বাঙালির রসগোল্লা এখন ২৫০ রকম অভাবনীয় ফ্লেভারে!

বাঙালির জীবনে দুর্গাপুজো,ভাইফোঁটার মত এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হল রসগোল্লা। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেমন বাঙালির বিবর্তন ঘটেছে ঠিক তেমনি ঘটেছে রসগোল্লার। এখন রসগোল্লার স্বাদ আস্বাদন করা যাবে প্রায় ২৫০ রকম ফ্লেভারে। আর এই অভাবনীয় কান্ডের পেছনে যিনি রয়েছেন তাঁর নাম স্বাতী শরফ্।

বাড়ির ঐতিহ্য বজায় রেখে রসগোল্লা এবং অন্যান্য মুখরোচক মিষ্টি তৈরি করে থাকেন স্বাতী। প্রথম শুরু করেন প্রায় ৫০ টি আলাদা স্বাদের রসগোল্লার মাধ্যমে। এখন তাঁর কাছে পাওয়া যাবে প্রায় ২৫০ টি ভিন্ন স্বাদ।

রসগোল্লার ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে,ভারতের ওড়িশায় প্রথম রসগোল্লা প্রস্তুত করা হয়েছিল। রথযাত্রা উৎসবে এর ব্যবহারের কথা জানা যায়। এর পর এই রসগোল্লা জনপ্রিয় হয়ে, পাশের রাজ্যগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কলকাতায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে রসগোল্লার আদি উৎপত্তিস্থল বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল অঞ্চলে। বিশেষ করে, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় পর্তুগীজদের সময় সেখানকার ময়রাগণ ছানা, চিনি, দুধ ও সুজি দিয়ে গোলাকার একধরণের মিষ্টান্ন তৈরি করেন যা ক্ষীরমোহন বা রসগোল্লা নামে পরিচিত। পরবর্তীতে বরিশাল এলাকার হিন্দু ময়রাগণের বংশধর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতা কিংবা ওড়িশায় বিস্তার লাভ করে।

বাংলা সাহিত্যেও এই রসগোল্লাকে নিয়ে রচিত হয়েছে সরেস সাহিত্যকর্ম। বিশিষ্ট রম্য সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী রচনা করেছেন বিখ্যাত রম্যগল্প “রসগোল্লা” যা ইউরোপের বহু দেশে সমাদৃত হয়েছে। তবে রসোগোল্লার আদি জন্ম নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ আর উড়িষ্যার মধ্যে একটি মামলা চলছে যায় নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।

ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লার বাইরে প্রথম অন্যরকম স্বাদে বাঙালি পায় স্পঞ্জ রসগোল্লা। যা স্পঞ্জের মতো নরম। ১৮৬৮ সালে কলকাতার নবীন চন্দ্র দাস প্রথম ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লার বদলে এই ধরনের রসগোল্লা তৈরি করেন বলে জানা যায়।

তবে স্বাতী শরফ্ যে অবিশ্বাস্য কান্ড করেছেন তা বোধহয় কেউ ভাবতেই পারেননি। গ্রীন চিলি,ফুচকা,ব্লুবেরি,কেশর বাদাম,বাটার স্কচ,কাঁচা আম,লেমন এই সব ফ্লেভারের রসগোল্লা এখন বাঙালির হাতের মুঠোয়। এছাড়াও চকলেট,আলফানসো,মিক্স ফ্রুট,ক্যাপুচিনো এবং খাদ্যরসিক বাঙালির জন্য বিয়ার,বৃজার এবং ভদকা ফ্লেভারের রসগোল্লা ও বিদ্যমান। ট্যাংরার অ্যাক্টিভ অ্যাক্রেসে প্রতিদিন দশটা থেকে আটটা অবধি পাওয়া যায়। দাম শুরু প্রতি পিস ২৫ টাকা থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: