সপ্তাহান্তে বেড়িয়ে আসুন, আমাদের বাংলাতেই রয়েছে একাধিক মনজুড়নো পর্যটন স্থল…

আমাদের এই বাংলা, সরকারিভাব নাম বদলে গেলেও পশ্চিমবঙ্গ নামটা আমাদের মনেপ্রাণে গেঁথে রয়েছে – কি নেই বলুন তো এখানে? পাহাড়, জঙ্গল, নদী, সমুদ্র – মরুভূমি ছাড়া সবই আছে এখানে। প্রকৃতি আমাদের বাংলাকে সাজিয়ে তুলতে উড়াড় করে দিয়েছে তার সবটুকু। আবার একটু গ্রাম-বাংলার দিকে ছুটলে নানা প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নির্দশনও চোখে পড়বে। প্রকৃত এতোটাই সদয় যে বছরের ছটি ঋতুই এখানে প্রত্যক্ষ করা যায়।

যাইহোক সামনে দুর্গাপূজো। বাঙালির সেরা উৎসব। মনটা এই সময় তাই উড়ু উড়ু হয়ে আসে। আর এমনিও সপ্তাহান্তে ছোটোখাটো একটা ট্যুর করে আসাই যায় মুডটা রিফ্রেশ করে নিতে। আমাদের এরাজ্যেই বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত জায়গা আছে, যেখানে হঠাৎ করে প্ল্যান বানিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারবেন যে কেউই। না হলে আর বলছি কেন! সেই রকমই বেড়াবার স্থানের হদিশ দিতে এই প্রতিবেদন।

চন্দ্রকেতুগড় : প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন

যাঁরা ইতিহাস ভালোবাসেন, পুরনো দিনের সম্বন্ধে জানার শখ, তাঁদের জন্য একদম উৎকৃষ্ট স্থান। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিদ্যাধরী নদী অঞ্চলে খননকার্য চালিয়ে মৌর্য সাম্রাজ্যের সমসাময়িক আস্ত একটা শহরকে উদ্ধার করেছে আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। এখানকার কিছু কিছু নিদর্শন তো তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। এখানে তার আগের সভ্যতা আবার পাল বংশের সময়কার ঐতিহাসিক নির্দশনও চোখে পড়বে। খনন কার্য চালিয়ে ৬০০-৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ সময়কার একটি মন্দির পাওয়া গিয়েছে। সেটি ৪৫ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। এখানে বুদ্ধের মূর্তি, নানা টেরাকোটার কাজ সহ নানান ঐতিহাসিক জিনিসের সঙ্গে পরিচয় ঘটবে।

কিভাবে যাবেন? – কলকাতা থেকে মোটামুটি ৫০ কিলোমিটার দূরে জায়গাটি অবস্থিত। ধর্মতলা বা উল্টোডাঙা থেকে বারাসাত আসুন। সেখান থেকে বেড়াচাঁপা হয়ে চন্দ্রকেতুগড় চলে আসতে পারবেন।

বকখালি : মন মুগ্ধ করে দেওয়া সমুদ্র সৈকত

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত আমাদের সুন্দরবন, তারই একটি অংশ এটি। এখানে এলে সাদা বালির সঙ্গে সমুদ্র বালুকামিশ্রিত পলিমাটির সমুদ্র সৈকত দেখতে পাবেন। আশে পাশে দেখার বলতে হেনরি আইল্যান্ড, আর মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সুঁদরী, গরান, গেঁওয়া গাছের জঙ্গল। আর সমুদ্রের নির্মল দৃশ্য। আবার ঝাউবনে বনবিবির মন্দিরও দর্শন করে আসতে পারেন। বকখালি সমুদ্র সৈকত থেকে চাইলে পাশের ফ্রেজারগঞ্জে সমুদ্র সৈকতেও চলে যেতে পারেন বেড়াতে বেড়াতে। এখানে একটি কুমির গবেষণা কেন্দ্র আছে।

কিভাবে যাবেন? – ধর্মতলা থেকে বকখালি যাওয়ার বাস ধরতে পারেন সোজা। আর না হলে শিয়ালদাহ থেকে ট্রেন ধরে নামখানা এসে ভ্যান ধরে খেয়াঘাট। তারপর নদী পার হয়ে সোজা বকখালি।

টাকি : গ্রাম বাঙলার অপরূপ দৃশ্য

কলকাতা থেকে আশি কিলোমিটার দূরে দারুণ একটা জায়গা। শহুরে জীবনে ক্লান্ত হয়ে পড়া মানুষকে আবার সতেজ করে তুলবে ইছামতী নদী। শান্ত পরিবেশে বিশ্রামের জন্য বাগানবাড়িও রয়েছে। চাইলে ইছামতী নদীতে বোটে করে বেড়াতে পারবেন।

কিভাবে যাবেন? – বারাসাত পর্যন্ত বাসে করে এসে টাকি চলে আসতে পারেন। চাইলে গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন আসার জন্য।

ডুয়ার্স : পাহাড়ি স্নিগ্ধতা

এটা উত্তরবঙ্গে। বাঙলার পর্যটন ব্যবস্থার অন্যতম সেরা অকর্ষণ। তবে, অনেকটাই দূর। কলকাতা থেকে ৬৩২ কিমি দূরে অবস্থিত ডুয়ার্সে আসতে হলে একটা দিন কেটে যাবে। পাহাড়, চা বাগান, নদী, শীতের আমেজ – এসব কিছু উপভোগ করতে পারবেন এখানে এলে। তবে, সামান্য ক’দিনের জন্য নয়, এখানে এলে দিন দশেক না থাকলে মন ভরবে না।

কিভাবে যাবেন? – বিমান ধরে বাগডোগরা এসে সেখান থেকে যেতে পারেন মাদারিহাট হয়ে অথবা নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ট্রেনে করে এসে সেখান থেকে দার্জিলিং, শিলিগুড়ি যেতে পারেন।

সামসিং : পাহাড়ি উপত্যকা

জায়গাটা দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত। একেবারে গ্রাম। কোনও শহুরে জীবনের ছোঁয়া পড়েনি এখনও পর্যন্ত। শিলিগুড়ি থেকে দূরত্ব ৮২ কিমি। এখানে গহন অরণ্য যেমন আছে, তেমনি নানা রকমের জীবজন্তু থেকে পাখি দেখতে পাবেন। চা বাগানের দৃশ্য দেখতে দেখতে নেওড়া উপত্যকার কাছে জাতীয় উদ্যানেও একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। এখানে কমলা লেবুর বাগিচা দেখতে পাবেন কিছুটা দূর অন্তর অন্তর।

কিভাবে যাবেন? – নিউজলপাইগুড়ি এসে সেখান থেকে শিলিগুড়ি। আর তারপর স্থানীয় যাতায়াতের মাধ্যম ব্যবহার করে সামসিং।

রাজাভাতখাওয়া : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

কয়েকদিনের ব্যস্ত জীবন থেকে আলাদা হওয়ার পারফেক্ট জায়গা। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকে ১৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই পর্যটন স্থলটি। পুরোপুরি বন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন এখান এলে।

কিভাবে যাবেন? – বিমানে করে বাগডোগরা এসে আলিপুরদুয়ার আসতে পারেন। আর না হলে একবারে সোজা আলিপুরদুয়ার এসে, তারপর গন্তব্যস্থলে।

বক্সা ব্র্যাঘ্র প্রকল্প : অরণ্যের মাঝে

শিলিগুড়ি থেকে দেড়শো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই অরণ্যের পরিবেশটি আলিপুরদুয়ার সাব-ডিভিশনের মধ্যে পড়ে। সেখান থেকে একেবারে ভূটান বর্ডার পর্যন্ত বিস্তৃত। সবুজ অরণ্যের মধ্যিখান দিয়ে বয়ে চলেছে জয়ন্তী নদী। এখানে ব্র্যাঘ্র প্রকল্প ছাড়াও বক্সা দূর্গ, মহাকালেশ্বর মন্দির, মহাকাল গুহা, পুকড়ি মাইয়ের পুকুর ইত্যাদির শোভা নিতে পারবেন। এসব বেড়িয়ে এসে ওয়াচ টাওয়ারে উঠে বাঘও দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন। দেখা পাবেন হাতি আর নানা রকম পাখিরও। চোখে পড়বে নানা প্রজাতির অর্কিড ফুল আর ভেষজ উদ্ভিদ।

কিভাবে যাবেন? – শিলিগুড়ি পর্যন্ত এসে গাড়ি বুক করতে হবে।

রসিক বিল : পাখিদের স্বর্গোদ্যান

জায়গাটি বক্সা ব্র্যাঘ্র প্রকল্পের বাফার অঞ্চলে পড়ে। বাফার অঞ্চল মানে হলো গহন অরণ্যের একেবারে মধ্যেখান। এখানে নানা রকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি অনেক জঙ্গলি পাখি দেখতে পাবেন। এখানে একটি হ্রদ রয়েছে। তারই নাম রসিক বিল। আশেপাশে একটি হরিনের উদ্যান আর কুমির সংরক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।

কিভাবে যাবেন? – শিলিগুড়ি পর্যন্ত এসে সেখান থেকে বক্সা জঙ্গল। আর সেখান থেকে একটু ভিতরে গেলেই হ্রদটি নজরে পড়বে।

শঙ্করপুর : শান্ত সমুদ্র

দিঘা আর মন্দারমণিতে মানুষ বেশি ভিড় জমান। তবে শঙ্করপুরের সৌন্দর্য কিন্তু অনেকটাই আলাদা। দীঘা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৪ কিমি। আর মন্দারমণি থেকে দূরত্ব ৪৫ কিমি। সমুদ্র উপভোগ করুন। আর চাইলে মাছের ভেঁড়ি দেখে আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন? – ট্রেনে করে মেদিনীপুর পর্যন্ত এসে, সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন। আর নাহলে ধর্মতলা থেকে কাঁথি যান বাসে করে। তারপর সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহন মাধ্যমে করে শঙ্করপুর।

তাজপুর : সমুদ্র সৈকত আর ঝাউ বনের শোভা

যাঁরা ভিড়ভাট্টা পছন্দ করেন না। এমন সমুদ্র সৈকত পছন্দ করেন, যেখান পর্যটকদের আনাগোনা কম, তাঁদের নিদারুণ আনন্দ দেবে তাজপুর। সমুদ্র সৈকত আসার পর চাইলে নানা রকম ওয়াটার স্পোর্টস আর প্যারাগ্লাইডিং করতে পারেন। মেঘলা সকালে বা পড়ন্ত বেলায় ঝাউবনের শোভা তুলনাহীন।

কিভাবে যাবেন? – কাঁথি এসে সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার সাহায্য নিয়ে পৌঁছে যান তাজপুরের শোভা উপভোগ করতে।

জুনপুত : প্রকৃতির কোলে

একটু অন্যরকম সমুদ্র সৈকতের দৃশ্যশোভা দেখতে চাইলে আসতেই হবে এখানে। দীঘা থেকে ৪০ কিমি ভিতরে মেদিনীপুরের এই স্থানটি অনেক পর্যটকের প্রিয় নিরিবিলি হওয়ার কারণে। সামনে সমুদ্র আর সৈকতের ধার দিয় ঝাউবনের সারি।

কিভাবে যাবেন? – দিঘায় এসে সেখান থেকে স্থানী যাতায়ত পরিষেবার সাহায্য নিতে পারেন। আর না হলে গাড়ি বুক করতে পারেন।

অযোধ্যা পাহাড় : সবুজ অরণ্য

পাহাড়, জঙ্গল ভালোলাগলে এখানে অবশ্যই আসতে হবে। আমাদের পুরুলিয়া জেলা আর প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের একেবারে মাঝে অবস্থিত অযোধ্যা পাহাড়। পুরুলিয়া থেকে দূরত্ব মোটে ৪০ কিমি। পাহাড়ের উচ্চতা ৭০০ মিটার মতো। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ গাছগাছালি চোখে পড়বে। রক ক্লাইম্বিং শখ যাঁদের তারা প্রতি বছর এখানে আসেন।

কিভাবে যাবেন? – হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে পুরুলিয়া আসুন। আর তারপর সেখানে নানা মাধ্যম রয়েছে অযোধ্যা পাহাড়ে আসার জন্য।

গড় পাঁচকোট : সবুজে হারানো মন্দির

পুরুলিয়া থেকে ৭১ কিমি ভিতরে অবস্থিত এই স্থানটি দক্ষিণ পাঞ্চেত পার্বত্য এলাকার পাদদেশে অবস্থিত। এখানে দেড় হাজার বছরের পুরনো রাজবংশের সময়কার নানান মন্দির দেখতে পাবেন। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ভাস্কর্য কলা। সবুজের শোভায় ইতিহাস লুকিয়ে আছে কিন্তু সযত্নে।

কিভাবে যাবেন? – পুরুলিয়া আসার পর যাতায়াতের জন্য একাধিক মাধ্যম পাবেন।

দুয়ারসিনি : শান্তির ঠিকানা

বর্ধমান থেকে ১৩ কিমি আর সদর পুরুলিয়া থেকে ৬৫ কিমি তফাতে অবস্থিত জায়গাটি। জায়গাটি রূপে-গুনে অনন্য। শাল, পিয়াল, শিমুল গাছের জঙ্গলের মাঝে বয়ে গিয়েছে সতগুরং নদী। স্থানটি পুরোপুরি আদিবাসীদের বাসস্থান।

কিভাবে যাবেন? – বাঁকুড়া থেকে যেতে পারেন আবার পুরুলিয়া থেকেও যেতে পারেন।

দেউলঘাটা : রাজকীয় ইতিহাস

কংসাবতী নদীর খুব কাছে অবস্থিত এই অঞ্চলটি ফেলে আসা সময়ের অনেক ইতিহাস বহন করে চলেছে। রাজাদের আমলে তৈরি পনেরোটি ভগ্নপ্রায় মন্দির রয়েছে এখানে। সেগুলি পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণ। পাল ও সেন বংশের স্মৃতিবিজড়িতে এই স্থানে প্রত্যেক বছর দোলের সময় পলাশ উৎসব পালন হয়। সে সময় মানুষের ঢল নামে এখানে।

কিভাবে যাবেন? – পুরুলিয়া থেকে এখানে আসার জন্য পরিবহনের মাধ্যম পাবেন।

বিষ্ণুপুর : টেরাকোটার জন্মভূমি

যাঁরা প্রাচীন বাংলার শিল্প ও ভাস্কর্য শৈলী দেখতে চান, তারা এখানে আসতে পারেন। এখানে দশটি মন্দির রয়েছে। সবকটি অনন্য। আবার পরিবেশ এখেবারে নিরিবিলি। ছোটো নাগপুর মালভূমির অন্তর্গত বাঁকুড়ায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনস্থল বিষ্ণুপুর। এছাড়া, বালুচরি শাড়ি আর টেরাকোটার নানান জিনিস পাবেন এখানে।

কিভাবে যাবেন? – ট্রেন বা বাসে করে বাঁকুড়া এসে, সেখান থেকে আর ৩৬ কিমি ভিতরে আসতে হবে।

চেচুরিয়া : ইকো-পার্ক

বিষ্ণুপুর থেকে আরও ১৯ কিমি ভিতরে গেলে জায়গাটি পাবেন। পবিবার নিয়ে চাইলে ছোটোখাটো পিকনিকও সেরে ফেলতে পারেন। পার্কটি কৃত্রিমভাবে তৈরি। চাইলে হেঁটে মন জুড়োতেও পারবেন একলা। সেই সঙ্গে পাখির গুঞ্জন আর পরিশুদ্ধ বায়ু গ্রহণ করুন।

কিভাবে যাবেন? – বাঁকুড়া থেকে বিষ্ণুপুর আসার পর সেখান থেকে এখানে আসার সুবিধা রয়েছে।

মুকুটমণিপুর : কংসাবতীর জলাধার

বাঁকুড়া থেকে একেবারে ৫৫ কিমি দূরে অবস্থিত। কংসাবতী নদীর ধারে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি দেখতে একেবারে গলায় পরা হারের মতো। কুমারি আর কংসাবতী নদী এখানে এসে মিশেছে। আর চারিদিক এই দুই নদীর জলে সবুজ হয়ে উঠেছে।

কিভাবে যাবেন? – বাঁকুড়া থেকে পরিবহনের মাধ্যম রয়েছে পর্যটকদের জন্য।

জয়রামবাটি : ধর্মীয় পরিতৃপ্তি

সারদার দেবীর জন্মস্থান নামে পরিচিত এটি। বাঁকুড়া জেলার এই স্থানটি ধর্মীয় ভাবাবাগের সঙ্গে জড়িত। রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের কাছে এটি অন্যতম পবিত্র স্থান। তাছাড়া, এখানে সিংবাহিনীর মন্দির রয়েছে, সেটি ও অন্যতম জনপ্রিয় স্থান।

কিভাবে যাবেন? – একাধিক যাতায়াতের মাধ্যম রয়েছে।

দার্জিলিং : শৈল শহর

বাংলার সেরা পর্যটন স্থল হলো দার্জিলিং। বিশ্বের অন্যান্য জায়গা থেকেও এখানে পর্যটক আসেন।

কিভাবে যাবেন? – বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ৯৬ কিমি দূরত্বে অবস্থিত এই স্থানটিতে যাতায়াতের জন্য প্রচুর মাধ্যম রয়েছে। দার্দজিলিং রেল স্টেশনও রয়েছে সুবিধার জন্য।

সান্দাকফু : রুপোলি ফার

এখানে এলে মেজাজটা তরতাজা হয়ে উঠতে বাধ্য। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ হলো সান্দাকফু। উচ্চতা ১১,৯২৯ ফুট। ট্রেকিং করত যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য তো একেবারে আদর্শ। পাহাড়ি শোভা ছাড়াও বরফে ঢাকা রাস্তা, ফার গাছ, তারপর বৌদ্ধ গুম্ফা ইত্যাদি রয়েছে দেখার জন্য।

কিভাবে যাবেন? – দার্জিলিং থেকে খুব সহজেই পৌঁছতে পারবেন।

কার্শিয়াং : চোখ ধাঁধানো সাদা অর্কিড

তুলনায় কম পরিচিত, তাই লোকজন কম আসে। ফলে, জায়গাটি এখনও অনেকটাই গ্রাম্য আধুনিক দুনিয়ার তুলনায়। এখানে হিস্ট্রি মিউজিয়াম, রেল মিউজিয়াম, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদি রয়েছে। টাইগার হিলের সূর্যোদয় দেখতে এখানেই ছুটে আসেন মানুষ। প্রাকৃতিক শোভা মধ্যে সাদা অর্কিডের দেখা পাবেন এখানে এলে।

কিভাবে যাবেন? – দার্জিলিং হয়ে আসতে হবে। সেখান থেকে দূরত্ব ৩২ কিমি।

লেপচাজগৎ : প্রকৃতির অদ্বিতীয় শোভা

যেমন নাম, তেমনই প্রাকৃতিক শোভাতেও অদ্বিতীয়। পাহাড়ি অঞ্চলটির উচ্চতা ৬৯৫৬ ফুট। এখানে নানা রকম পাহাড়ি জীবজন্তু এবং পাখির দেখা পাবেন। এখানে এলে কাঞ্চনজঙ্ঘার পাঁচটি শৃঙ্গের শোভা একসঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়। ঘুম, জোরপখরি, মিরিক – সবই দেখতে এখানে আসতে হবে।

নেওড়া উপত্যকা : নিস্তব্ধতার মাঝে আনন্দ

এই জাতীয় উদ্যানটি ততটা পরিচিত না হলেও এখানে অনেক প্রাকৃতিক জীবসম্পদ রয়েছে। উত্তর হিমালয়ের অন্তর্গত এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলটিতে লালা পান্ডা, বিশেষ প্রজাতির চিতা বাঘ, হিমালয়ের থার, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ইত্যাদির বাসস্থান। নেওড়া উপত্যকায় এসে লাভার মতো স্থানেও যেতে পারবেন পর্যটকরা।

কিভাবে যাবেন? – দার্জিলিংয়ে এসে সেখান থেকে আরও ১৯ কিমি এগোতে হবে।

মায়াপুর : আত্মার শান্তি

নদীয়ার এই স্থানটি ধর্মীয় ভাবাবেগের দিক থেকে বেশ জনপ্রিয় চৈতন্য দেবের কল্যাণে। অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর মন্দিরের তুলনায় এখানকার মন্দির বেশ যত্নসহকারে দেখভাল করা হয়। নীরবতা এখানকার সবচেয়ে বড় পরিচায়ক। মন্দিরে যেতে জলঙ্গি নদী পার হতে হয় নৌকায় করে।

কিভাবে যাবেন? – নদীয়ায় ট্রেন পরিষেবা খুব সহজলভ্য। এমনও অনেকে আছেন যাঁরা নিত্যযাত্রী। ফলে পৌঁছনো খুব সহজ মায়াপুর।

শান্তিপুর : তাঁতে পরিচয়

নদীয়া জেলার এই স্থানটি আয়তনে ছোটো হলেও, জনপ্রিয়তায় জগদ্বিখ্যাত। শুধু বাঙালির ঘরে ঘরে নয় বিদেশেও এখানকার তাঁতের শাড়ির সুনাম প্রচুর। শান্তিপুরের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক হলো মন্দিরের শোভা। আর তার ইতিহাস শতাব্দী প্রাচীন। এখানকার মন্দিরের বিশেষত্ব হলো আটচালা। এই ধরণের শৈল্পিক নির্দশন সারা ভারত এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে। এখানকার বিখ্যাত পটেশ্বরী মন্দির আনুমানিক দু’শো বছরের বেশি পুরনো।

কিভাবে যাবেন? – যাত্রী পরিষেবা খুবই সহজলভ্য। চাইলে একদিনেও বেড়িয়ে আসতে পারেন।

কৃষ্ণনগর : মাটির পুতুলের দেশ

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অধীনে যে সমস্ত স্থান ছিল, তার রাজধানী ছিল এটি। এই কৃষ্ণনগর ঐতিহাসিক এবং সংস্কৃতি – দুই দিকে থেকেই দারুণ রকমভাবে সমৃদ্ধ। অতীত দিনের অনেক নিদর্শন দেখতে পাবেন এখানে এলে।

কিভাবে যাবেন? – রেল পরিষেবা খুব সহজলভ্য হওয়ায় স্টেশনে পৌঁছনোর পর গন্তব্যস্থলে পৌঁছনোর জন্য একাধিক মাধ্যম রয়েছে।

তাহলে দেখলেন তো, বাংলায় বেড়ানোর জন্য কতো স্থান রয়েছে। রোজকার কর্মজীবন থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারেন। তাতে কাজে আরও মন বসবে। আর নতুন নতুন অভিজ্ঞতাও হবে। অর্থ সঞ্চয়ে নয়, অভিজ্ঞতা সঞ্চয়েই জীবনের খুশি লুকিয়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: