ভারতের রাষ্ট্রপতির মেয়ে-কে নিয়ে এই গল্পটা শুনলে চমকে যাবেন

বাবা প্রভাবশালী মানুষ। তাই তাঁর যোগ্যতার থেকেও পদবীটা ভারী হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সে চেয়েছিল বাবার প্রভাবে নয়, পদবীতে নয় নিজের যোগ্যতায় সে চাকরীতে নিজের যোগ্যতা করবে।

ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়ে স্বাতী রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ায় কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেছিলেন স্বাতী। হ্যাঁ, শুধু স্বাতী। স্বাতী একমাত্র অফিসিয়াল ডকুমেন্ট ছাড়া কোথাও বলেনি, সে আসলে স্বাতী কোবিন্দ দেশের রাষ্ট্রপতির মেয়ে। তবে তার প্রেসিডেন্ট বাবা-র এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে থাকতে হয়েছিল। সেখানেই সবাই জানাতে পেরে যান স্বাতী আসলে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়ে।

তবে যেহেতু স্বাতী দেশের রাষ্ট্রপতির মেয়ে। তাই তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থে সব সময় সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী রাখতে হয়। এদিকে, কেবিন ক্রু-মানে তো স্বাতীকে বিমানে উঠতেই হবে। আরে সেখানে বন্দুকধারী পুলিস দেখলে যাত্রীরা ভয় পেয়ে যেতে পারেন, তাই তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তাকে কেবিন ক্রুর চাকরি ছাড়তে হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং-৭৭৭ এবং বোয়িং-৭৮৭ বিমানে কেবিন ক্রু হিসেবে এত দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে উড়েছেন স্বাতী। রাষ্ট্রপতি-কন্যার পরিচয় তিনি গোপন রাখতে চাইলেও, ওই পরিচয়ই আকাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়ে বেড়ানোর চাকরি থেকে স্বস্তি দিয়েছে স্বাতীকে!

বাবা রাষ্ট্রপতি হওয়ার মাসখানেক আগে প্রিভিলেজ লিভ-এর দরখাস্ত করেছিলেন স্বাতী। কিন্তু একবারের জন্যেও কারণটা মুখফুটে বলেননি। উদ্দেশ্য ছিল ছুটি নিয়ে বাবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারে সাহায্য করা। আসলে প্রচারের আড়াল তো চানই, তার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি কন্যা চান না কোনও অযাচিত সুবিধা। কিন্তু এবার বোধহয় আর প্রচারের আলো আর বাধা মানবে না। ফ্ল্যাশের ঝলকানির মুখোমুখি হতে হবে বারবার।

পরে, স্বাতীকে এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রুর পরিবর্তে গ্রাউন্ড ডিউটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস হয়ে গেল স্বাতীকে কেবিন ক্রুর কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রাউন্ড ডিউটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিজের কাজে অবশ্য তুখোড় স্বাতী। কেবিন ক্রু থাকাকালীন নিয়মিত বোয়িং ৭৮৭ ও বোয়িং ৭৭৭ ফ্লাইটের উড়ান দক্ষ হাতে সামলেছেন। কিন্তু বর্তমানে তাকে এয়ার ইন্ডিয়ার ইন্টিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে কাজ করতে হচ্ছে।

শ্রী কোবিন্দ এর পারিবারিক পটভূমি … তিনি কানপুরে একটি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার স্ত্রী সবিতা একজন গৃহিণী এবং এই দম্পতির দুই সন্তান : প্রশান্ত ও স্বাতী । … একটি ঘটনা যা বোঝায় কতটা বিনয়ী স্বাতী। স্বাতী তার বাবার সম্বোর্ধনা অনুষ্ঠানের সময় ছুটি নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তার সহকর্মীদের ভুলে যাননি তার বাবা তখন ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। সেই মুহূর্ত যখন এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীরা জানতে পেরেছিল যে স্বাতী শ্রী কোবিন্দের কন্যা । যখন এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীরা জানতে পেরেছিল যে স্বাতী রাষ্ট্রপতির কন্যা, তখন নিরাপত্তার বিষয়গুলির কারণে তাকে স্থলের কর্তব্যের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। ২০০৭-এ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স ও এয়ার ইন্ডিয়া মিশে যাওয়ার পর থেকেই এই বিভাগটি শুরু হয়। মূলত বিদেশি ও দক্ষ মানবসম্পদ একত্রীকরণের দায়িত্ব রয়েছে এই বিভাগের উপর।

যে কারণে স্বাতীকে ছাড়তে হল কেবিন ক্রুর পদ?


এয়ার ইন্ডিয়ার ওই মুখপাত্র জানাচ্ছেন, রামনাথ কোবিন্দ যতদিন রাষ্ট্রপতি হননি, ততদিন তার মেয়ে কেবিন ক্রু হিসাবে কাজ করায় কোন অসুবিধা ছিল না। কিন্তু এখন স্বাতী ভারতের রাষ্ট্রপতির মেয়ে। প্রোটোকল অনুযায়ী তার সঙ্গে সর্বক্ষণ সশস্ত্র প্রহরীরা মজুত থাকেন। সেক্ষেত্রে স্বাতী কেবিন ক্রু থাকলে তার নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়েই বিমানে উঠতে হবে। সেক্ষেত্রে বেশ কিছু আসন সংরক্ষিত রাখতে হবে। যাত্রীদের অসুবিধা হতে পারে ভেবেই স্বাতীকে এখন গ্রাউন্ড ডিউটিতে নিয়োগ করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে স্বাতীর বক্তব্য জানা যায়নি।

স্বাতীকে নিয়ে গল্প

স্বাতী-র বাবা যে রামনাথ তা তাঁর সহকর্মীরা কেউ জানত না। স্বাতী সবার পাশে দাঁড়ান। একবার তাঁর এক সহকর্মী রাস্তায় গাড়ি চালাতে চালাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে, বাইরে প্রচন্ড ঝড়, বৃষ্টি চলছে। সেই বন্ধুটি বেশ কয়েকজনক ফোন করার পর জানায় সে এতটাই অসুস্থবোধ করছে যে হাসপাতালে যেতে না পেরে গাড়ি রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে দাঁড়ি্য়ে। ঝড় জলের রাতে নিজের গাড়ি নিয়ে সটান ২০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে স্বাতী তাঁর সেই বন্ধুর কাছে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: