সল্টলেকে পূজার ভোগ খেতে দেয়া হলো না পরিচারিকাকে!

অর্থনৈতিক বৈষম্য সমাজের এক অন্যতম ব্যাধি। পার্কস্ট্রিটের অভিজাত রেস্তোরাঁর পর এর পর ফের অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার সল্টলেকের দুর্গাপূজা। এর থেকেই ফের প্রকট হয়ে উঠলো সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য। পাড়ার অভিজাত বাসিন্দাদের সঙ্গে একই পঙক্তিতে বসে খেতে দেওয়া হলো না পাড়ারই এক বাড়ির পরিচারিকাকে। তাঁকে সরাসরি অপমান করে পূজা প্যান্ডেল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পূজো উদ্যোক্তারা সকলের সামনে তাকে অপমান করে বলেন, “মাসি-আয়াদের এখানে পুজোর ভোগ দেওয়া হয় না।“ ভোগ খেতে চাইলে খাবার নিয়ে দূরে অন্য কোথাও গিয়ে খেতে বলা হয় ওই মহিলাকে।

পরনে ২৫ কোটি টাকার শাড়ি; বিসর্জনে অসুবিধা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে! দেখুন কি হলো তারপর ..

এই অভিযোগ আনা হয় সল্টলেকের সি বি ব্লকের দূর্গা পূজা কমিটির উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চুপ করে থাকতে পারেননি ঐ পাড়ার বাসিন্দা শৌভিক ঘোষ। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে পুরো ব্যাপারটাই জানিয়েছেন তিনি। ওই পরিচারিকা তাঁদের বাড়িতেই কাজ করে বলে জানা গেছে। প্রত্যেক বছরই সল্টলেকে ওই ব্লকে পূজার চাঁদা দিলে এলাকার বাসিন্দাদের পুজার ভোগ খাওয়ার কুপন দেন পূজা উদ্যোক্তারা। শৌভিক বাবু জানান নবমীর দুপুরে তাঁর বিশেষ কাজ থাকায় তিনি পূজার ভোগ খেতে যেতে পারেননি। তাঁর কুপনটি নষ্ট হবে ভেবে তিনি ওই কুপন দিয়ে দেন বাড়ির পরিচারিকা সঞ্চিতাকে। বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ভোগ খেতে যান সঞ্চিতাও। কিন্তু তাতেই অপমানিত হতে হয় তাঁকে।

বাড়ির কাজের লোক মলিন শাড়ি পড়ে পাড়ার অন্যান্য অভিজাত বাসিন্দাদের সঙ্গে পূজার ভোগ খাবেন তা মেনে নিতে পারেননি ঐ এলাকার পুজো উদ্যোক্তারা। রীতিমতো অপমান করে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয় তাঁকে। শৌভিক বাবু জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে ঐ পরিচারিকা বহুদিন ধরে কাজ করছেন। পুজোর সময়ও ছুটি না নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “পরিচারিকা বলেই কি শুধুমাত্র তাঁকে ভোগ খেতে দেওয়া হয়নি সঞ্চিতাকে? তাঁর কি সাধারণ মানুষের মত ভোগ খাবার অধিকার নেই?”

দুঃসংবাদ : আনলিমিটেড কল বন্ধ করে দিয়ে, এই প্ল্যান আনতে চলেছে জিও!

খরচ ১০ কোটি টাকা; দেখে নিন এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল দূর্গা মন্ডপ!

কলকাতার পুজো প্যান্ডেলের শিল্পীদের অজানা কাহিনী!

এই ঘটনায় অপমানিত বোধ করেছেন ঐ পরিচারিকা। বাড়ি ফিরে কাঁদতে থাকেন তিনি। গোটা বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করতে ক্লাবে গিয়েছিলেন শৌভিক বাবু। কিন্তু সেখানে ক্লাবের কর্মকর্তারা তাঁকে নিয়মাবলীর কাগজ দেখান। সেখানে লেখা রয়েছে যে আবাসিকদের যে কুপন দেওয়া হয়েছে তা কাজের মাসি অথবা আয়ারা ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁদের খাবার প্যাকেট নিতে হলে অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিতে হবে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শৌভিক বাবু বলেন যে তিনি চাঁদা দিয়েছিলেন তা সত্ত্বেও তাঁর পরিচারিকার সঙ্গে এই আচরণ কেন করা হল। এই ঘটনা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তিনি জানানোর পর ভিন রাজ্যের মানুষও এর প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনায় কেউ কেউ পুজো উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনে অভিযোগ জানাতে বলেছেন। এলাকার বাসিন্দারা জানান, “এই ঘটনায় সবাই বুঝে গিয়েছেন যে এই অঞ্চলে কোনো মানবিক মুখ নেই।“

One thought on “সল্টলেকে পূজার ভোগ খেতে দেয়া হলো না পরিচারিকাকে!

  • October 3, 2017 at 6:00 pm
    Permalink

    Unara Ata thik kaj korer ne..
    Jodi unar jaygay uni hoto. Tahole unar Kamn lagto… Vogobaner Prasad sobai khabe. Gorib ki boro lok.
    Gorib ra ache bole .apnader moto ……(ATO BROMONER MANUSH BACHE ACHE)
    KI bojhate chailam bujte parechen to.

    Mr Souvik apni Ata niya prosasoner kache janan…

    Puja comite khate daben na oye Katha Ta valo vabe bolte parten.. But kou k opoman korar right k deyachen apnader k

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: