নিজের একাউন্ট হ্যাক হয়ে যাবার হাত থেকে মুক্তি পাবেন কিভাবে, জেনে নিন

ইন্টারনেট ছাড়া এক পা চলার কথাও ভাবতে পারেনা আজকের দুনিয়া। দুনিয়ার মানুষের সমস্ত কৌতুহল মেটানোর একমাত্র রাস্তা এই নেট দুনিয়া। যে কোনো ব্যাপারেই সংক্ষেপে বা বিস্তারিত জানতে ইন্টারনেটের জুড়ি মেলা ভার। স্মার্ট ফোনের দৌলতে আজকের প্রজন্ম ২৪ ঘন্টাই ইন্টারনেটে অন থাকেন। কিন্তু এই ইন্টারনেট মোটেও সুরক্ষিত নয়। অন্ধকার গলির মত এই দুনিয়ার আনাচে কানাচেও ঘাপটি মেরে বসে থাকে বিপদ। আর সে বিপদ এমনই আচমকাই আসে যে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের পক্ষে মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবহারকারীর অজান্তেই হ্যাক হয়ে যার সমস্ত ব্যক্তিগত ডাটা। সেসমস্ত ডাটা ফেরত পেতে বিস্তর ঝঞ্জাটের শিকার হতে হয় তাদের। তাই বেখায়ালি ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিবর্তে যথেষ্ট সাবধানি হওয়া দরকার।

 

কীভাবে সুরক্ষিত থাকা যাবে ইন্টারনেটে?

 

১। পাসওয়ার্ডের বদল

ইন্টারনেট ব্যবহারে পাসওয়ার্ড একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বহু মানুষই নিয়মিত বদলান না তাদের পাসওয়ার্ড। বছরের পর বছর ধরে তাদের পাসওয়ার্ড একই থাকে। সাইবার জগতের বিশেষজ্ঞদের মতে দীর্ঘদিন একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। তাই তারা পরামর্শ দিচ্ছেন একটি নির্দিষ্ট সময়ের অন্তরালে বদলানো দরকার পাসওয়ার্ড। এবং সেই সঙ্গে পাসওয়ার্ড যাতে খুব সহজ না হয় সে কথাও জানাচ্ছেন তারা। তাদের মত পাসওয়ার্ড বেশ কঠিন হওয়াই দরকার।

 

২। যত্রতত্র ওয়াইফাই ব্যবহার বন্ধ

যেহেতু এখন অনেক টাকাই লাগে ইন্টারনেট রিচার্জের ক্ষেত্রে তাই কোথাও ইন্টারনেট ফ্রি দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়েন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। ওয়াই ফাই কোথাও ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে দেখলেই অসাবধানি হয়ে সেই ওয়াই ফাইয়ের লগ ইন করে বসেন অসাবধানী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। আর তখনই ডেকে আনেন বিপদ, মুহুর্তেই খুইয়ে বসেন নিজের ব্যক্তিগত ডাটা। তাই ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ব্যবহার সম্বন্ধে সাবধান হওয়া উচিৎ ব্যবহারকারীদের।

৩| সাইন আপ করার নোটিফিকেশন

এটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি অস্ত্র। অধুনিক ইন্টারনেট জগতে এখন সকলেই ব্যস্ত কেনাকাটায়। মানি ডিজিটালাইজেশনের যুগ এটা। ফলে ই কমার্স এখনই খুবই সহজ একটা ব্যপার। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে অন লাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজের আইডি, পাসওয়ার্ড, কিংবা লগ ইন করার অপশনে সাইন আপ নোটিফিকেশনের অপশনটি সবসময় অন করে রাখা প্রয়োজন। যাতে ব্যবহারকারীদের পরিবর্তে কেউ তার আইডি বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেই ব্যবহারকারীর মোবাইল বা মেলে তার নোটিফিকেশন চলে যায়। যাতে তারা সঙ্গে সঙ্গেই সাবধান হতে পারেন।

 

৪| অ্যান্টিভাইরাস প্রোটেকশন

যেখানে নেট ব্যবহারের প্রশ্ন আসে সেখানে তো থাকবেই ভাইরাস। এই মুহুর্তে নেট জগতে ক্যানসারের মতই মারণ রোগ হল ভাইরাস। নেট সার্ফিং বা ব্রাউজিং করার সময় একটু বেখেয়াল হয়ে কোনো কিছুতে ক্লিক করলে মুহুর্তেই আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে আপনার ডেস্কটপ ল্যাপটব বা স্মার্ট ফোন। চুরি হয়ে যেতে পারে আপনার ডাটা আপনারই অজান্তে। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাবে আপনার ওএসও।  তখন উপায় থাকবে না আপনার কাছে। বাধ্য হয়েই ডাটা সমেত ফর্ম্যাট করতে হবে আপনার মেশিনটি। অতএব সাধু সাবধান। এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় অ্যান্টি ভাইরাসের ব্যবহার। এই সফটওয়ারের কাজই হলে সন্দেহ হলেই আপনাকে সাবধান করে দেওয়া, বা সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসটি ডিলিট করে দেওয়া। এমনকী কোনো ওয়েবসাইট সিকিওর না হলেও এই অ্যান্টিভাইরাস নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আপনাকে সাবধান করে দেবে। বেঁচে যাবেন আপনিও।

 

৫। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিন

ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এই মুহুর্তে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নেটওয়ার্কের ব্যবহারের ফলে ট্র্যাক করা যায় ব্যবহারকারীর গতিবিধি। ফলে কেউ যদি আপনার নেটওয়ার্কে ঢুকে আপনার ডাটা হ্যাক করতে চায় বা ব্যবহার করতে চায় তাহলে খুব সহজেই আপনি তার গতিবিধির উপর লক্ষ্য রাখতে পারবেন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে সুরক্ষিত থাকবে আপনার ডাটাও।

 

ইংরেজি প্রবাদ অনুসারে প্রিভেনশন ইস বেটার দ্যান কিউর। তাই দেরী হয়ে আওয়ার আগেই একবার দেখে নিন আপনার অজান্তে কেউ আপনার ডাটা হাতিয়ে নিচ্ছে না তো? তাই অন্যকেউ আপনার ব্যাঙ্ক ডিটেল ক্রেডিট কার্ড, পাসওয়ার্ড এগুলো হাতিয়ে নেওয়ার আগেই সাবধান হয়ে যান। নিজের ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক হন আর সেই সঙ্গে নিন প্রোটেকশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: