রাশিয়া বিশ্বকাপে কোন চারটে দল নক আউটে উঠে গিয়েছে, কারা ব্যাগ গুছিয়ে দেশে ফিরছে

হইহই করে চলছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। দেখতে দেখতে সপ্তাহ ঘুরল বিশ্বকাপের। এখনও পর্যন্ত পাঁচটি দেশ বিদায় নিয়েছে, চারটি দল প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করেছে। আরও ১২টা দেশ নক আউট রাউন্ডের আগেই বিদায় নেবে।

দেখুন কোন কোন দেশ প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল বা নক আউট রাউন্ডে উঠে গিয়েছে –

৪) রাশিয়া

আয়োজক দেশ হিসেবে নেমে প্রথম রাউন্ডে নেমেই বিজায় নেওয়ার আশঙ্কা ছিল রাশিয়ার। ২০১০ বিশ্বকাপে দ.আফ্রিকা যে লজ্জার মুখ দেখেছিল। ফিফা ক্রমতালিকায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে সবার শেষে থাকা রাশিয়া চমকে দিল। পরপর দুটি ম্যাচে ৮ গোল দিয়ে সবার আগে নক আউটে উঠল রাশিয়া। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম কোনো বিশ্বমঞ্চে এমন কীর্তি দেখালো রাশিয়া। যদিও তখন ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর রাশিয়া হিসেবে ১৯৮২ সালের আসরের পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিতল রাশিয়া। এই জয়ে ১৯৮৬ সালের আসরের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব পার হল দলটি।

৩) উরুগুয়ে

রাশিয়ার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব নিশ্চিত করে উরুগুয়ে। সৌদি আরব ১-০ গোলে হারর সঙ্গে সঙ্গে মিশরের শীর্ষ ষোলর আশাও শেষ হয়ে যায়। গ্রুপ পর্বে মিশর আর সৌদির ম্যাচটি তাই কেবলই আনুষ্ঠানিকতা হয়ে রইল। ‘এ’ গ্রুপে দুই টানা দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট করে অর্জন করেছে স্বাগতিক রাশিয়া এবং উরুগুয়ে তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এখনও শীর্ষে আছে রাশিয়া। উরুগুয়ের হয়ে শততম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখালেন লুইস সুয়ারেজ। ২৩ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে তার পা থেকেই। কর্নার কিক রুখতে সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইসি পোস্ট থেকে বেরি আসেন। তবে বলটি তার হাতে নাগালের উপর দিয়ে চলে আসে পেছনে অবস্থান নিয়ে থাকা সুয়ারেজের পায়ে। সহজ সুযোগটা নষ্টা করেননি সুয়ারেজ। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই চমক দেখিয়ে আসছে তুলনামূলক ছোট নামগুলো। একতরফা খেলা বলতে গেল দেখাই যাচ্ছে না। বড় দলগুলোকে পড়তে হচ্ছে চ্যালেঞ্জের মুখে। উরুগুয়ে ম্যাচ জিতলেও একতরফা খেলতে দেয়নি সৌদি আরব। নিজেদের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকান জায়ান্টদের ছেড়ে কথা বলেনি। বলের দখল এবং অন টার্গেট শটে দুই দলই প্রায় সমানে সমান। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের খেলায় দুই দলই নষ্ট করেছে বেশ কিছু সুযোগ। আর ম্যাচ শেষে পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছে সুয়ারেজের ওই গোলটাই

২) ফ্রান্স


পরপর দুটি ম্যাচে জিতে নক আউটে উঠে গেল ফ্রান্স। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারার পর থেকে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের কাছে হারেনি ফ্রান্স। সেই ধারা ব্জায় রেখে একাতেরিনবুর্গে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছে পেরুর বিপক্ষে ফ্রান্স। সেই সঙ্গে টানা দ্বিতীয় জয়ে পা দিয়েছে শেষ ষোলতে। আর টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পেরু। শুরুতে পেরু ভালোই এগোচ্ছিল। কিন্তু ফিনিশিং সমস্যাইয় গোলের দেখা পায়নি তারা। ফ্রান্সও বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে। খেলার ৩৪ মিনিটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। জিরুদের শট পেরুর একজনের গায়ে লেগে দিক পাল্টালে ছুটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান এমবাপে। এই গোলের রেকর্ড গড়া হয়ে যায় এমবাপের। ডেভিড ত্রেজেগেকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোলের মালিক এখন তিনি। ২০ বছর ২৪৬ দিন বয়সে সৌদি আরবের বিপক্ষে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে গোল করে রেকর্ড করেছিলেন ত্রেজেগে। পেরুর বিপক্ষে এই ম্যাচে এমবাপে ১৯ বছর ১৮৩ দিন বয়সে গোল করে বনেন নতুন রেকর্ডের মালিক। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল প্রায় পেয়ে যাচ্ছিল পেরু। ৫০তম মিনিটে পেদ্রো আকিনোর বাঁকানো শট পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। আগের ম্যাচে ডেনমার্কের কাছে ১-০ গোলে হারা পেরুর টিকে থাকতে অন্তত একটি পয়েন্ট দরকার ছিল। কিন্তু শত চেষ্টা করেও হার এড়াতে পারেনি দলটি। ফ্রান্স পেরুর বিপক্ষে বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও সুযোগ তৈরি করে বেশি। কিন্তু সেই এক গোল ছাড়া আর আলোর মুখ দেখেনি তারা। আগামী মঙ্গলবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে পেরু।

১) ক্রোয়েশিয়া

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়লো নিজনি নভগোরোদে স্টেডিয়াম। ৩২ বছর পর শিরোপার জয়ের প্রত্যাশায় পা রাখা আর্জেন্টিনার বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে নক আউট পর্বে যে পা রেখেছে ক্রোয়েশিয়া। আর ২০০২ সালের পর আবারও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কা ভর করেছে আর্জেন্টাইন শিবিরে। বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ দু’দলের দেখা হয়েছিল ২০১৪ সালে। সেবার জিতেছিল আর্জেন্টিনাই। কিন্তু সেই ফলাফলের ভয়াবহতা যে এতটা নিষ্ঠুর হবে কে জানতো। এর আগে ক্রোয়েটরা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে অর্থাৎ ১৯৯৮ এ আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়ে সে ম্যাচে ১-০ গোলে পরাজিত হয়। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের পর গ্রুপপর্বে এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় হার। দলটির শেষ ষোলর স্বপ্ন এখন সুঁতোর উপর ঝুলছে। আর্জেন্টিনাকে তাকিয়ে থাকতে হবে আগামীকালের আইসল্যান্ড ও নাইজেরিয়া ম্যাচের ওপর। সেই সঙ্গে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয় পেতেই হবে। যদি আগামীকাল আইসল্যান্ড নাইজেরিয়াকে পরাজিত করে এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ড্র করে তাহলে ক্রোয়েটদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করবে তারা। তখন আর্জেন্টিনা শেষ ম্যাচে জিতলেও কোনও কাজে আসবে না।

কারা বিদায় নিয়েছে-

৫) সৌদি আরব


পরপর দুটো ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে ০-৫ গোলে হারের ধাক্কা হজম করেছে। তবে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে দারুণ লড়াই করেই ০-১ গোলে হেরেছে।

৪) ইজিপ্ট


মহম্মদ সালহা পারলেন না। পরপর দু ম্যাচে হেরে বিদায় নিল ইজিপ্ট।

৩) মরক্কো


আফ্রিকার এই দেশটি দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠে ব্যর্থ হল। তবে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ০-১ গোলে হারলেও মরোক্কানদের লড়াইটা স্মরণীয় হয়ে থাকল।

২) পেরু


৩২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নেমে সুপার ফ্লপ পেরু।

১) কোস্টারিকা


ব্রাজিলের কাছে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বিদায় নেয় উত্তর আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: