চিনের রেল নিয়ে এই দশটা কথা শুনলে চমকে যাবেন, এক নম্বরটা শুনলে ধাক্কা খাবেন

চিন নিয়ে তো কথা কথাই শোনেন। কিন্তু চিনের রেল নিয়ে! না সেভাবে শোনা যায় না। জানুন চিনের রেল নিয়ে অজানা কিছু তথ্য…

১০) গোটা দুনিয়ার সবদেশ মিলিয়ে যত স্পিড ট্রেন চালানোর ট্র্যাক রয়েছে, চিনে তার থেকে বেশি রয়েছে। চিনে ট্রেন ভাড়ার বেশ দুনিয়ার যে কোনও দেশের থেকে অনেক সস্তা।

৯) চিনে প্রতিটি ট্রেনের গড় গতি ৩০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা, সেখানে ভারতের ট্রেনের গড়ি থাকে ১১০ কিমি/ঘণ্টা

৮) চিনে মোট ট্রেন স্টেশনের সংখ্যা প্রায় ৫৮০০টি, সেখানে ভারতে মোট রেলওয়ে স্টেশনের সংখ্যা ৭৬৫৩টি। চিনে স্টেশনের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ একটা নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কিছুতেই স্টেশন করা যায় না। ভারতেও এমন নিয়ম থাকলেও দুটি স্টেশনের মধ্যে দূরত্ব কম থাকে। চিনে ট্রেন স্টেশনগুলিকে ছয়ভাগে ভাগ করা হয়- স্পেশাল, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম। স্পেশাল স্টেশনে ৬০ হাজার যাত্রী ধারণ ক্ষমতা থাকে। গোটা চিনে এমন মাত্র ৫০টি স্পেশাল স্টেশন রয়েছে। যেগুলো সব বাতানাকুল তো বটেই সঙ্গে বিশ্বের যে কোনও প্রথম সারীর বিমানবন্দরের মতই সুন্দর, স্বচ্ছ ও আধুনিক।

৭) সবচেয়ে বেশি সংখ্যাক মানুষ চিনের ট্রেন ব্যবস্থা ব্যবহার করেন- একে তো সস্তা , তার ওপর আবার খুব দ্রুতগতির। সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। তাই চিনের রেলে রেকর্ড সংখ্যাক লোক যাতায়াত করেন। তবে ২০১৬ সালের মত এত রেকর্ড সংখ্যাক যাত্রী চিনে আর ওঠেনি। সংখ্যাটা শুনবেন ১৫০ কোটি যাত্রী!!! হ্যাঁ, ১.৫ বিলিয়ন। সেখানে চিনের জনসংখ্যা সেই সময় ছিল ১৪০ কোটি। তার মানে গোটা বিশ্ব থেকে এই ট্রেনে মানুষ চড়েছিল।

৬) আগের থেকে এখনকার চিনের রেলব্যবস্থার ফারাক আকাশ আর পাতালের- আজ থেকে বছর ৩০ আগেও চিনের ট্রেন ব্যবস্থা একেবারে খারা ছিল। মাত্র ৩৭ মাইল প্রতি ঘণ্টায় ট্রেন চড়ত। ট্রেনের সংখ্যাও কম থাকায় খুব ভিড় হত। ট্রেন, স্টেশনও বেশ নোংরা ছিল। চিন তখন গাড়ি বা সড়ক পরিবহণেই ভরসা করত। তারপর রেল ব্যবস্থায় সরকার নজর দেয়। আর তাতেই দুনিয়ার অন্যতম সেরা রেল ব্যবস্থা এখন চিনে রয়েছে।

৫) চিনের ট্রেনের লোগো যিনি তৈরি করেন তিনি ট্রেনে চাপা পড়ে মারা যান। চিনের ট্রেনের লোগো তৈরি করেন চেন ইয়াংচং। ১৯৫০ সালের ২২ জানুয়ারি এই লোগো প্রথম ব্যবহার করা হয়। সেই চেনের লেভেল ক্রসিং পার করার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মারা যান।

৪) চিনে অদ্ভুত অদ্ভুত জায়গায় রেল প্রজেক্ট বসানোর পরিকল্পা ও কাজ চলছে- মাউন্ট এভারেস্টের ওপর দিয়ে লাইন পেতে চিন-নেপাল ট্রেনের কাজ যেমন শুরু হচ্ছে, তেমনই মাটির তলা থেকে ফুঁড়ে হঠাত॥ আস্ত পাহাড়ে খাঁড়াই উঠে যাওয়ার (অনেকটা রাইডের মত) ব্যবস্থাও হচ্ছে। এমনকী বেজিং থেকে ওয়াশিংটন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রূপয়ান থেকে আর ধাপ দূরে চিন। চিন থেকে রাশিয়া, চিন থেকে কানাডা সরাসরি রেলপথ তৈরির পরিকল্পনাও নাকি একেবারে শেষধাপে আছে।

৩) চিনে রেকর্ড সংখ্যাক দুর্ঘটনা ও ভয়াবহ দুর্ঘটনার নজির রয়েছে– ২০১১ সালে বেজিংয়ে এক ট্রেন বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ ছিল ট্রেনে বাজ পড়া। দেখা ট্রেনের ডিজাইন ঠিক রাখার জন্য বজ্যর্নিরোধক যন্ত্র খুলে রাখা হয়েছিল। তা ছাড়াও চিনে গত দশ বছরে অন্তত ৪০টি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। যার পিছনে কারণহল ট্রেন অত্যধিক জোরে চালানো!

২) চিনের রেলওয়ে থেকে মোটা টাকা রোজগার করে সরকার। কিন্তু জানেন কী চিনের ৯০ শতাংশ লাইনেই আর্থিক ক্ষতিতে চলে হয়। শুধু পূর্বাঞ্চলের ট্রেন থেকে চালানো টাকাতেই ভে চলে চিনের ট্রেন।

১) চিনের আধুনিক ট্রেনের যাকে জনক মনে করা হয় তাঁর নাম লিউ ঝিউইন। লিউ হলেন ধনকুবের ব্যবসায়ী, চিনে বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তে গগণচুম্বি অট্টালিকা তৈরি করেন। তিনিই চিনে বুলেট ট্রেন সহ নানা হাইস্পিড ট্রেন চালানোর পিছনে বড় ভূমিকা নেন। চিনের ট্রেনের গতি ৮০ কিমি-থেকে ৩০০ কিমিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ট্র্যাকের প্রয়োজন তাঁর ব্যবস্থা করেন। ২০০৩ সালে তাঁকে চিনের রেলমন্ত্রী করা হয়। রেলমন্ত্রী হয়ে চিনের রেলব্যবস্থাকে আমুল বদলে ফেলেন। ২০১১ সালে তিনি বিশ্বের অন্যতম হাইস্পিড ট্রেন চালু করেন চিনে। কিন্তু ২০১৩ সালে তাঁকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। ২০১৪ সালে তাঁর ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের রেলব্যবস্থায় অবদানের কথা মাথায় রেখে ফাঁসির বদলে তাঁকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি এখন বেজিংয়ের এক কারাগারে অন্ধ কুঠুরিতে কারাবাসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: