ডিগ্রি ছাড়াই এই ১০ টি চাকরীতে মেলে মোটা মাইনে!

যদি আপনি ভেবে থাকেন আপনার কাছে ব্যাচেলর ডিগ্রী না থাকে, আপনি জীবনে কিছু করতে পারবেন না, এই চাকরিগুলির বেতন দেখার পর আপনার ধারণাটাই বদলে যেতে পারে। তবে, এই চাকরি গুলি আপনি কোনো ডিগ্রী ছাড়া পেলেও, আপনাকে আপনার দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি দিতে হতে পারে।

আসুন দেখে নেওয়া যাক সেই সমস্ত কাজ গুলি যেগুলোতে আপনি ডিগ্রি ছাড়াও মোটা টাকা কামাতে পারবেন

১) ওয়াইন টেস্টার:

এটা দারুণ একটা চাকরী। আপনাকে শুধু একবার চেখে দেখতে হবে কেমন হয়েছে কোম্পানির নতুন ওয়াইনটা। আপনার যদি পান করে ভাল লাগে তবেই কোম্পানি সেই ওয়াইনটাকে বাজারে আনবে। তাহলে কাজটা বুঝলনে তো! বসে বসে ওয়াইন খাওয়া। মানে স্বাদকোরকের যা চাপ আর কী। আর ওয়াইন টেস্টার হওয়ার জন্য বিশেষ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। শুধু বসে বসে…থাক। আর হ্যাঁ, মাইনে, দুনিয়ার সেরা সেরা কোম্পানির ওয়াইন টেস্টাররা কোটিপতে এটুকু বলতে পারি।

বেতন বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা !

২) পেশাদার ঘুমিয়ে:

এরা শুধু পড়ে পড়ে ঘুমায়, আর টাকা কামায়। ঘুমানোটাই এদের পেশা। যখন দরকার তখন ঘুমোবে। নাসা তো এরকম পেশাদার ঘুমিয়েদের লাখ লাখ টাকা মাইনে দেয়। পেশাদার ঘুমিয়েদের ওপর চলে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা। দিনে কম করে ১২-১৪ ঘণ্টা ঘুমোতেই হয়। ওভারটাইম হলে ওটা ১৬-১৮ ঘণ্টাও হয়ে যায়। আর ঘুমোতে তো আর ডিগ্রি লাগে না। তাই শিক্ষাগত যোগ্যতা না থেকেও শুধু ঘুমিয়ে মাসে মোটা টাকা রোজগার করা যায় পেশাদার ঘুমিয়ে বা প্রফেশনাল স্লিপার হয়ে।

 

৩) পারফিউম টেস্টার:

গন্ধ শুঁকে রোজগার। বাজারে হাজারও ধরনের ফ্লেভার। মানুষকে পারফিউম কেনাতে হলে গন্ধের
রকম ফের চাই। গন্ধের বৈচিত্র চাই। গন্ধে নতুনত্ব চাই। কিন্তু সবার তো আর নাক থাকে না। না মানে থাকে, কিন্তু
নাক থাকলেই তবে হবে না, নাকের মত নাক চাই। তা সেই নাকের জন্য মাস গেলে মেলে লাখ লাখ টাকা। ফরাসি এক
সুগন্ধী কোম্পানিতে তাদের টেস্টারকে কোটি টাকা বোনাসই দেয়। তা নাকের জন্য তো আর ডিগ্রি লাগে না। লাগে নাকের
মত নাক। নাকে হাত দিয়ে দেখুন তো আপনারও নাকের মত নাক আছে কি না।

৪) পেশাদার আলিঙ্গনদাতারা:

হ্যাঁ, হাগিং বা আলিঙ্গন করাটাও একটা বড় পেশা বা চাকরী। জাপান, ফ্রান্স, ইতালিতে বেশ কয়েকটি সংস্থা পেশাদার আলিঙ্গনদাতাদের নিয়োগ করে থাকে। যাদের কাজ হল চাপে থাকা, বা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া মানুষদের জড়িয়ে ধরে মনের জোর বাড়ায়। আসলে মুন্নাভাইয়ের জাদু কী ঝাপ্পির মত এই পেশাদার আলিঙ্গনদাতারা অনেক কষ্ট দূর করে দেয়। আর এই জন্য মোটা মাস মাইনে মেলে। জানা কথা, কাউকে জড়িয়ে ধরে কেনই বা শিক্ষাগত ডিগ্রি লাগবে। দরকার শুধু ভাল মানুষ হওয়া, মনটা ভাল হওয়া, আর জড়ানোর মতো ক্ষমতা থাকা!!!

 

 

৫) এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার:

বিমানের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন এরাই। উড়তে বললে ওড়ো, ঘুরতে বললে ঘোরো। পাইলেটর কিচ্ছু ক্ষমতা নেই মশাই। প্লেনের যাবতীয় কারসাজি এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার নিয়ন্ত্রণ করেন। মজার কথা, পাইলট হতে গেলে বিশেষ প্রশিক্ষণ, ডিগ্রি লাগে। কিন্তু পাইলট যাদের রিমোট কন্ট্রোলের মত কাজ করে, সেই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হতে হলে কিন্তু আহামরি ডিগ্রি-র দরকার হয় না। মোটা মাইনে, সম্মানের এই কাজের জন্য শুধু প্রয়োজন মনসংযোগ, দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আর ধৈর্য্য।

বেতন বছরে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা !

 

৬) রেডিয়েশান থেরাপিস্ট:

দারুণ একটা কাজ। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে এই কাজটা করে মোটা টাকা রোজগার করা যায়। আর ডিগ্রি! ধুস, ওসব ফাইলবন্দি থাকুক।

বেতন বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা !

 

৭) বহুতলের লিফট তৈরি ও সারানো:

কলকাতায় বসে এটা বুঝতে পারবেন না। বুর্জ খালিফার মত উচ্চতম বিল্ডিংয়ে যিনি লিফট মেনটেন করেন তার মাইনে আকাশছোঁয়া। শুধু বুর্জ খালিফা কেন, লিফট তৈরি, সারানো, মেনটন এমন একটা কাজ যার জন্য ডিগ্রি লাগে না, লাগে বুদ্ধি। আর তা দিয়ে মাসে প্রচুর টাকা রোজগার করা যায়।

বেতন বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা !

দুঃসংবাদ : আনলিমিটেড কল বন্ধ করে দিয়ে, এই প্ল্যান আনতে চলেছে জিও!

 

৮) গেমিং ম্যানেজার:

ক্যাসিনোর এরা দেখভাল করেন। মাস গেলে লাখ টাকা শুধু টিপসে রোজগার। মাইনে সেটা না হয় না বলে লজ্জায় ফেললাম না। আসলে ক্যাসিনো বা গেমিং ম্যানেজাররা এমন একটা কাজ করেন যার ওপর গোটা ক্যাসিনোর আর্থিক দিক নির্ভর করে। কোন গেমটা আনতে হবে, কোনটা চলবে না। গেমিংগুলো কোথায় কী হবে রাখা হবে সব এরাই সিদ্ধান্ত নেন। আর এই চাকরীর জন্য ডিগ্রি-র দরকার নেই। আপনাকে শুধু স্মার্ট হতে হবে। আপনার চোখ কান সজাগ রাখতে হবে।

বেতন বছরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা !

এবার পুজোর সেরা বাংলা ছবিটি হয়তো আপনি নিশ্চিত ভাবে দেখেননি ! কি সেই ছবি? দেখে নিন রিভিউ সহ!

৯) ডিটেকটিভ:

শার্লক হোমস, ফেলুদারা টাকার জন্য ডিটেকভিভ হননি। ব্যোমকেশ বা কাকাবাবুরাও অর্থ নয়, সত্যি আর অপরাধ খুঁজেই মজা পেতেন। কিন্তু বাস্তবের সফল ডিটেকটিভরা সত্যি অনেক অর্থ রোজগার করেন। মানুষের জীবনযাত্রা জটিল হচ্ছে, লড়াই বাড়ছে, তাই সত্যি খোঁজার লোকেরও দরকার পড়ছে। ডিটেকটিভ হতে গেলে ডিগ্রি নয়, লাগে মগজসাস্ত্র। সে তো কবে ফেলুদা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

বেতন বছরে প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা !

সল্টলেকে পূজার ভোগ খেতে দেয়া হলো না পরিচারিকাকে!

 

পরনে ২৫ কোটি টাকার শাড়ি; বিসর্জনে অসুবিধা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে! দেখুন কি হলো তারপর ..

 

জেলে নাকি বাপুকে দেখতে পেয়েছিলেন সঞ্জয়!

 

১০) অনুষ্ঠানের পেশাদার অতিথি:

বিয়েবাড়ি থেকে অফিস পার্টি। অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়াতে ডাকা হয় পেশাদার অতিথিদের। এরা এসে অনুষ্ঠানকে আলো ছড়ান। সেজেগুজে, সুন্দর হয়ে শোভা বাড়ান। ডিগ্রি ছাড়াই করা যায় এই মোটা অর্থের কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: