নিজের জন্মদিনে ইনি যা করলেন জানলে গর্বে আপনার বুক ভরে যাবে

এক বছর মাংস না খেয়ে থাকলে, ফলাফল হবে অবিশ্বাস্য!তিনি যা করেছেন তিনি যা করেছেন তা গর্বের দাবি রাখে। তারপরেও তিনি চুপ, শান্ত। ভাব-ভঙ্গীতে, এ আর এমন কী! ২৩ ফেব্রুয়ারি সায়ন্তন সিংয়ের জন্মদিন। মনে হতেই পারে, তাতে কি? এমন জন্মদিন তো কতজনেরই হয়। না, সায়ন্তনের জন্মদিন একটু আলাদা। জন্মদিনে তিনি নিজেকে দিয়েছেন উপহার। সে উপহার আনন্দের, গর্বের। চার পথশিশুকে দামী রেস্টুরেন্টে খাইয়েছেন তিনি। তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। তাদের খিদে ভরা পেটে দিয়েছেন একবেলার আহার। নিজেকে দিয়েছেন অনেকখানি তৃপ্তি।
বর্ধমানের ছেলে। কর্মসূত্রে থাকেন কলকাতায়। বর্ধমান মিউনিসিপাল হাই স্কুল থেকে পড়াশনা করেছেন। বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে স্নাতক হন বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে। স্নাতকোত্তর পড়াশোনা বেঙ্গল ইন্সটিটিউট অফ বিজনেস স্টাডিজ-এ। তারপর যোগ দেন একটি ফুড চেইন কোম্পানি ক্রাফট হেইনজ-এ। চলে আসেন কলকাতায়। বর্তমানে ফুড চেইন কোম্পানি ক্রাফট হেইনজ-এই কর্মরত।

বাইকের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা আছে তাঁর। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে অভাবী বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটাতে চাইতেন। এখনও দিনে অন্তত একজনকে খুশি করার চেষ্টা করেন সায়ন্তন। এদিন ছিল সায়ন্তনের জন্মদিন। গত কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলেন, এবার কিছু করতে হবে। দেশের বাড়ি বর্ধমানে দেখেছিলেন কয়েকজন অভাবী বাচ্চাকে। প্রতিদিন মলের সামনে ওই বাচ্চাগুলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিক্ষে করে। দেখে খারাপ লাগত। যে বয়সে হাসি-মজা করার কথা, যে বয়সে স্কুলে পড়ার কথা সেই বয়সে পেটের জন্য ভিক্ষে করতে হচ্ছে ওইটুকু শিশুদের। সায়ন্তন চেয়েছিলেন ওই হাভাতে মুখগুলোকে অন্য স্বপ্ন দেখাতে। তাদের অন্য অনুভূতি দিতে।

Pic collected from sayantan’s facebook profile

একদিন হঠাতই তাঁর মাথায় আসে, এঁদের ঝাঁ চকচকে রেস্টুরেন্টে খাওয়ানো হবে তাঁর প্রথম কাজ। কিন্তু উপলক্ষ কী হবে? ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। সায়ন্তনের ইচ্ছা ছিল। তাই উপায় বের করতে দেরি হয়নি। নিজের জন্মদিনটাকেই উপলক্ষ বানিয়েছেন সায়ন্তন। এদিন সকালবেলাতেই চলে এসেছেন সেই মলের সামনে। ওই শিশুদের নিয়ে তারপর গেছেন একটি দামি ফাস্ট ফুড সেন্টারে। প্রথমে তারা বুঝতে পারেনি। জীবনে এত আদর করে তাদের বাবা-মা নিয়ে যায়নি কোথাও। এ তো বাইরের লোক। তবে অভিজ্ঞতায় বুঝেছে এই লোক খারাপ কিছু করবে না। তাই সায়ন্তনের সঙ্গ নিয়েছিল ওরাও। কিন্তু যখন খাবারের প্লেট মুখের সামনে এল তখন ওরা হাঁ। এসব খাওয়া তো দূরের কথা ওরা চোখে দেখেনি কোনোদিন। সায়ন্তন অনুমতি দেওয়া মাত্র ওদের মুখে হাসি। খেয়েওছে পেট ভরে।

কেমন লাগল? সায়ন্তনের মুখে তৃপ্তির হাসি। বললেন, ‘খাবার কিনে অনেকেই খাওয়ায়। আমি চেয়েছিলাম ওদের ঝাঁ চকচকে মলে বসিয়ে খাওয়ার অনুভূতিটা দিতে। যেমন আমি পাই। তাই ডমিনজ-এ বসিয়ে খাইয়েছি।’ সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছেন। সায়ন্তনের কথায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি দেওয়া সার্থক হবে তখনই যখন আরও কয়েকজন এটা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের জন্মদিনে ওদের মুখে হাসি ফোটাবেন।’

এই ক্ষমতার জন্য যে বিশাল হৃদয়ের প্রয়োজন হয়। সায়ন্তনের আছে সেই সিংহহৃদয়। আমরা প্রার্থণা করি তাঁর শ্রীবৃদ্ধি হোক। আরও আরও অভাবীর মুখে এভাবেই হাসি ফোটাক সায়ন্তন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: