দেশের সবচেয়ে উন্নত রাজ্য… দিল্লির থেকে অনেক এগিয়ে বাংলা, কিন্তু কত নম্বরে?

স্বাধীনতার সত্তর বছর পার হয়ে গেলেও, ভারত এখনও তৃতীয় বিশ্বের দেশ। তবে, ভারত কিন্তু ক্রমশ উন্নতি করে চলেছে। ভারতে যেহেতু যু্ক্তরাষ্ট্র পরিকাঠামো চালু রয়েছে সেজন্য বিকাশটা সবপ্রান্তে একসাথে হওয়া মুশকিল। দেশে বর্তমানে ঊনত্রিশটি রাজ্য আর সাতটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল রয়েছে। ফলে, প্রতিটি রাজ্য একসাথে উন্নতির তালে তাল মিলিয়ে চলবে, এটা ভাবা মুশকিল। কারণ, রাজ্যস্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকবে। আর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন মতামত নিয়ে চলে। কেন্দ্র সরকার সবার অভিভাবক হলেও, দেশে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখতে সবকটি রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হয় তাকে।

 

একটি অঞ্চলে বা একটি রাজ্যে বা একটি দেশে যে সমস্ত দ্রব্য ও পণ্য বিক্রয় হয় এবং যে সমস্ত পরিষেবা প্রদাণ করা হয়, তাকে একসঙ্গে গ্রস স্টেট ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট – জিএসডিপি বলা হয়। আগেই বলেছি, ভারতে মোট ৩৬টি অঞ্চলে বিভক্ত। সবকটি রাজ্য আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও, উন্নতির দিক থেকে কেউ কারও সমক্ষ নয়।

উন্নতির নিরিখে ভারতের সেরা দশ রাজ্য –

১০. দিল্লি

সেরা দশের তালিকা উল্টোদিক থেকে শুরু দেশের রাজধানী অঞ্চলকে দিয়ে। আগের তুলনায় উন্নয়নের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এখানে অনেকটাই। বর্তমানে তা পনেরো শতাংশ। উত্তর ভারতের এই রাজ্যে অনেক ধরণের শিল্প রয়েছে – ব্যাঙ্কিং, রিটেল, তথ্য-প্রযুক্তি, রিয়েল এস্টেট ও শক্তি উৎপাদন ইত্যাদি। ফলে, চাকরির বাজার রয়েছে দেশের রাজধানীতে। দিল্লির জিডিএসপি চার কোটি টাকা।

 

৯. মধ্যপ্রদেশ

দেশের একেবারে মাঝের অঞ্চল, এই কারণেই রাজ্যটির  নাম মধ্যপ্রদেশ। ২০০০ সালের কাছেপিঠের সময় থেকে এই রাজ্য ভারতের মানচিত্রে নিজের জায়গা করে নিতে শুরু করে। রাজধানী ভোপাল। ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে পঞ্চম মধ্যপ্রদেশ। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি’র চার শতাংশ আসে এই রাজ্য থেকে। সারা দেশের বাজারে সয়াবিন রপ্তানি এখান থেকেই হয়। মধ্যপ্রদেশের জিডিএসপি ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ ৭৩০ টাকা।

 

৮. অন্ধ্রপ্রদেশ

মধ্যপ্রদেশের মতো এই রাজ্যও দেশের জিডিপি’তে চার শতাংশ অবদান রাখে। আয়তনের দিক থেকে বর্তমানে ভারতের সর্ববৃহৎ রাজ্য। এখানকার মূল শিল্প ওষুধ উৎপাদন, যানবাহন তৈরি, উদ্যানপালন এবং বস্ত্রশিল্প। এই রাজ্যে আড়াইশোটির মতো শিল্পাঞ্চল রয়েছে এথানে। ৩৫টির মতো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও রয়েছে। বিশাখাপত্তমন বাণিজ্যের দিক থেকে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। তারপরেই অর্থনৈতিক দিক থেকে বিজয়ওয়াড়ার স্থান।

 

৭. রাজস্থান

থর মরভুমির অঞ্চল রাজস্থান আয়তনের দিক থেকে ভারতের অন্যতম বড় রাজ্য। পাকিস্তানের সঙ্গে দেশের সীমানা ভাগ করে নেওয়া রাজস্থানে প্রচুর পরিমাণে ভোজ্যদ্রব্য উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে মশলার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সিমেন্ট ব্যবসাও রাজস্থানের অন্যতম বড় শিল্প। এই রাজ্যের জিডিএসপি পাঁচ কোটি টাকার মতো।

 

৬. কর্ণাটক

দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু, তথ্য-প্রযুক্তি হাবের জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। এছাড়া, অ্যারোনটিক্স লিমিটেড, ভারত ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড, ভারত আর্থ মুভার্সের মতো পাবলিক সেক্টর থাকলেও, পাশাপাশি রাজ্যটি কৃষি ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নেয় দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে। তবে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যমণ্ডিত রাজ্যটিতে আইবিএম, ইনফোসিস উইপ্রো’র মতো কোম্পানি থাকায় তথ্যপ্রযুক্তিই মূল শিল্প। কর্ণাটকের জিডিএসপি পাঁচ কোটি টাকা।

 

৫. পশ্চিমবঙ্গ

নাম পশ্চিম দিয়ে শুরু হলেও, দেশের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত এই রাজ্য, সেই সঙ্গে দেশের সীমানাও জল ও স্থলে আগলে রেখেছে এই রাজ্য। কৃষিই এই রাজ্যের মূল অর্থনীতি। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলির মধ্যে একটি বাংলা। রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ১৭ শতাংশ। সার, রাসায়নিক দ্রব্য, স্টিল, পাটের মতো শিল্প রয়েছে এখানে। পশ্চিমবঙ্গের জিডিএসপি ৭ কোটি টাকা।

 

৪. গুজরাট

দেশের জিডিপি’তে ৭ শতাংশ অবদান রাখে গুজরাট। জামনগর তৈল শোধনাগার এই রাজ্যেই অবস্থিত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তৈল শোধনাগারটি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের। প্রতিদিন বারো লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল জমিয়ে রাখা যেতে পারে এখানে। পশ্চিম ভারতের এই রাজ্যে আরও অনেক বড় বড় কোম্পানি রয়েছে। জিডিএসপি গড়ে সাত কোটি টাকার মতো।

 

৩. তামিলনাডু়

দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যটি কাঁচা হলুদ ও চাল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলুদ ও ধান তামিলনাডু়তেই চাষ হয়। এছাড়া, শিল্পোদ্যোগও রয়েছে এই রাজ্যে। গাড়ি, বস্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি ও চামড়ার কারখানা রয়েছে রাজ্যে। সিস্কো, হুন্ডাই, বিএমডব্লু, ইনফোসিস, অশোক লেল্যান্ডের মতো কোম্পানি তামিলনাডু়তেই অবস্থিত। রাজ্যধানী চেন্নাই ভারতের প্রথম চার মেট্রো সিটির অন্যতম। জিডিএসপি আট কোটি টাকার মতো।

 

২. উত্তরপ্রদেশ

রাজনৈতিক দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ উত্তর ভারতের এই রাজ্য, তেমনই অর্থনৈতিক দিক থেকেও। সারা ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদন এই রাজ্যেই হয়, এর পরিমাণ সত্তর শতাংশ। কৃষির পাশাপাশি চামড়া, গাড়ি, গয়না, স্টিল ইত্যাদির মতো নানান শিল্প রয়েছে এখানে। আবার দিল্লি সংলগ্ন নয়ডাতে তথ্যপ্রযুক্তি হাবও রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের জিডিএসপি সাড়ে আট কোটি টাকার মতো।

 

১. মহারাষ্ট্র

মহারাষ্ট্র জিডিএসপি’তে সবার আগে। ১৪ কোটি টাকারও বেশি অবদান রাখে এই রাজ্য। রাজ্যের রাজধানী বাণিজ্য নগরী মুম্বই। দেশের জিডিপি’তে চোদ্দ শতাংশ অবদান রাখে পশ্চিম ভারতের এই রাজ্য। মহারাষ্ট্র সবসময় শিল্পবান্ধব। গাড়ি, ফার্মাসিটিক্যালস, পেট্রোরসায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রসেসড ফুড ইত্যাদি শিল্প রয়েছে এখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: