রাতে বা ভোরে বাথরুমে যান? এগুলি না মানলে হতে পারে শারীরিক রোগ!

মানুষের শরীর এক জটিল জৈব-রসায়নাগার। প্রতি মুহূর্তেই নানাবিধ রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে দেহে। অসংখ্য জৈবিক কার্যাবলি চলছে শরীরের ভেতরে, যা পুরোপুরি এখনও বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। কিছু কিছু শারীরিক ব্যবস্থার কথা শুনলেই থ’ হয়ে যেতে হয়। মানবদেহে মস্তিষ্কের কার্যাবলী অতি গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের কোনো একটি প্রক্রিয়াকে পৃথকভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ বলাটা আসলে পুরোপুরি ঠিক নয়।

কেননা, অল্প থেকে অধিক, সকল কাজই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এদের কোনো একটিকে ছাড়া বাকিগুলো অচল। মস্তিষ্ক থেকে উৎপন্ন ১২ জোড়া স্নায়ু রয়েছে। স্নায়ুগুলো অনেক শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পুরো শরীরের সাথে মস্তিষ্কের যোগাযোগ সম্পন্ন করে থাকে।


কোনওকিছুই তাড়াতাড়ি করা উচিৎ নয়। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর। অনেক সময় এমন হয় যে, ঘুমানোর জন্য শুয়েছি, আধো আধো চোখ লেগে এসেছে অথবা ঘুমিয়ে পড়েছি, হঠাৎ করে আমাদের পুরো শরীরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে, যেন কারেন্টের শক খেলাম। যদি ঘুমন্ত থাকি, তাহলে এর দ্বারা ঘুম ভেঙে যাবেই। এ সময় আমাদের শরীরে যত মাংসপেশী আছে, সবগুলো একসাথে ঝেঁকে ওঠে, ঘুম ভেঙে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।


ঘুম যখন গাঢ় হতে শুরু করে, তখন শ্বসন হার ধীরে ধীরে কমতে থাকে, পাল্‌স হ্রাস পায় সামান্য। মাংসপেশী রিল্যাক্স হতে শুরু করে, যেহেতু আরাম করেই শুয়েছি বিছানায়। তখন আমাদের মস্তিষ্ক ধরে নেয়, আমরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। তাই মস্তিষ্ক পুরো শরীরে একটি ঝাঁকুনি সৃষ্টি করার মাধ্যমে আমাদের আবার জাগিয়ে তোলে। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ঘটনা, তা-ও কতটা স্বাভাবিক মনে হয় আমাদের।

যারা রাত্রে বা ভোরে বাথরুমে যাবার জন্য ঘুম থেকে ওঠেন তাদের জন্য ডাক্তারদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ –

হুট করে ঘুম থেকে উঠেই দাঁড়িয়ে পড়ার দরুন আপনার মস্তিষ্কে সঠিকভাবে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারেনা। যার ফলে হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনাও। ডাক্তাররা ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যাওয়ার আগে সবাইকে ‘দেড় মিনিট’ সময় নেওয়ার কথা বলছেন। এটা অনেকটা একটা ফর্মুলার মতো।


এই দেড় মিনিট সময় নেওয়া খুব জরুরি। কারণ এটা কমিয়ে দেয় আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা। হঠাৎ এই উঠে পড়ার সময়ে এই দেড় মিনিটের ফর্মুলা বাঁচিয়ে দিতে পারে আমাদের অমূল্য জীবন।

১। যখন ঘুম থেকে উঠবেন, হুট করে না উঠে মিনিমাম তিরিশ সেকেন্ড বিছানায় শুয়ে থাকুন।
২। এরপর উঠে বিছানায় বসে থাকুন তিরিশ সেকেন্ড।
৩। শেষ তিরিশ সেকেন্ড বিছানা থেকে পা নামিয়ে বসুন।

এই দেড় মিনিটের কাজ শেষ হওয়ার পর আপনার মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছাবে। যা আপনার হার্ট অ্যাটার্ক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি একদম কমিয়ে আনবে।
মনে রাখা দরকার, যে কোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সাবধান থাকতে হবে সবাইকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: