একবছর মাংস না খেয়ে থাকতে পারবেন? দারুণ ফল পাবেন কিন্তু…

সারাদিন পর রাতের বেলা বাড়ি ফিরেছেন, আর ডিনারের সময় পাতে দেখলেন শুধু সব্জির তরকারি। রাতে ঘুমতো যাওয়ার আগে, পাতে মাংস না দেখতে পেলে অনেকেরই মেজাজটা একটু বিগড়ে যায়। মনে হয়, দিনের শেষের খাওয়াটা একটু জীভে না লেগে থাকলে হয়। মনটা কেমন যেমন উশখুস করে। মাংসের স্বাদটা না পেলে খাওয়াটা যেন ঠিকমতো জমে না। আবার রবিবারের ছুটির দিনটা ধরুন। বাঙালির আবার দুপুর বেলা মাংসের ঝোল ভাত চাই। ওটা পেলেই ছুটির দিনটা স্বার্থক। আর কিছু চাই না। সারা সপ্তাহ ওই দিনটার জন্য অপেক্ষা করে থাকা। খেয়েদেয়ে দুপরের ভাতঘুম দিয়েই তবেই তৃপ্তি।

আচ্ছা জানেন কি, দুপুরের ওই ভাতঘুম কতটা ক্ষতিকারক? যতকিছু বিপত্তি ওখান থেকেই শুরু। দেখবেন, শরীরটা কেমন যেন ম্যাজম্যাজ করে। বাঙালিদের মধ্যে দুপুরের ওই ঘুমের কারণেই অম্বল ও বদহজমটা চিরকালের সঙ্গী। জানেন কি, মাংস খাওয়া ছেড়ে নিরামীষ ভোজি হতে পারলে, আপনি হাতেনাতে অনেক ফল পাবেন?

একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই খাদ্য তালিকায় আমিষ পছন্দ করেন। মাছের চাইতেও মাংস বেশি পছন্দ। আবার অনেকে ডিম ভালোবাসেন খেতে। তুলনায় নিরামীষ ভোজির সংখ্যা অনেক কম। আচ্ছা, একবছর মাংস না খেয়ে থাকতে পারবেন? ব্যাপারটা অনেকের কাছে খুব কঠিন হলেও, বিশেষ উপকারী কিন্তু।

৫. মুরগী ও হাঁসের মাংসের চেয়ে রেডমিট বেশি পছন্দ আমিষ ভোজীদের। রেডমিট বলতে পাঁঠার মাংস, ভেঁড়ার মাংস, শুয়োরের মাংস ইত্যাদি। বিদেশিদের মধ্যে আবার শুয়োরের মাংস খাওয়ার চলটা বেশি। টার্কি, কোয়েল ইত্যাদি পাখির মাংস খাওয়ার চলও রয়েছে, কিন্তু, রেডমিটই বেশি ভালোবাসেন, যাঁরা প্রকৃত মাংসপ্রেমী। কিন্তু, রেডমিট নানারকম শারীরিক অসুখের মুল কারণ। যেমন – উচ্চরক্তচাপ, কোলেস্টেরল, আর হৃদয়যন্ত্রের নানা সমস্যা। তুলনায় শাকসব্জিকে খাদ্য তালিকায় বেছে নিলে এসব রোগ থেকে অনেক দূরে থাকবেন আপনি।

৪. রেডমিট ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই এই অসুখে ভুগছেন। বিদেশে প্রসেসড মিট বা প্যাকেটজাত সংরক্ষিত করে রাখা মাংস খাওয়ার চলটা এখন এদেশেও এসে পৌঁছেছে। প্রিজার্ভড করা মাংস খেলে শরীরে ডায়াবেটিসের রোগের বাসা বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৩. ক্যান্সার এখন সবচেয়ে বেশি ভোগায় মানুষকে। খাদ্য তালিকায় যাঁরা মাংস রোজ পছন্দ করেন, তাদের মধ্য এটা দিনদিন বেড়ে চলেছে। এই প্রসেসড মিট, বেকন, সসেজ ইত্যাদি এখন ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে ডিনারের তালিকায় চলে এসেছে। আর তাতে ক্যান্সারের সম্ভাবনাও বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ‘হু’, খুব চিন্তিত এই বিষয়টি নিয়ে।

২. গাট ব্যাকটেরিয়া নামে একধরণের পরজীবী রেডমিটের মাধ্যমেই মানুষের শরীরে মূলত প্রবেশ করে। নিরামিষ ভোজীদের শরীরে এই ব্যকটেরিয়া পাওয়া গেলেও, তুলনায় তা অনেক কম। কিন্তু, রেডমিট রোজ রোজ খেতে খেতে শরীরে এই ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে, তখন রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমতে শুরু করে এবং শরীরে নানা অসুখ বাসা বাঁধতে থাকে।

১.  সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে ব্যাপারটি, সেটা হলো ওবেসিটি বা স্থুলকায়তা রোগ। শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা থেকে সব অসুখের সূচনা। মাংস শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় ফ্যাট জমা করে। ব্যায়াম বা শরীর চর্চা না থাকলে, তা আরও মারাত্মক ক্ষতি করে মানব শরীরে। তুলনায় শাকসব্জী অনেক নিরাপদ। শরীরে মেদ জমতে দেয় না। কোনও ব্যায়াম ছাড়াই, শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারের মাধ্যমে বছরে পাঁচ থেকে দশ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলতে পারবেন আমিষ ভোজীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: