খাবার বাঁচলে জমা দিন এটিএমে, খেতে পাবেন গরীবরা, কলকাতা আছে এমনই এটিএম, জানুন তথ্য

টুবাইটা কিচ্ছুটি খেতে চায় না। ওর বাবা বাজার থেকে এই আ বড় গলদা চিংড়ি এনেছে, খাসির মাংস, মিষ্টি দই। কত কী হয়েছে। কিন্তু কত খাবার ফেলা যাচ্ছে। এদিকে, ওপারে বস্তিতে খিদেতে কাঁদছে গরীবের ছেলেটা। অনেক দিন ভাল কিছু খায়নি। আজ আবার ভাতটাও হয়নি।

এই ভারসাম্যর অভাবে ভোগে গোটা দুনিয়া। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে রেস্তোরাঁগুলোতে যত খাবার বেঁচে যায়, সেটা যদি বিশ্বের সব গরীর মানুষকে দেওয়া যেত তাহলে অনাহারে মৃত্যু তো থাকতই না, গরীবের মুখে হাসি ফুটত। কিন্তু সেসব হয়নি এতদিন।

এবার তেমনটাই করে দেখালো প্রাণের শহর কলকাতা। তিলোশহরে তৈরি হল‘ফুড এটিএম’। যে এটিএমে টাকা খাওয়ার জমা করা যাবে। আবার গরীব মানুষ সেই এটিএম থেকে খাবার তুলে খেতে পারবে। এই এটিএমের প্রাথমিক বিনিয়োগ ৫০ হাজার টাকা, যার মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটর। দেশের বিভিন্ন অংশে এই ধরনের এটিএম রয়েছে। সেখান থেকে প্রেরণা নিয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এই এটিএম দরিদ্রদের জন্য বরদানের মত।

ফুড এটিএমটি টিএম আহমেদ পার্কের পার্ক সার্কাস রেস্তোরাঁর বাইরে বসানো হয়েছে, যার ফলে খাবার নষ্ট হবে না। এটি একটি স্বচ্ছ দরজার ফ্রিজ যা খাদ্য সঞ্চয় করতে ব্যবহৃত হয়। দুঃস্থ আর পথশিশুদের জন্য উদ্যোগ৷ বাড়ি হোক বা রেস্তোরাঁ, উদ্বৃত্ত খাবার এই ফুড এটিএম-এর মাধ্যমেই কাজে লাগানো হবে৷

আহমেদের মতে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের এটিএম বসানো উচিত। এটিএমের ওপর একটি প্লে কার্ড রয়েছে যার ওপর লেখা হয়েছে ‘এক বছরে আমাদের দেশে যত পরিমাণে খাদ্য নষ্ট হয়, সেই পরিমাণ খাবার মিশরীয় জনগোষ্ঠীকে এক বছর পর্যন্ত খাওয়ানো যাবে।’

এর আগে নেপাল ভট্টাচার্য ষ্ট্রীট ও শহরের আরও ৯টি ক্লাব এই উদ্যোগে সামিল হয়েছিল। যার মূল উদ্যোক্তা একটি স্বেচ্ছা সেবী সংস্থা। তারাই এই ক্লাবগুলিকে সঙ্গে নিয়ে খাবার সংগ্রহের কাজটি করছে। নেপাল ভট্টাচার্য ষ্ট্রীটের সদস্য জানিয়েছেন, “আমরা সবাইকে আবেদন জানিয়েছি অষ্টমীর ভোগ বেঁচে গেলে আমাদের দিয়ে দিতে। আমরা খাবার দুঃস্থ শিশুদের কাছে পৌঁছে দেব।” তবে খাবার ভালো রাখার জন্য তাঁদের একমাত্র আর্জি খাবার ফয়েলে করে মুড়ে পাঠাতে। শুকনো হোক কিংবা ঝোল জাতীয় হোক খাবারটা ভালো ভাবে পৌঁছে দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য ক্লাবের।

এটা শীতকাল নয়। তাই ফয়েলে করে পাঠালেও খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। সেই প্রসঙ্গে নেপাল ভট্টাচার্য ষ্ট্রীটের সদস্য অভিজিতবাবু জানিয়েছেন, “এটা ঠিক যে ফয়েলের মধ্যে পুড়লেও খাবার নষ্ট হয়ে যেতেই পারে।” তাই তাঁরা চাইছেন বেঁচে যাওয়া খাবার একটু তারাতারি পৌঁছে দিতে। অষ্টমীর দিনেই এই ঘটনার সম্মুখীনও হতে হয়েছে তাঁদের। প্রায় ৫০ জনকে খাবার পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ফয়েলের মধ্যে থেকেও গরমে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল খাবার।

সাধারণত আমরা যখন হোটেলে খাবার খেতে যাই তখন আমরা প্রযোজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাবার অর্ডার করি। এর ফলে অর্ধেক খাবার ফেলে দিতে হয়। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে সাংফা চাকমা গ্রুপের সহ-মালিক আসিফ আহমেদ ‘ফুড এটিএম’ -এর তিনটি প্রতিষ্ঠান রোটারি, গোল টেবিল এবং জিটো এর সহায়তায় এই উদ্যোগ শুরু করেছেন।

কলকাতা এমন একটি মহানগর যেখানে এখনও বহু মানুষ রাস্তার ধারে ঘুমিয়ে থাকে এবং খাবারের জন্য মন্দিরে বা দোকানে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মন্দিরের দানের টাকা দিয়ে দরিদ্রদের জন্য খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এই সমস্ত জায়গায় অধিক সংখ্যয় দরিদ্রদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এইরকমই প্রতিষ্ঠানের এক মালিক কযেকটি সংস্হার সাথে যোগ দিয়ে ‘ফুড এটিএম’ শুরু করার একটি অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: