চাকরি খোঁজার দশটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল

বিশ্বজুড়ে যে হারে পপুলেশন বাড়ছে তাতে চাকরি খোঁজাও একটা চাকরি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মুহুর্তে, এবং খোঁজ দিনকে দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এই মুহুর্তে ওয়েব দুনিয়া চাকরি প্রার্থী এবং চাকরি দাতাদের জন্য রাস্তা অনেকটাই সমান করে দিয়েছে। যেমন যেমন বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে, তেমন তেমন নির্বাসিত চাকুরিপ্রার্থীদেরও ভীড় চাকরি জব প্লেসমেন্ট সাইটগুলোর প্রতি ঝুঁকতে শুরু করেছে। Forbes.com অনুসারে, এপ্রিলে এই ধরনের সাইটগুলি ৫৭.২ ‘ইউনিক ভিসিটর’ কে আকর্ষিত করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। যদি আপনি আপনার প্রথম চাকরি খুঁজছেন, কিংবা কেরিয়ার বদলাতে চাইছেন, অথবা বহুদিন পরে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন, তাহলে জেনে রাখা ভালো যে চাকরি খোঁজার জন্য প্রধানত দুটি জিনিসের প্রয়োজন আর তা হল : নিজেকে বোঝা এবং চাকরির বাজারকে বোঝা। ধরে নিন আপনি ইতিমধ্যেই আপনার কেরিয়ার বেছে নিয়েছেন এবং বর্তমানে চাকরির খোঁজ করছেন, তাহলে আপনার জন্য আমরা ১০টি সেরা উপায় তুলে ধরছি চাকরি খোঁজার জন্য। যে রাস্তায় আপনি আপনার চাকরি খুঁজে পাবেন।

১। আপনার জব সার্চকে ম্যানেজ করা:

আপনার জব সার্জকে অর্গানাইজড করার জন্য সময় নিন, এবং পুরো প্রক্রিয়াটাই সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য। ফ্রি টুলস ব্যাবহার করুন যা আপনার চাকরি খোঁজার প্ল্যান এবং চাকরির খোঁজকে ম্যানেজ করতে সাহায্য করার জন্য উপলব্ধ রয়েছে। এগুলি আপনাকে সাহায্য করবে আপনার চাকরি খোঁজা শুরু করতে এবং তা সঠিক পথে করতে।

২। জানুন আপনি কি চান

কেউ আপনাকে চাকরি অফার করছে বলেই তা গ্রহণ করবেন না। খোঁজ করুন আপনাকে কাজে রাখার পর আপনাকে কি করতে হবে, এবং শুনিশ্চিত করুন আপনি কি করতে চান। খুব বেশি ‘picky’ হবেন না। যদি এটা আপনার প্রথম চাকরি হয় তাহলে আপনি প্রথম দিনই বস হতে পারবেন না। আপনাকে যা বলা হবে তাই করতে হবে।

৩। একটি বায়োডাটা বানান / কভার লেটারকে কাস্টোমাইজ করুন যা কাজে দেবে

চাকরীর খোঁজ শুরু করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার রিজিউমেটা যতটা সম্ভব পরিপূর্ণ এবং আপ টু ডেট রয়েছে। আপনার রিজিউমেই আপনার গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় যে আপনি কে, আপনি কোথা থেকে এসেছে, এবং আপনি কি করতে পারেন। আপনার রিজিউমটি পেশাদার এবং ঝকঝকে হওয়া দরকার, কারণ যদি আপনার কাছে প্রফেশনাল রিজিউম না থাকে তাহলে হায়ারিং ম্যানেজারের চোখ আপনার আবেদন পত্রে দ্বিতীয়বার পড়বে না। এটা নিশ্চিত করুন যে আপনার রিজিউমটা যেন এমন হয় যা বেশ প্রাভাবশালী। এছাড়াও যখন আপনি কভার লেটার লিখবেন, প্রত্যেকটা লেটারকে সময় নিয়ে কাস্টমাইজ করুন, যাতে করে হায়ারিং ম্যানেজার দেখতে পারেন, এক নজরে কেন আপনি এই চাকরিটার জন্য যোগ্য।

৪। ট্রওলিং জব সাইটস

এটা জব সার্চ টেকনিকের মধ্যে সবচেয়ে পছন্দসই বিকল্পগুলির একটি। এটা স্টাটিস্টিক্যালিও সবচেয়ে প্রভাবশালী যদি এটার নিজস্বতা ব্যবহার করা যায়।সাহায্যের জন্য গুগল ব্যবহার করুন, সেখানে আপনি হাজারেরো বেশি জব সাইট পাবেন যার মধ্যে থেকে আপনি বেছে নিতে পারবেন। তিনটি সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট রয়েছে; CareerBuilder.com, Yahoo! Hot Jobs এবং Monster.com এই কাজে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে। কিন্তু হালে কয়েক বছরে বেশ কিছু নতুন সাইটেরও সুচনা হয়েছে, এবং এই বড় তিন সাইটের কাছ থেকে বাজারের ভাগীদারি চুরি করে নিয়েছে।

৫। আপনার এরিয়ায় ব্যবসার টার্গেট

এটা জব খোঁজার জন্য ভীষণই সফল একটা প্রক্রিয়া এবং সময়ের সদ্বব্যবহারের জন্য সব থেকে বেশি রেকমেন্ডেড করা হয়। একবার যখন আপনি জেনে যাবেন যে আপনি কোন ধরনের চাকরি খুঁজছেন, এবং কোন ইন্ডাস্ট্রিতে খুঁজছেন, খোঁজ করুন যেখানে আপনি বসবাস করেন সেই এলাকায় কোন কোন কম্পানি রয়েছে। এটা অনেক কারণেই দারুণ একটা অ্যাপ্রোচ।  এই এরিয়াতে থাকা কোনো একজনের সঙ্গে আপানার চেনা জানাও বেরিয়ে পড়তে পারে। কম্পানির সম্বন্ধেও আপনার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, এবং এটা জানাও জরুরী যে আপনি যা চান এবং যা আপনাকে করতে দেওয়া হবে তাতে আপনি ফিট কি না। আপনি ওই এলাকার মানুষের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন যা আপনাকে সাহায্য করতে আপনার রিজিউম প্রস্তুত করতে এবং হয় বা ইন্টারভিউতেও।

৬ কেরিয়ার বেসড সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং

অনলাইনের রাস্তায় প্রফেশনাল সক্ষমতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী হল www.linkedin.com এর মাধ্যমে যাওয়া। এটা একটা দুর্দান্ত সাইট যেখানে মানুষ সহজেই খুঁজে পেতে পারেন এবং যোগাযোগ রাখতে পারেন সেইসব মানুষের সঙ্গে যাদের তারা কর্পোরেট দুনিয়ায় চেনেন। লিঙ্কডইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল আপনার প্রোফাইল। এটাই তা যা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন নিজের নেটওয়ার্কের লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে, এবং আপনার প্রোফাইলের মাধ্যমেই পোটেনশিয়াল এমপ্লয়াররা আপনাকে খুঁজে পেতে পারেন। আপনার প্রোফাইলকে আপডেট রাখুন যাতে তা কারেন্ট এবং আকর্ষক লাগে। যদি আপনি বেকার হন তাহলে আপনার লিঙ্কডইন প্রোফাইল ব্যবহার করুন যাতে চাকরিদাতারা জানতে পারেন যে আপনি চাকরি খুঁজছেন।

৭। আপনার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ রাখুন

আখন আপনি সময় নিয়েছেন আপনার নেটওয়ার্ককে বানাতে তখন সেটা ব্যবহার করুন। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ রিসোর্স যা আপনার কাছে রয়েছে চাকরি খোঁজার জন্য। আপনার ব্যক্তিগত কেরিয়ার নেটওয়ার্কে যে কেউ শামিল হতে পারেন, যিনি চাকরি খোঁজার কাজে এবং আপনার কেরিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে আপনাকে সহায়তা করতে পারবেন। এবং আপনার বন্ধুদের এবং সেইসব মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন যারা একই প্রফেশনে রয়েছেন। আপনার বন্ধু আত্মীয় এবং পরিচিত জনেরদের একটি তালিকা তৈরি করুন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং জিজ্ঞাসা করুন তাদের নজরে কোনো ওপেনিং আছে কিনা যেখানে তারা আপনাকে রেকমেন্ড করতে পারেন। খুব বেশি হাম্বল বা অ্যাপোলোজেটিক হবে না। তাদের বলুন আপনি ঠিক কি খুঁজছেন, এবং তাদের জানতে দিন যে আপনি ফ্লেক্সিবেল এবং সাজেশন নেওয়ার ক্ষেত্রে ওপেন রয়েছেন। লিঙ্কডইন এবং অন্যান্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন যাদের আপনি চেনেন। প্রফেশনাল গ্রুপগুলিতে জয়েন করুন। একই কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর এটা খুব ভালো একটা উপায়, এদের মাধ্যমেই আপনি সঠিক চাকরি পেতে পারেন।

৮ বিদ্যমান সম্পর্কগুলোকে ব্যবহার করুন

এটা চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে অন্যতম সফল মেথড। স্ট্যাটিস্টিক্যালি ১০জনের মধ্যে ৯ জনেরই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে চাকরির বিজ্ঞাপনের তুলনায় বিদ্যমান সম্পর্কই কাজে এসেছে। প্রথমবার একথা শুনে আপনার নিরাশাজনক মনে হতে পারে, কিন্তু এটা জেনে আপনি আশ্চর্য হতে পারেন যে কত মানুষকে আপনি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে চেনেন। হয়ত আপনি একজন বিজনেস কলিগ বা বন্ধুর বন্ধুর মাধ্যমে রেকমেন্ডশন পেতে পারেন, তাই এটা পরিস্কার হওয়া জরুরী যে কাদের আপনি চেনেন এবং সেই মানুষগুলো কাদের কাদের চেনে।

৯ ইন্টারভিউর প্রস্তুতি

সাধারণ জব ইন্টারভিউর প্রশ্নের জবাবে কিভাবে দারুণ জবাব দেওয়া যায় সেটা জানা খুব দরকার। হয়ত আপনাকে প্রশ্ন করা হতে পারে যে অতীতে আপনি কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তার বর্ননা করুন, এবং সেই সমস্যাগুলিকে কি করে আপনি সামলেছেন, কিংবা আপনাকে একতা কাল্পনিক সিচুয়েশন দিয়ে বলা হল যে আপনি কি করেবন। তারা সাধারণত এটা জানতে চান  যে যে পজিশনের জন্য আপনি ইন্টারভিউ দিচ্ছেন সেখানে বাধার সম্মুখীন হলে আপনি কিভাবে তা সামলাবেন। আরও বেশি সফল ইন্টারভিউর জন্য বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পড়তে শিখুন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি সঠিকভাবে চার্মিং এবং প্লেজেন্ট রূপে উপস্থাপন করবেন। কারণ বহু সিদ্ধান্তই নেওয়া হয় আপনার প্রথম ইম্প্রেশনের ভিত্তিতেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল নেগেটিভ বডিল্যাঙ্গুয়েজকে অ্যাভয়েড করা। সঠিকভাবে জামা কাপড়ের পড়াও প্রথম ইম্প্রেশন তৈরিতে সাহায্য করে। ইন্টারভিউর জন্য পোশাক পড়ার মানে এটা জরুরী নয় যে আপনাকে ইস্ত্রি করা নিভাজ ফর্মালওয়ার পড়তে হবে। এটা কম্পানির উপর নির্ভর করে, তারা এটাও প্রেফার করতে পারে যে আপনি আপনার রোজকার পরিধানেও আসতে পারেন, কিংবা এমন কিছু পড়া যাতে আপনাকে দেখতে ভাল লাগে কোথাও যেন মনে না হয় আপনি বেশি মাত্রায় কিছু করেছেন।

১০। ফলোআপ

আপনি আপনার রিজিউম অনলাইন জমা দিন বা কারও হাতে সরাসরি জমা দিন না কেন  তখনই আপনার চাকরি হয়ে যায় না। আপনাকে অবশ্যই ফলোআপ রাখতে হবে। হায়ারিং ম্যানেজারদের প্রচুর কাজ থাকে, ডিপার্টমেন্টের হেড হিসেবে এবং যাদের হায়ার করা হয়েছে তাদের সুপারভাইজ করা তাদের কাজের খুবই ছোটো একটা পার্ট। তাই ওই চাকরিটির জন্য আপনার সিনসিয়ার ইন্টারেস্ট দেখান ফোন কল বা ইমেলের মাধ্যমে ফলোআপ রেখে। যদি কোনো কোম্পানিতে আপনি ইন্টারভিউ দিয়ে থাকেন, এবং আপনাকে যে সময় দেওয়া হয়েছে সেই সময়ের মধ্যে কোম্পানির তরফ থেকে কোনো উত্তর না পান, তবে যেদিন তাদের দেওয়া সময় শেষ হচ্ছে ঠিক তার একদিন পরে ইমেল বা ফোন কলের মাধ্যমে সেই চাকরি টির প্রতি আপনার আগ্রহ প্রকাশ করুন। এবং খুব বিনম্রভাবে বলুন  যে আপনি বুঝতে পারছেন যে যে হায়ারিং প্রক্রিয়া একটু সময় নিচ্ছে, এবং আপনি এনকোয়ারি করছে যাতে তারা আপনাকে কোনো আপডেট দিতে পারেন কিনা যে তারা ঠিক কখন তাদের সিদ্ধান্ত নেবেন। এটা সবসময়ই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ যে প্রতিটা চাকরির ইন্টারভিউর পর ধন্যবাদ জানানো, এমনকী দ্বিতীয়্র ইন্টারভিউয়ের পরেও। এমপ্লয়াররা  সেইসব ক্যান্ডিডেটদের নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করেন যারা ফলোআপ করার জন্য সময় নেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: