ভারতীয় ডাক বিভাগে প্রচুর কর্মী নিয়োগ, মাধ্যমিক পাশ হলেই আবেদনযোগ্য

ভারতীয় ডাক বিভাগ। দেশের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য এবং বিশ্বস্ত মাধ্যম। এই কারণেই শতাব্দী প্রাচীন পরিষেবা এখনও টিকে আছে। শুরুটা সেই ব্রিটিশ আমলে। ডাক বিভাগ বললেই চিঠির যুগের কথা মনে আসে। অবশ্য, চিঠির যুগ এখন আর নেই। আগে এই চিঠি লেখা একটা শিল্প ছিল। কারও কারও তো চিঠি লেখা নেশার মতো ছিল। পুরনো দিনের অনেক বিদজ্ঞ ব্যক্তিদের চিঠি এখন নির্দশন হিসেবে শোভা পায়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের যুগে এখন চিঠি শিল্প পিছু হটেছে। এখন ওই নানান অফিসিয়াল চিঠি পাঠাতে আর চাকরির আবেদন করতে ডাক পরিষেবাকে ব্যবহার করে জনগণ।

চিঠি শিল্প যখন লাটে উঠেছে, তখন ভারতীয় ডাক বিভাগের কাজ কি? – এই প্রশ্ন মাথায় আসা স্বাভাবিক। ডাক পরিবহনের পাশাপাশি ভারতীয় ডাক বিভাগ হলো গরীব ও হতদরিদ্র মানুষের ব্যাঙ্ক। বহুদিন থেকে মানুষ এখানে টাকা রেখে আসছেন। শুধু আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণিই নয়, ভারতী ডাক বিভাগে টাকা জমানোর সুবিধা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল জীবনযাপন করা মানুষজনও নেন। এমাসের শুরুর দিকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতীয় ডাকঘরকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় সামিল করলেন। চালু হয়েছে ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক। সেভিংস অ্যাকাউন্ট গ্রাহকদের পুরোপরি ব্যাঙ্কিং সুবিধা প্রদাণ করে ভারতীয় ডাক বিভাগ। থাকছে চেকবুক, এটিএম ও অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা।

আগামী দিনে ভারতীয় ডাকবিভাগ দেশে অসামান্য পরিবর্তন আনবে বলে বিশ্বাস। আর এই পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে প্রদাণ করার জন্য পর্যাপ্ত কর্মী প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। পাঁচ স্পেটেম্বর থেকে আবেদনপত্র নেওয়া শুরু হয়েয়েছে। এখন ভারতীয় ডাকবিভাগে মাল্টি টাস্কিং স্টাফের প্রচুর পদ শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। সেখানেই নিয়োগ করা হবে। আবেদনপত্র জমা করার শেষ তারিখ ৪ অক্টোবর। www.westbengalpost.gov.in-এ যান আর আবেদন করুন। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর, শিলিগুড়ি এবং গ্যাংটকের জন্য প্রার্থী নেওয়া হবে। মোট ২৭২টি পদ খালি রয়েছে।

শূন্য পদে কর্মী নিয়োগের জন্য আবেদনকারীর নূন্যতম যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ হলেই হবে। পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় ভাষা জানা আবশ্যিক। আন্দামান ও নিকোবর এবং সিকিমের জন্যও সেখানকার ভাষা জানা জরুরি। নূন্যতম বয়সসীমা রাখা হয়েছে আঠারো বছর। সর্বোচ্চ ২৫ বছর বয়সসীমার ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া, এসসি ও এসটি’দের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমায় বিশেষ ছাড় রয়েছে। এসসি ও এসটি-র ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর এবং ওবিসি-দের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ৩৫ বছরে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

উপরে উল্লেখিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নোটিশ দেখার পর মাল্টি টাস্কিং স্টাফের পদের জন্য আবেদনকারীকে ব্যাঙ্কে গিয়ে ১০০ টাকা জমা করতে হবে ভারতীয় ডাক বিভাগের নামে। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য লাগবে অতিরিক্ত আপও ৫০০ টাকা। অনলাইনেই আবেদন করে, সেই আবদনের প্রিন্ট আউট রেখে দিতে হবে প্রার্থীকে।

অনলাইনে আবেদন করার জন্য – http://cpmgwbrecruit.in/recmtssep18

আবেদনপত্র গ্রহণের নির্দিষ্ট সীমা পার হওয়ার পর ওয়েবসাইটেই পরীক্ষার দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষার পর কর্মী নিয়োগের জন্য থাকবে ইন্টারভিউ পর্ব। সেটাও জানিয়ে দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: