টাইটানিকের চেয়ে পাঁচ গুণ বড় জাহাজ আসছে ভারতে! জানুন সেই বিশাল জাহাজের অজানা দশ তথ্য

ভারতে আসতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ ‘হারমনি অব দ্য সিজ’। এই জাহাজটি ঠিক কতটা বড় তার এক নমুনা হল গোটা বিশ্বে সবচেয়ে পরিচিত টাইটানিকের চেয়ে এই জাহাজ পাঁচ গুণ বড়। দেখুন এই জাহাজ সংক্রান্ত দশটা অজানা তথ্য-

১০) আইফেল টাওয়ারের থেকেও বড় ‘হারমনি অব দ্য সিজ’। এর ওজন ১.২ লক্ষ টন। দৈর্ঘ্য ৩৬২ মিটার। সাড়ে ৮ হাজার যাত্রী বহন করতে সক্ষম এই জাহাজ। এটি দৈর্ঘ্যে আইফেল টাওয়ারের থেকে ৬২ মিটার বেশি।

১০) জাহাজের বৈশিষ্টগুলোকে সর্বমোট ৭টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল পার্ক, পুল, ফিটনেস সেন্টার, বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে ২৪টি রেস্তোরা ।আরো রয়েছে ভলিবল কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট। এতে রয়েছে ১০ তলা সমান ডুয়াল ড্রাই স্লাইড, পারফেক্ট স্টর্ম ওয়াটার স্লাইডস।

৯) পৃথিবীর ইতিহাসে এটিই প্রথম ভাসমান উদ্যান। ওয়েসিস অফ দ্য সিজ’-এ রয়েছে একটি আস্ত ভাসমান উদ্যান। যেখানে ১২ হাজার চারা গাছ এবং ৫৬টি বড় গাছ রয়েছে। জাহাজের পেছনের অংশে রয়েছে ৭৫০টি আসন বিশিষ্ট থিয়েটার, রয়েছে চারটি সুইমিং পুল। জাহাজের পেছনের অংশে রয়েছে ৭৫০টি আসনসমৃদ্ধ থিয়েটার যার মধ্যে রয়েছে সুইমিং পুল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, জাহাজের এই জায়গাটি দিনে ব্যবহৃত হয় সুইমিং পুল হিসেবেই অথচ রাতে ব্যবহৃত হয় সাগরের একটি থিয়েটার হিসেবে।

৮) বিলাসবহুল এই জাহাজে উত্তর ক্যারিবিয়ান সাগরে মোট নয় রাত, নয় দিন ঘুরতে কেবিন ভাড়া লাগবে এক হাজার ৪৫৮ মার্কিন ডলার। আর সি ফেসিং স্যুটগুলোর ভাড়া তিন হাজার ২০০ মার্কিন ডলার বা প্রায় দুই লাখ আট হাজার টাকা। বুকিং করতে হবে অন্তত দুই বছর আগে।

৭) ডেনমার্কের দি গ্রেট বেল্ট ব্রিজের উচ্চতা ওয়েসিস অফ দ্য সিজের চেয়ে মাত্র ১ ফুট বেশি। অথচ খুব সহজেই গতি বাড়িয়ে ওয়েসিস অফ দ্য সিজ অতিক্রম করেছে এই সেতু।

৬) ভাসমান এই জাহাজে থাকছে একটি পুরোদস্তুর ইলেকট্রিক কোম্পানি। ইঞ্জিন থেকে আইস কিউব পর্যন্ত সবকিছুর প্রাণই হলো ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ দিয়ে এক লাখ বাড়ির চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর ভেতর অবস্থিত ইলেকট্রিক তার আমেরিকার এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত টানা সম্ভব।

৫) বারে বসলেই আপনাকে সার্ভ করার জন্য হাজির থাকবে দু’টি রোবট। এতে রয়েছে কৃত্রিম উপায়ে সার্ফিং করার ব্যবস্থাও। ইতিহাসের বৃহত্তম এই জাহাজে রয়েছে সর্বমোট ১৬টি ডেক, ২,৭০০টি সুসজ্জিত কক্ষ (স্টেয়ার রুম বা কেবিন) এবং ৬,৩০০জন যাত্রী এবং ২,১০০জন ক্রুর ধারণ ক্ষমতা।

৪) এই জাহাজে ২৪ ঘন্টা ধরে এর লন্ড্রিতে ৩৪ জন ক্রু কাজ করছে যাদেরকে দিনে প্রায় ২০,০০০ টেবিল ক্লথ, ন্যাপকিন, বিছানার চাদর, তোয়ালে ধোয়া, ইস্ত্রি করা এবং ভাজ করতে হয় তবে চাদর, ন্যাপকি্ন , টেবিল ক্লথ ইস্ত্রি করে বিশাল আকারের মেশিন কিন্তু তোয়ালে ও টেবিল ন্যাপকিন নানা ডিজাইন করে ভাজ করার কাজ হাতেই করতে হয়।

৩) সাড়ে তিন বছর ধরে বিশ্বের আলাদা আলাদা সাতটি দেশে তৈরি করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৮২ টনের এই জাহাজ। পরে এগুলো এক জায়গায় এনে ৬মাস ধরে চলে অ্যাসাম্বেলের কাজ। দৈর্ঘ্য ১১৮৭ ফুট, প্রস্থঃ ২০৮ ফুট, ড্রাফট (সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে তলায় কীল পর্যন্ত) ৩০ ফুট।

২) ৭১ টি দেশের প্রায় ২৪০০ জন ক্রু নিয়োজিত রয়েছেন জাহাজটি পরিচালনায়। দিন রাত ২৪ ঘন্টা পালা ক্রমে ক্রুরা নানা কাজ করছে। শুধু জানালার কাচে জমা নোনা জল পরিষ্কার করার জন্য ডজন খানিক ক্রু এবং ১৮টা রোবট কাজ করছে।

১) ৮৭০০ মানুষের খাবার ব্যবস্থার জন্য ২৬টা গ্যালি বা রান্না ঘরে যাত্রীদের সকালে ঘুম ভাঙ্গার আগে থেকেই রান্নার কাজ চলতে থাকে। এই সব মালামাল জাহাজের মাতৃভুমি (Port of Registry) Fort Lauderdale শহরের Port Everglades বন্দর থেকে প্রতি শনিবার প্রায় সকাল ৬টা থেকে জাহাজে্র ডেকে এসে পৌঁছতে থাকে এবং সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সেগুলি চাহিদার তালিকার সাথে মিলিয়ে বাছাই করে ভাঙ্গা প্যাকেট, পচা ইত্যাদি সরিয়ে ফেলে ফর্ক লিফটে করে ভান্ডারে নির্দিষ্ট জায়গা অনুযায়ী স্টোরিং হতে থাকে।

যেমন, চা, কফি, দুধ, মাছ, মাংশ, চাউল, ময়দা, বিস্কুট, সব্জী, সস, কেচাপ, মাখন, পনীর, রুটি, নানা ধরনের মদ এবং পানীয় ইত্যাদি যেটা যেখানে রাখতে হয় সেখানে রাখা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: