অলিভ অয়েল আর লেবুর মিশ্রণে ম্যাজিক; পাবেন এই ৪ টি উপকার!

লেবু প্রতিদিনই আমাদের পাতে থাকে। সে টুকরো হোক কিংবা স্যালাড হিসাবে অথবা পানীয়তে। কিন্তু এটা বাদেও লেবুর অনেক উপকারি গুণ আছে। স্বাস্থ্যের জন্য ভালো তো বটেই রোগ নিরাময় করতেও এর জুড়ি নেই। এর সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশলে সোনায় সোহাগা। অলিভের স্বাস্থ্যকর গুণের জন্য একে ‘শরীরে শান্তির দূত’ বলা হয়। আরবিতে ডাকা হয় জয়তুন নামে। ভেষজ গুণে ভরা এই ফলটি লিকুইড গোল্ড বা তরল সোনা নামেও পরিচিত।
লেবু আর অলিভ অয়েলের মতো দুটো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ভিন্ন ব্যবহার অনেক সমস্যারই সমাধান করতে পারে। শরীরও সুস্থ রাখে।


এক চা চামচ অলিভ অয়েল ও এক চা চামচ লেবুর রস। মিশিয়ে দিন। তারপর ব্যবহার করুন। কাজ হবে ম্যাজিকের মতো। এতে রয়েছে ৬ ভাগ সাইট্রিক অ্যাসিড, প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, বি৩, বি১, বি২, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, কার্বোহাইড্রেট ফ্যাট এবং প্রোটিন। প্রাচীন কাল থেকে এই তেল ও লেবুর মিশ্রণের ব্যবহার হয়ে আসছে রন্ধন কর্মে ও চিকিৎসা শাস্ত্রে। পেটের জন্য খুব ভালো। ত্বকের যত্নে ভালো কাজ করে। মাথাব্যথা, বাত, পেটের সমস্যায় ভালো কাজ দেয়। ত্বকে চুলকানির সমস্যা রয়েছে, ম্যাসাজ করতে পারেন। শিশুর ত্বকেও নিরাপদ।

ত্বক, চুল ও পেটের সমস্যায়


লেবু ও অলিভ অয়েল মিশ্রণের কোনও পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই। খালি পেটে জলের সঙ্গে এই মিশ্রণ খাওয়া যেতে পারে। মৃত কোষ গুলোর জন্য ত্বক অনুজ্জ্বল দেখায়। মৃত কোষ গুলোকে পরিষ্কার করার জন্য দরকার স্ক্রাবার ব্যবহার করা। লেবুর রস ও অলিভ অয়েলের মিশ্রণ দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন স্ক্রাবার। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই পদ্ধতিতে পুরো মুখ, হাত, পা ম্যাসাজ করুন। ধীরে ধীরে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বক বাঁচায়।

বলিরেখা দূর করতে দারুণ কার্যকর। ত্বকে আদ্রতা আনে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় দেহের কোষ ও ত্বককে অকাল বার্ধক্যের হাত থেকে রক্ষা করে। এই মিশ্রণ চুলের লাইটনারের কাজ করে। সূর্যের প্রখর তাপ থেকে রক্ষা করে। শ্যাম্পুর পরেও লাগানো যায়। শরীরের সমস্ত টকশিন বের করে দিতে পারায় পেটের সমস্যা দূর হয়। হজম শক্তি বাড়ায়।

ব্যাথা কমায়, রক্ত সংবহন বাড়ায়

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় রক্ত সংবহন বাড়ে। কোলস্টেলেরের মাত্রা কমায়। শরীরের যে কোনও জায়গায় ব্যাথা হলে এই মিশ্রণ ম্যাসাজ করুন। আধ ঘণ্টার মধ্যে আরাম মিলবে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে


এই মিশ্রণে আছে ক্যান্সার বিরোধী ২২ প্রকার যৌগ। যা ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। দেহের প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে সক্ষম। আর হ্যাঁ, একবার এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে এর প্রেমে পড়ে যাবেন। বাজি রেখে একথা বলা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: