ভারতে এসে মুগ্ধ ট্রাম্প কন্যা, দেশে ফেরার আগে ওয়েট্রেসকে দিয়ে গেলেন মোটা অঙ্কের টিপস

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে দিনদিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। ইভাঙ্কার ব্যবসায়িক বুদ্ধি বেশ প্রখর। ভুলে গেলে চলবে না, তিনি কার মেয়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে থেকে একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি ধনকুবের হওয়ার সুবাদে। ব্যবসা করেই ট্রাম্প পরিবার আজ প্রাচুর্যের ওপর বসে রয়েছে। বলতে গেলে ব্যবসায়িক বিষয়টা রক্তের মধ্যেই রয়েছে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের। তার সঙ্গে সুন্দর রূপের মিশেল ঘটেছে। তবে, সে যাইহোক, ট্রাম্প কন্যা বর্তমান প্রজন্মের প্রতিভাবান উদ্যোপতিদের মধ্যে একজন। এছাড়া, আরও অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইভাঙ্কার নাম খ্যাতির শীর্ষে।

গত সাত বছর ধরে গ্লোবাল অঁতরপ্রিনরশিপ সামিট – সংক্ষেপে জিইএস অনুষ্ঠিত হয়েছে আসছে। এবার হায়দরাবাদে অষ্টম জিইএস-এর আসর বসেছিল। এই শিখর সম্মেলনের মূ্ল উদ্দেশ্য হলো প্রতিভাবান উদ্যোগপতিদের সমগ্র বিশ্বের কাছে পরিচিত করা। এছাড়া, সমগ্র বিশ্বে বাস্তুতন্ত্রের যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে দিনদিন, তার সমাধান সূত্র বের করারও আদর্শ মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয় এটিকে।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং ভারতের নীতি আয়োগ যৌথ উদ্যোগে গত মাসের আটাশ থেকে তিরিশে নভেম্বর জিই শিখর সম্মেলনের আয়োজন করেছিল হায়দরাবাদে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া গঠনে বিশেষ উদ্যোগী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেদেশের রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা। তিনি আবার রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টাও।
ইন্দো-মার্কিন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শিখর সম্মেলনে যোগ দিতে হায়দরাবাদে ইভাঙ্কা এসে পৌঁছন নভেম্বর মাসের শেষ মঙ্গলবার। শহরের শামসাবাদের একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে ইভাঙ্কা ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়। ভোর রাত তিনটে পনেরো নাগাদ বিমানবন্দরে এসে পৌঁছনোর পর অভ্যর্থনায় এতোটাই মুদ্ধ হন ট্রাম্প কন্যা যে সকলকে ধন্যবাদ জানাতেও কার্পন্য করেননি। সেই সঙ্গে এই কথাও জানান, জিইএস উপলক্ষ্যে ভারতে এসে বেশ খুশি তিনি।


হোটেলে পৌঁছেই ট্যুইট করেন ইভাঙ্কা। কোটি কোটি ভারতবাসীর সঙ্গে নিজের খুশি এবং উদ্যোগ ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প কন্যা ট্যুইট করেন, ”উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ। জিইএস-২০১৭’র জন্য ভারতের হায়দরাবাদে এসে আমি অত্যন্ত উৎসাহিত।”

ইভাঙ্কার সঙ্গে যে প্রতিনিধি দলটি ভারতে এসেছিল, তার সদস্য সংখ্যা শুনলে চমকে উঠতে হবে। ভারত ও মার্কিন প্রতিনিধি মিলিয়ে মোট ৩৫০জন ব্যক্তি ছিলেন ওই দলে। এদিকে, জিই শিখর সম্মেলন অংশ নিয়েছিলেন ১২০০-র মতো তরুণ উদ্যোগপতি। সর্বকণিষ্ঠ উদ্যোগপতি হিসেবে যিনি অংশ নিয়েছিলেন, তাঁর বয়স মাত্র তেরো বছর বলে আয়োজক কর্তৃপক্ষের থেকে জানানো হয়। বেশিরভাগই মহিলা উদ্যোগপতিরা অংশ নিয়েছিলেন এই সম্মেলনে।


তবে, যে কারণে ইভাঙ্কা আরও বেশি করে খবরে এসেছেন, তা হলো তার দিলদরিয়া মনোভাবের জন্য। হায়দরাবাদের যে ট্রাইডেন্ট হোটেলে তাঁর থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, সেখানে তাঁর জন্য ব্যক্তিগত ওয়েট্রেস রাখা হয়েছিল। আর সেই মহিলার তত্ত্বাবধানে এতটাই খুশি হয়েছেন ইভাঙ্কা যে ভারত ছেড়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় তাঁকে পনেরো হাজার মার্কিন ডলার (৯ লক্ষ ভারতীয় মুদ্রায়) টিপস হিসেবে দিয়ে গিয়েছেন। আশ্চর্য হতে হয় এই কারণে, ওই ওয়েট্রেসকে মাস মাইনে হিসেবে দশ হাজার টাকা দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। সেখানে পনেরো হাজার ডলার পাওয়া মানে, লটারি জেতার সমান।

গ্র্যাজুয়েট হয়ে কি করছেন? – আম্বানির ড্রাইভারের মাইনে শুনলে ভিরমি খেতে হবে
মুক্ত, রুপো এবং অন্যান্য অলঙ্কারের গয়না বিক্রির জন্য বিখ্যাত হায়দরাবাদের লাডবাজার বা চুড়ি বাজারে শপিং করার ইচ্ছে থাকলেও নিরাপত্তার কারণে ইভাঙ্কা সেখানে যেতে পারেননি। বিখ্যাত চার্মিনার গেট দেখার সৌভাগ্যও এই কারণে ছাড়তে হয় মার্কিন রাষ্ট্রপতির সেলিব্রিটি উপদেষ্টাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: