রোজ শ্রেফ একটা করে গাজর খান, তাহলেই দূরে থাকে এই দুরারোগ্য ব্যাধি গুলি!

যতো দিন যাচ্ছে মানুষের রোগ ভোগের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় সুস্থ থাকার একটাই উপায়, খাওয়া-দাওয়াটা ঠিক থাকা মাস্ট। আসলে আমাদের শরীরে যা কিছু উপাদান যায়, তা ওই খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমেই যায়। আর বিগড়োলে ওটার মাধ্যমেই বিগড়োয়। অতএব, ওই দিকে খেয়াল রাখুন একটু-আধটু, তাহলে অনায়াসে সুস্থভাবে বাঁচতে পারবেন। এবার হ্যাঁ, টুকটাক অসুখ-বিসুখ তো হবেই, ওটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে, সেই ব্যবধানটা কতোটা বাড়াতে পারছেন, সেটা কিন্তু আপনার হাতেই রয়েছে। প্রয়োজন নিয়মের মধ্যে থাকা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে।

গাজর। এমন একটা সব্জি, যেটা আপনি সারা বছর ঠিক পাবেনই পাবেন। লাল গাজর আপনি শীত ছাড়া পাবেন না মোটামুটি। অন্য সময় চোখে পড়লেও পড়ে যেতে পারে। তবে, কমলা রঙের গাজর সারা বছরই বাজারে দেখা মেলে। একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে সপ্তাহে যদি কমপক্ষে গোটা ছয়েক গাজর পেটে পুরতে পারেন, তাহলে নিশ্চিন্তে বহাল তবিয়তে থাকতে পারবেন।

স্ট্রোক আর হার্ট-অ্যাটাক এখন মানুষের সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ। আর এর থেকে বাঁচতে গাজরই হতে পারে আপনার ব্রহ্মাস্ত্র। কারণ, সপ্তাহে অন্তত ছ’টি গাজর খেতে পারলে, ওসব ঝুঁকি কমে যাবে। নতুন এক সমীক্ষা তাই বলছে।nউপকার আরও আছে। স্ট্রোক ও হার্ট-অ্যাটাকের সম্ভাবনা যেমন কমিয়ে আনে, তেমনই অল্পেতে বুক ধড়পড়ানির সমস্যাতেও উপকার দেয়। আর যদি কাঁচা গাজর খেতে পারেন, তাহলে চামড়া টানটান থাকার পাশাপাশি দাঁতও ঝকঝকে থাকবে, কমবে হলদেটে ভাব।

ইংরেজিতে একটা বহু পুরনো প্রবাদ আছে – ‘অ্যান অ্যাপেল কিপস ডক্টরস অ্যাওয়ে’। পাতি বাংলায় – রোজ একটা করে আপেল খান, তাহলে ডাক্তার-বদ্যি কাছে ঘেঁষবে না। গাজরের ব্যাপারটাও ঠিক তাই দাঁড়াচ্ছে। মানে টুকটাক বাদে, বড় সমস্যার সমস্ত ঝুঁকি কমে যাবে। রোজকার জীবনে সুস্থ থাকতে ওষুধের ওপর নির্ভর করার ভাবনাটাও থাকবে না। মার্কিন মুলুকের হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সমীক্ষা সেই তথ্যই দিচ্ছে। রোজ একটা করে কাঁচা গাজর খান। সপ্তাহে মোট ছ’টার মতো হলেই হবে। তাহলেই স্ট্রোক ও হার্ট-অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে আসবে।

কাঁচা গাজর খাওয়ার পরামর্শ এই কারণে যে যখন তরকারি বা হালুয়া করে খাচ্ছেন, তা মুখে যতই ভালো লাগুক না কেন, তার সঙ্গে আরও অনেক কিছু মেশাতে হয়। ফলে, কতোটা পরিমাণ গাজর খাচ্ছেন, সেটা কখনই মাপা সম্ভব নয়। কারণ, পুরোটা তো আর আপনি একা খাবেন না। বাড়িতে রান্না হওয়া মানে, ওটা সবাই মিলে মিশে খাওয়া। আর দ্বিতীয়ত হলো, কিছু সব্জি আছে যেগুলি রান্না করলে, তার পুষ্টি উপাদান অনেকটা কমে আসে। গাজর সেই সব সব্জির মধ্যে পড়ে। তাই কাঁচা গাজর খেতে পারলে শরীরে বেশি উপকার দেয়।

আমরা লাঞ্চ আর ডিনারে একটু ভারি খাবার পছন্দ করি। তুলনায় ব্রেকফাস্ট হাল্কা রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু, বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্রেকফাস্ট ভারি হলে কোনও অসুবিধে নেই। বরং লাঞ্চ এবং ডিনারটা হাল্কা করলে ভালোই হয়। সে যাইহোক, সেটা মানবেন কি না, ভেবে দেখুন। তবে, যাই করুন না কেন, এবার থেকে লাঞ্চ এবং ডিনারে একটা স্যালাডের পদ যোগ করে দিন। গাজর, শসার ওপরে সামান্য লেবুর রস। যাঁদের অ্যাসিডের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা চাইলে পাতি লেবুর রসটা বাদ দিতেও পারেন। তবে, বিটনুন ছড়িয়ে দারুণ লাগবে কিন্তু। টেস্ট বাড়াতে টমেটো দিন। আর চাইলে কাঁচা লঙ্কাও। সপ্তাহ খানেক খেয়ে দেখুন। ফল নিজেই হাতেনাতে পাবেন। তখন দেখবেন, ওটা নাহলে যেন চলছেই না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: