ব্যাঙ্কের এটিএমের ফেইলড ট্রানজ্যাকশনে এবার থেকে গ্রাহকদের মিলবে ক্ষতিপূরণ!

বিজ্ঞান যত এগিয়েছে ততই এগিয়েছে সভ্যতা। নতুন নতুন যন্ত্রের আবিস্কার আমাদের কাজের গতিকে বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটাই। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে নানা রকম ঝামেলাও। খুব বেশি যন্ত্র নির্ভর হয়ে পড়ার ফলে ভোগ করতে হয় অনেক বেশি অসুবিধাও। আর সেই অসুবিধার মোকাবিলায় পোহাতে আরও অনেক বেশি ঝামেলা। মানি ডিজিটালাইজেশনের অনেক আগেই আমরা পেয়েছি এটিএম মেশিন। যাতে ২৪ ঘন্টাই আমরা পেতে পারি ব্যাঙ্কিং সুবিধা। যাতে প্রয়োজনে যখন তখন আমরা পেতে পারি টাকা। ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে এখন আর ঝক্কি পোহাতে হয় না। কিন্তু এতে যেমন সুবিধা রয়েছে অসুবিধাও প্রচুর। যেমন ধরা যাক এই মুহুর্তে আপনার জরুরী অবস্থায় টাকা দরকার, আপনি বাড়ী থেকে বেড়িয়ে গেলেন এটিএমে। কার্ড সোয়াইপ করে, পিন পাঞ্চ করে দিলেন টাকার পরিমান। অথচ টাকা বেরোলো না। এদিকে আপনার মোবাইলে চলে এল নোটিফিকেশন, ওই অঙ্কের টাকা আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। অথচ আপনি টাকা পেলেন না। ব্যাঙ্কের লাইন থেকে বাঁচতে আপনি গিয়েছিলেন এটিএমে। কিন্তু এই সমস্যায় আবারও আপনি ব্যাঙ্কে ছুটবেন লাইনে দাঁড়িয়ে অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে ব্যাঙ্ককে জানাবেন আপনি টাকা পান নি, ব্যাঙ্ক সেই নির্দিষ্ট এটিএমের আইডি পরীক্ষা করে এনকোয়ারি করবে তবে আপনি ফেরত পাবেন টাকা। জলদির চক্করে আপনি ফেঁসে গেলেন আরও ঝামেলায়। তবে আর চিন্তা নেই। ব্যাঙ্কিং সংস্থাগুলি নিয়ে এসেছে আপনার জন্য নতুন সুবিধা।

এই সুবিধায় এটিএমে আপনি টাকা তো পাবেন ই, বরং যদি ব্যাঙ্কের তরফে কোনো গাফিলতি দেখা দেয় তাহলে পাবেন ক্ষতিপূরণও। তারজন্য আপনাকে করতে হবে সামান্য কাজ। আপনার এটিএম কার্ড যে ব্যাঙ্কের সেই ব্যাঙ্কের কাছে জানাতে হবে অভিযোগ লিখিত আকারে। এমনকী যদি আপনি অন্য ব্যাঙ্কের এটিএমেও নিজের কার্ড পাঞ্চ করেন সেক্ষত্রেও আপনাকে অভিযোগ জানাতে হবে আপনি যে ব্যাঙ্কের কাস্টোমার সেই ব্যাঙ্ককেই। ব্যাঙ্কের কাছে করা লিখিত অভিযোগে আপনাকে কি কি উল্লেখ করতে হবে তা নীচে দেওয়া হল।

People queue outside an ATM of State Bank of India (SBI) to withdraw money in Kolkata, India, November 22, 2016. REUTERS/Rupak De Chowdhuri

১। আপনার অভিযোগ পত্রে আপনার ব্যাঙ্ক ডিটেলস – যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নাম্বার, ব্রাঞ্চ ইত্যাদি থাকতে হবে। তারপর যে এটিএম থেকে আপনি টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়েছে তার ডিটেলস আপনাকে লিখতে হবে। টাকা তোলার সময় যে স্লিপ আপনি এটিএম থেকে পান সেখানেই অবশ্য সেই ডিটেলস লেখা থাকে।

২। দ্বিতীয়ত আপনার ওই অভিযোগপত্রে থাকতে হবে টাকা তোলার তারিখ ও সময়, যা আপনি পেয়ে যাবেন ওই স্লিপেই, এবং আপনার মোবাইলের এসএমএসে।

৩। এটিএম থেকে যে ট্রানজ্যাকশন স্লিপটি পেয়েছেন সেটিও জুড়ে দিন অভিযোগের সঙ্গে। তবে অরিজিনালটি নিজের কাছেই রাখুন, ফটোকপি করে তা জুড়ে দিন অভিযোগ পত্রে।

আরবিআই বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ অনুসারে কোনো ব্যাক্তি যদি অভিযোগ করেন তাহলে অভিযোগ জমা দেওয়ার সাত দিনের মাথায় ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত দিতে হবে নির্দিষ্ট ব্যঙ্ককে। যদি কোনো ব্যাক্তি অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও ফেইলড ট্র্যানজ্যাকশনের টাকা ৩০ দিনের মধ্যে নিজের অ্যাকাউন্টে ফেরত না পান তাহলে নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ককে সেই গ্রাহককে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

People queue outside an ATM of State Bank of India (SBI) to withdraw money in Kolkata, India, November 22, 2016. REUTERS/Rupak De Chowdhuri

যদি ব্যাঙ্ককের কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে ওই ব্যাঙ্কএর গ্রাহক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। আরিবিআই এই সুবিধা জনক নিয়ম চালু করেছে গত ২০১১ সালের পয়লা জুলাই থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: