গোয়াতে এখন ‘Paid Sex’ – এর জন্য চাই আধার কার্ড!

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইলের সিম কার্ড নিতে আধার নম্বর বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্র সরকার। ইচ্ছে না থাকলেও প্যান কার্ডকেও আধারের সঙ্গে জুড়তে হয়েছে দেশের প্রতিটি আম নাগরিককে। এবার অর্থের বিনিময়ে নারীর শরীর কিনতে গেলেও আধার বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছে। তবে, সরকারি কোনও নিয়ম নয়, বেসরকারি নিয়মে মধুচক্র চালানো দালালরা খদ্দেরদের কাছ থেকে তাঁদের আধার কার্ড চাইছেন পছন্দ মতো মেয়ে/নারী সাপ্লাই দেওয়ার আগে। ব্যাপারটা তাহলে খোলসা করেই বলা যাক। দিল্লির একটি ছেলেদের গ্রুপ সম্প্রতি এরকমই একটি ঘটনর সামনে পড়ার পরই ব্যাপারটা জানা গিয়েছে।

পশ্চিম ভারতের বিখ্যাত পর্যটন স্থল গোয়া। ভারতের এই সমুদ্র উকূলবর্তী রাজ্যের সংস্কৃতি একেবারেই আলাদা। পশ্চিমী কায়দার একটু জীবন-যাপন করতে চাইলে, কয়েকদিনের জন্য বেড়িয়ে আসতে পারেন গোয়া থেকে। বিমান, রেল ও সড়ক সব পরিবহন ব্যবস্থাই রয়েছে। দেশের যে কোনও প্রান্ত থেক অতি সহজেই পৌঁছনো যায় গোয়াতে। এমন ফুলটুস মস্তি আর বাঁধন ছাড়া জীবন-যাপন আর কোথাও উপভোগ করতে দেবে না আপনাকে। বন্ধুর বিয়ের আগে ব্যাচেলর পার্টি উপলক্ষ্যে তাঁকে নিয়ে চার বন্ধু গোয়াতে গিয়েছিলেন একটু মজা করতে। অর্থের বিনিময়ে শরীরের যৌনতার খিদে মেটানোর জন্য দালালের নাম্বার আগে থেকেই ছিল। পাঁচ বন্ধু থাকার জন্য বুকিং করেছিলেন উত্তর গোয়ার সমুদ্র তট সংলগ্ন একটি হোটেলে। সেখানে পৌঁছেই দালালকে ফোন করে পাঁচটি মেয়ের খোঁজ করেন। অর্থের বিনিময়ে শরীর কেনার জন্য আর কি। পশ্চিমী দেশগুলিতে যেমন হয়ে থাকে।

দালাল তাঁদের জানান, একটু পরেই যোগাযোগ করছেন তিনি। এর মাঝে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে করতে কেটে যায় পাঁচ বন্ধুর। ওদিকে, মধুচক্রের দালাল তখন যে মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করা হয়েছিল, সেটা যাচাই করে দেখেন। সত্যিই তাঁরা দিল্লি থেকে এসেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের ফোন করেন ওই দালাল। ফোন করেই পাঁচজনকে তাঁদের আধার কার্ডের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলেন। সঙ্গে হোটেলের যে রুমে রয়েছেন, সেই রুমের চাবির ছবিও ওই দালাল পাঠাতে বলেন। এভাবে আধার ও হোটেলের চাবি দেখতে চাওয়ায় ভড়কে যায় দিল্লি থেকে আসা পাঁচ বন্ধু। ওদিকে, দালাল হেটেলের আশেপাশের খবর নিয়ে দেখে কোনও পুলিশের দল লুকিয়ে আছে কি না মধুচক্রের ব্যবসা ধরার জন্য। শেষ পর্যন্ত কারওরই যৌন খিদে না মেটায় ব্যাপারটা সামনে আনে দিল্লি থেকে যাওয়া পাঁচ যুবক। গোয়ায় ইদানিং দেহ ব্যবসা বেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। বিদেশি মেয়েরাও অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের দায়ে যেমন নিজের শরীর বিকোচ্ছেন ভারতে বেড়াতে এসে, তেমনই বিদেশিদের থেকে মোটা অর্থ আদায় করার জন্য প্রচুর মধুচক্র গড়ে উঠেছে গোয়াতে।

তাছাড়া, ভারতের নানা স্থান থেকে নাবালিকা এবং যুবতীনারীদের এই গোয়া থেকেই বেশি মাত্রায় বিক্রি করা আর পাচার করা হয় অন্য দেশে। এই অবাধ নারীপাচার ও দেহব্যবসাতে লাগাম টানতে পুলিশ ইদানিং নিজেই খদ্দের সেজে দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করছে। সেই ভয়েই দালালরা গ্রাহকের কাছে মেয়ে পাঠানোর আগে আধার কার্ড চেয়ে দ্বিতীয়বার নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছেন পুলিশের কোনও ব্যক্তি কি না ফোন করে মেয়ে কিনতে চাওয়া গ্রাহক! এক পুলিশ অফিসার এবিষয়ে বলেন, অনেক সময় এত কিছু খুঁটিয়ে দেখার পরও মেয়ে পাঠানো হয় না। কারণ, পাঁচ-দশবার খবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরও ধরা পড়েছে মেয়েরা অর্থের বিনিময়ে অচেনা ব্যক্তির কাছে শরীর বিক্রি করতে এসে। এভাবে একসঙ্গে পাঁচ-দশটা মেয়ে ধরা পড়লে ব্যবসাতেও মন্দা হয়।

উল্লেখ্য, গোয়াতে আসা অনেক পর্যটককেই নানান ওয়েব সাইটের মাধ্যমে নারীর শরীরে লোভ দেখানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে পেইড-সেক্সের প্রলোভন দেখানো হয়। যদিও নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রেই পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণা হয়।

অনেক ক্ষেত্রেই দালাল খদ্দেরকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনও হোটেলের সামনে যায়। তারপর ব্যালকানিতে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখায়। মেয়েটি হাত নেড়ে ইশারা করলে দালাল খদ্দেরের কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেয়। তারপর তাঁকে হোটেলের নির্দিষ্ট ঘরে চলে যেতে বলা হয়। দালালের কথা মতো খদ্দের যখন সেই নির্দিষ্ট হোটেলে রুমে গিয়ে দরজার নক করেন। কিন্ত কেউ দরজা খুলছে না দেখে দরজায় নক করার আওয়াজ বাড়লেই আশেপাশের রুমের লোকজন বেরিয়ে অযথা চেঁচামেচি শুরু করে দেন। অর্থের বিনিময়ে নারী শরীরের লোভে আসা গ্রাহক তখন নিজের মান বাঁচাতে পালাতে বাধ্য হন সেখান থেকে। পুলিশের থেকেই জানা গিয়েছে, যাঁরা আশেপাশের রুম থেকে চেঁচামেচি করে বেরিয়ে এসে, তাঁরা সম্ভবত মধুচক্রের দালালদের সঙ্গেই যুক্ত। আসলে নারী শরীরের লোভ দেখিয়ে লোক ঠকিয়ে অর্থ উপার্জন করা হয় এভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: