লেবু ও মরিচের মিশ্রণ ব্যবহার করলে মুক্তি পাবেন এই ৫ টি শারীরিক সমস্যা থেকে!

লেবু আর গোলমরিচ। দুটি আলাদা ফল। একসঙ্গে মেশালে স্বাদ বাড়ে। শরীরের জন্যও উপকারি। বেশ কয়েকটি রোগ রুখে দেয়। শরীর চনমনে রাখে। পাইপারিন নামের রাসায়নিক উপাদান থাকায় গোল মরিচে ঝাঁজ থাকে। আদি উৎস দক্ষিণ ভারত। পৃথিবীর উষ্ণ ও নিরক্ষীয় এলাকায় এর চাষ। প্রাচীন কাল থেকে গোল মরিচের গুঁড়া ইউরোপীয়রা খাদ্যে মশলা হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। এই লতাজাতীয় উদ্ভিদের ফলকে শুকিয়ে মশলা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। গোল মরিচের পুষ্টিমান জাত ও উৎপাদনের স্থানের তারতম্যের জন্য পরিবতর্ন হতে পারে।


লেবুর আদি নিবাস দক্ষিন-পূর্ব এশিয়াতে। ভেষজগুনে ভরপুর একটি ফল। লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে খনিজ লবন ও শর্করা। ন্টিব্যাকটেরিয়া ও এন্টিভাইরাল উপাদান আছে। মৌসুমি রোগগুলো প্রতিরোধে লেবু পরীক্ষিত ফল। উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম থাকায় উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রন রাখতে লেবুর জুড়ি নেই। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৎপিন্ডের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
ওষুধিগুণে ভরপুর এই দুটি ফলের মিশ্রণে মেলে চমকপ্রদ ফল। এখানে আমরা বেছে নিয়েছি স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদিয়েস্ট ইউনিভার্স-এ প্রকাশ পাওয়া গোলমরিচ, নুন ও লেবুর রস ব্যবহারে ৫ সমস্যার সমস্যা সারানোর ঘরোয়া উপায়।

১) আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে লেবু ও গোলমরিচ গুঁড়োর বহুমাত্রিক ব্যবহার। যকৃত পরিশোধনে একটি ছোট কাগজি লেবুর রস এককাপ পরিমান গরম জলের সঙ্গে গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে পরিমাণ মতো নুন দিয়ে বানানো মিশ্রণ খান। লেবুর রস ও গোলমরিচেরচের মিশ্রণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় দেহের কোষ ও ত্বক রক্ষা করে। দেহের ক্যালমিয়াম শোষন করে সহজে। হাড়ের গঠন ও দৃঢ়তা বজায় থাকে। মুত্রথলি ও কিডনিতে পাথর জমতে দেয় না। একদিকে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে। অন্যদিকে ফ্লাভোনয়েড থাকায় বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে সহজে।

২) বমির সমস্যা থাকলে এক গ্লাস জলে কয়েক টুকরো লেবুর রস দিয়ে তার মধ্যে সামান্য গোল মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। তৎক্ষণাৎ আরাম পাবেন। দাঁতের ব্যথা কমাতেও ব্যবহার করা যায়। অন্ত্রের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে।

৩) মানসিক বিষন্নতা, উদ্বেগ ও মনের চাপ দূর করে মনকে সতেজ করে তোলে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৎপিন্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

৪) এই মিশ্রণে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন আছে যা কার্ডোভাস্ক্যুলার সিস্টেম কে কর্মক্ষম রাখে। মেটাবলিসম বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখে।

৫) মানুষের কনুই এবং হাঁটুর অংশটি খসখসে হয়। এই অংশ দুটিকে মসৃণ এবং সুন্দর করে দেয় লেবুর রস, গোলমরিচ ও নুনের পেস্ট। দেখুন জাদুর মতো কাজ করবে।
গ্রীষ্মকালে শরীর ঠাণ্ডা রখে। গরম থেকে বাঁচায়। গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন এই মিশ্রণ পান করুন। গরমের হাত থেকে বাঁচাবে। ঘামের মধ্যেও শরীর ঠাণ্ডা রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: