কলকাতার পুজো প্যান্ডেলের শিল্পীদের অজানা কাহিনী!

দুর্গাপূজা ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক অনুষ্ঠান। কলকাতার দুর্গাপূজা ভারতের মধ্যে বিখ্যাত। সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সকলে এক হয় এই সময়। মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে কলকাতা বিখ্যাত। কলকাতার পূজা মন্ডপ গুলো অসাধারন সাজে সাজানো হয়।

এই বছর কলকাতায় প্রায় তিন হাজার পূজা মন্ডপ তৈরি হয়েছে। এগুলির মধ্যে বিখ্যাত কলকাতা শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মণ্ডপটি। বাহুবলী চলচ্চিত্রের মাহেষ্মতী নগরীর অনুকরণে নির্মিত এই মণ্ডপ। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় দশ কোটি টাকা। সময় লেগেছে ৯০ দিনের কিছু কম।

এই মণ্ডপ তৈরির শিল্পীরা কোথা থেকে আসেন এবং কিভাবে কাজ করেন তা দেখে নেওয়া যাক। মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রধানত আগস্ট থেকে শুরু হয়। বাঁশ দিয়ে প্রথমে মন্ডপের কাঠামো তৈরি হয়।

এই মণ্ডপ তৈরির কারিগররা বিভিন্ন জায়গা থেকে কলকাতায় এসে উপস্থিত হন। প্রধানত পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, যা কুটির শিল্পের জন্য বিখ্যাত, সেখান থেকে এরা কলকাতায় আসেন। এছাড়া নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেও এরা এসে পৌঁছান মহানগরীতে।

মন্ডপ তৈরির প্রথম কাজ প্রধানত দূর্গা পূজার ছয় থেকে আট মাস আগেই শুরু হয়ে যায়। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় শিল্পী ও ক্লাবের আধিকারিকদের মধ্যে। মণ্ডপ কেমন হবে এবং কত টাকার মধ্যে হবে তা ঠিক হওয়ার পর আগস্ট মাস থেকে শিল্পীরা নিজেদের লোক লাগিয়ে কাজ শুরু করেন।

এক মণ্ডপ শিল্পী জানান,

“মেদিনীপুরের একারই একশোরও বেশি মণ্ডপ শিল্পীদের দল রয়েছে যাদের আবার বিভিন্ন নামও রয়েছে।“

বেশিরভাগ মণ্ডপ শিল্পীদেরই নিজেদের দল রয়েছে। এদের দল মোটামুটি চাষী, কাঠের মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, হস্তশিল্পী প্রমুখ নিয়ে গঠিত হয়।

তারা মন্ডপের বিভিন্ন ভাগের কাজকর্ম ভাগাভাগি করে দায়িত্ব নেন। মণ্ডপের কাঠামো তৈরি, আলোকসজ্জা, মণ্ডপ তৈরি ইত্যাদি কাজ সবটুকু সঠিক ভাবে সম্পন্ন করেন তারা। প্রথম জীবনে পাকা কারিগররা অন্য কারিগরদের থেকে কাজ শিখে হাত পাকিয়ে নেন। তাদেরও বহু দিন ধরে শিখতে হয় মণ্ডপ তৈরির বিভিন্ন খুঁটিনাটি। সাধারণত কারিগররা কয়েক পুরুষ ধরে এই কাজ করে চলেছেন। নিজেদের সন্তানদের তারা কাজ শেখান। তারাও নিজেদের পিতার থেকেই এই কাজে হাতে খড়ি দিয়েছিলেন।

খরচ ১০ কোটি টাকা; দেখে নিন এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল দূর্গা মন্ডপ!

 

বর্তমানে মণ্ডপ সজ্জা এক ধরনের বিশেষ কলায় পরিণত হয়েছে। তাই শহরে এই নিয়ে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। শহরের বিভিন্ন চারুকলায় পারদর্শী শিল্পীরাও নিজেদের শিল্প ভাবনাকে মণ্ডপ সজ্জার আঙ্গিকে তুলে ধরেন। কিন্তু এই সব শহুরে শিল্পীদের জন্য আগে থেকেই থাকা শিল্পীরা মার খেয়ে যাচ্ছেন। কারণ তাদের কোনো শিক্ষার সার্টিফিকেট নেই। তাদের কম টাকা দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই সুযোগে।

এই সমস্ত প্রতিযোগিতার মাঝে হয়ত কখনো শহর ও গ্রামের শিল্পীরা মিলে মিশে যাবে। শহর ও গ্রামের শিল্পকলা মিলে গিয়ে জন্ম নেবে কোনো নতুন শিল্পকলা যা শিল্পের জগতে পরিবর্তন আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: