অগাধ মুনাফার খেলা। পুজোয় রেস্তোরাঁতে গিয়ে হতাশ মধ্যবিত্তের কলকাতা !

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের ইনিংস প্রায় শেষ। নবমীর রাতের একটা মারকাটারি স্লগওভার ব্যাটিং শেষ হলেই মা-কে বিদায় জানানোর পালা। কিন্তু ভোজন রসিক বাঙালি কি আদৌ পকেট সামলে নিজেদের সাধ ও সাধ্যের দাঁড়িপাল্লায় স্বাদ পেলেন তাদের প্রিয় ডিশের? চতুর্থীর রাত থেকেই উত্তর থেকে দক্ষিনের রেস্তোরাঁগুলিতে উপচে পড়া ভিড়। কখনও একঘণ্টা কখনও বা আড়াই ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে খাবার কিনতে। কিন্তু এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষগুলির ক্রেতার প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে। হাতিবাগানের বিখ্যাত মোগলাই খানার রেস্তোরাঁ থেকে বেরোনোর সময় বেশ বিরক্তই দেখালো বাগুইআটির বাসিন্দা অরিত্র মণ্ডল-কে। তাঁর কথায়-

” এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল। ভেতরে প্রবল মুনাফার খেলা চলছে। মিনারেল ওয়াটার ম্যাক্সিমাম রিটেল প্রাইস-এর থেকে অনেকটাই বাড়িয়ে তা ক্রেতাদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়াও পুজোর চারদিন প্রতিটি আইটেম-এর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি তো রয়েছেই। “

কলকাতার আর একটি বহুল জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট থেকে বেরোনোর সময় বেশ উত্তেজিত দেখাচ্ছিল উত্তর কলকাতার বাসিন্দা অনুশ্রী নন্দীকে। তাঁর গলায় ঝড়ে পরে বিক্ষোভের সুর-

“সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য পুজোতে রেস্টুরেন্টে খাওয়া সাধ্যে কুলোয় না। বন্ধুদের সাথে এসেছিলাম। সৌজন্য দেখিয়ে মেনুকার্ড দেওয়া হলেও মাত্র দুটি আইটেম ছাড়া নেই। যে আইটেমগুলি রয়েছে তার দামও প্রচণ্ড চড়া।”

শুধু এনারা নন। বহুদিক থেকে একের পর এক এমন অভিযোগ কিন্তু উঠেই আসছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে খাবার না পাওয়ার অভিযোগ আবার কোথাও বা খাওয়ারের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত জি এস টি-র বাইরে গিয়েও পুজো স্পেশাল ট্যাক্স-এর নামে ক্রেতাদের থেকে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ কিন্তু বেশ লজ্জাজনক।

তাহলে কি কলকাতার মধ্যবিত্তের সাধ্যের বাইরেই চলে যাচ্ছে জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাদ পাওয়ার স্বপ্ন? যেখানে হাজার হাজার টাকার বিল মেটানোর পর ও কর্তৃপক্ষ দাম বাড়িয়ে রাখা মিনারেল ওয়াটার ছাড়া জল দিতে অস্বীকার করেন সেখানে আগামী বছরেও হুজুগে বাঙালির ছাতা মাথায় লম্বা লাইন দেখতে পাবো তো আমরা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: