে। ২০০১ সালের সুমারি অনুযায়ী রাজ্যে স্বাক্ষরতার হার ৮৭ শতাংশ। গত সুমারির তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি।

৪. ত্রিপুরা

তালিকায় তেরো থেকে চার নম্বরে উঠে এসে সবাইকে চমকে দিয়েছে ত্রিপুরা। বর্তমানে রাজ্যের স্বাক্ষরতার হার ৮৭.৭৫ শতাংশ। ২০০১ সালে যে সুমারি হয়েছিল, সেই সময় শতকরা হার বর্তমানের তুলনায় ১৪.৫৬ শতাংশ কম ছিল। এভাবে ত্রিপুরা যদি উন্নতি করতে থাকে, তাহলে খুব তাড়িতাড়ি এক নম্বর স্থানটিও দখল করে নিতে পারে।

৩. মিজোরাম

বরাবরই সেরা দশে থাকা মিজোরাম দ্বিতীয় স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে বর্তমানে। বর্তমানে রাজ্যে স্বাক্ষরতার হার ৯১.৫৮ শতাংশ। ২০০১ সালেসুমারির তুলনায় ২ শতাংশ বেশি।

২. লাক্ষাদ্বীপ

তৃতীয় স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার ৯২.২৮ শতাংশ। ২০১১ সালে হওয়া সর্বশেষ সুমারির আগে ২০০১ সালে হওয়া সুমারিতে এই হার ৫.৬২ শতাংশ কম ছিল।

১. কেরালা

দেশের মধ্যে সবচেয়ে শিক্ষিত অঞ্চল হল কেরালা। ২০১১ সালে হওয়া সুমারিতে স্বাক্ষরতার হার ৯৩.৯১ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০০১ সালের তুলনায় তিন শতাংশ বেশি। শিক্ষাগত ক্ষেত্রে কেরালা অভাবনীয়ভাবে উন্নতি করেছে স্বাধীনতার পর থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: