বিরিয়ানি- চাউ- ফুচকার মত, বিদেশের এই স্ট্রিট ফুডগুলোর স্টল দিলে খুব চলবে কলকাতায়, খুলুন এসব দোকান

কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় এখন চাউ-মোমো-বিরিয়ানির দোকান। আর ফুচকা, ভেলপুরি তো রয়েইছে। আমরা এই প্রতিবেদনে কলকাতায় স্ট্রিট ফুড বিক্রি করা মানুষদের জন্য নতুন কিছু খাবার দোকানের হদিশ দিচ্ছি। যুগ আগে বাড়ছে, মানুষ নতুনের খোঁজ চাইছে। তাই এই খাবার দোকানগুলোর স্টল দিতেই পারেন

১০) জার্ক চিকেন, জামাইকা (স্কচ ও চিকেনের ককটেল!)

কিংবদন্তী ক্রীড়াবিদ উসেইন বোল্টের প্রিয় খাবার। ক্রিস গেইলও কলকাতায় খেলতে এসে এই খাবরটার খোঁজ করেছিলেন। জামাইকার এই চিকেনের পদটি কলকাতার। এই চিকেন তৈরি করা হয় স্কচ বনেট চিলি, আদা, পেঁয়াজ, ম্যারিনেড ইত্যাদি সহকারে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে জার্ক চিকেন। কোন কোন সময় রাঁধুনিরা সারারাত এর স্বাদ ভালোমত মিশে যাবার জন্য পিমেন্টো কাঠে গ্রিল করে থাকেন। জামাইকার রাস্তার পাশে বেশ কম খরচে সহজেই সুস্বাদু এই স্ট্রিট ফুডের খোঁজ পাওয়া যাবে।

৯) চিলি ক্র্যাব, সিঙ্গাপুর (কাঁকড়ার স্পেশাল ডিশ)

১৯৫০ এর দশকে চের ইয়াম তিয়ান নামক এক ভদ্রলোক ছোট গাড়িতে করে মজাদার এই পদটি বিক্রি করতেন। সিঙ্গাপুরের রাস্তায় ছোট ছোট দোকানে খুঁজে পাওয়া যাবে সুস্বাদু এই ডিশের। এটি তৈরি করা হয় যব, টমেটোর তৈরি এক ধরণের সস, ডিম এবং অবশ্যই, চিলির সাহায্যে। কাঁকড়ার মজাদার এই ডিশটি সিঙ্গাপুরের এমন সবচেয়ে প্রিয় স্ট্রিট ফুড।

৮) আরেপাস, কলম্বিয়া (কর্ন আইটেম, ভুট্টার তৈরি এক ধরণের গোলাকার কেক)

অ্যারেপাস হচ্ছে ভুট্টার তৈরি এক ধরণের গোলাকার কেক। এই কেকের স্বাদ ও গন্ধে ভোজনরসিক খুঁজে পায় কলম্বিয়ার গ্রামের এক চিরচেনা আস্বাদন। এই কেকের টপিং করা হয় পনিরের সাহায্যে। মোড়কে পেঁচিয়ে দেবার আগে এটাকে গ্রিলড করা হয়ে থাকে। কলাম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার অধিবাসীরা অ্যারেপাসের সাহায্যে তাদের টিফিন সারেন।

৭) হালো হালো, ফিলিপিন্স


ফিলিপাইনের প্রখর তীব্র রোদে হালো-হালো আপনাকে দিতে পারে একটি শীতল মজাদার স্বাদ। এটি শুনেই বুঝতে পারছেন হালো-হালো হচ্ছে এক ধরণের আইসক্রিম। ঠিক তাই, এটি মূলত এক ধরণের সান্ডি। নানা ধরণের ফল, নারকেল, বিন, রং ও সিরাপের সাথে তৈরি করা হয়ে থাকে হালো-হালো। এর মানে হচ্ছে “মিশ্র-মিশ্র”। আক্ষরিক অর্থেই হালো-হালো হচ্ছে শীতল একটি স্বাদের বিস্ফোরণ। দুধ ও বরফের কুচির সাহায্যে পরিবেশন করা হয় হালো-হালো।

৬) বানি চাউ, দক্ষিণ আফ্রিকা (পাউরুটি ও চিকেন)

খাবারটি তৈরি করা হয়ে থাকে একটি বড়সড় পাউরুটির ওপরে এবং মুরগি থেকে শুরু করে নানা ধরণের মাংস দিয়ে এই খাবারটি তৈরি করা হয়ে থাকে। সাধারণত বানি চাউ নামক খাবারটি কারির সাহায্যে প্রস্তুত করা হয়। খাবারটি মূলত ভারতীয়দের তৈরি তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এটি একটি অন্যতম প্রিয় খাদ্য।

৫) ব্রিক, তিউনেশিয়া (পেস্ট্রি আইটেম, ডিম, টুনা মাছ ও লেটুস পাতা ভরা থাকে)

মূলত পেস্ট্রি আইটেম। এর ভিতর সাধারণত ডিম, টুনা মাছ ও লেটুস পাতা ভরা থাকে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটিতে পনির ও অন্যান্য সুস্বাদু উপকরণও মিশ্রিত করা হয়। প্রচলিত আছে তিউনেশিয়ায় ছেলেমেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে এই ব্রিকের একটা বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিয়ের পূর্বে নিজের হবু জামাতাকে ব্রিক খেতে দেন কনের মা। যদি বরটি এর ভিতরে থাকা ডিমের কুসুম প্লেটে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা খেয়ে নিতে পারে তাহলে মেয়েকে তার হাতে তুলে দেন কনের পিতামাতা। নয়তো বিয়ে ভেঙে যায়। যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত করার মতো যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ কথা নিশ্চিত যে তিউনেশিয়ায় ব্রিক নামক খাবারটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।

৪) চোরিপান, দক্ষিণ আমেরিকা (গরু বা শুকরের মাংসের গ্রিল করা স্যান্ডউইচ)

সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে। এগুলো আসলে সসেজ স্যান্ডউইচ। ব্রাজিল, চিলি, উরুগুয়ে, পেরু, বলিভিয়া এবং ভেনিজুয়েলার জনপ্রিয় খাবার। গরু বা শুকরের মাংসের গ্রিল করা সসেজ আঠালো ব্রেডের মাজে দিয়ে দেওয়া হয়। থাকে আদার মতো চিমিচুরি সস। আর্জেন্টিনার বিভিন্ন ক্রীড়া ভেন্যুতেও দারুণ জনপ্রিয় এটি।

৩) বান মি, ভিয়েতনাম (গ্রিল করা মাংস মিটবল)

এ খাবারটি পাওয়া যায় ভিয়েতনামের, হো চি মিন সিটিতে। খুব সস্তায় পাওয়া যায়। ভিয়েতনামের স্পেশাল পাঁউরুচি। এ খাবারটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফরাসি কলোনির ফলাফল। এ খাবারে পশ্চিম এবং পূর্বের খাবারের মিশেল ঘটেছে। গ্রিল করা মাংস মিটবল এবং অন্যান্য উপকরণে পূর্ণ থাকে ব্রেড। বাড়তি দেওয়া থাকে শসার ফালি, ধনে পাতা, গাঁজরের আঁচার, মূলা কুচি, কলিজা আর মেয়োনিজ। বিভিন্ন দেশে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে খাবারটি।

২) বাবল টি, তাইওয়ান (স্পেশাল চা)


বাবল টি-কে পার্ল টিও বলা হয়। ১৯৮০ সালে তাইওয়ানের অধিবাসীরা এই বাবল টি-এর প্রচলন শুরু করে। ঠান্ডা চায়ে বিভিন্ন ধরনের ফল, কনডেন্সড্ মিল্ক, দুধ আর সঙ্গে চিবিয়ে খাওয়ার মতো এক রকম বল, টাপিওকা (সাগুর মতো) দিয়ে বানানো হয় এই বাবল বা পার্ল টি। গরমের দিনে তাইওয়ানের রাস্তায় চলতে-ফিরতে দেখা যায় এই পানীয়টি!

১) পাউতাইন, কানাডা (ফ্রেঞ্চ ফ্রাই (আলু ভাজা))

দুনিয়ার সেরা এক স্ট্রিট ফুড। পাউতাইন হলো বিশেষ এক ধরনের হালকা খাবার যা ঘরে তৈরি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই (আলু ভাজা) ও দই মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এর উপরিভাগে ছড়ানো থাকে হালকা বাদামী রঙের গ্রাভি (মাংস থেকে তৈরি বিশেষ ধরেনর ঝোল)। স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবার হলেও পাউতাইনের জনপ্রিয়তা কিন্তু কল্পনাতীত। যে কারণে কানাডার বিভিন্ন বড় বড় রেঁস্তোরা ও হোটেলের মেন্যুতেও পাউতাইনের নাম শোভা পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: