এবার চাকরী মিলবে, বুক বেধে রেকর্ড সংখ্যাক চাকরীপ্রার্থীর প্রাইমারি টেটের আবেদন

আজ, বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রাইমারি টেট ২০১৭-র আবেদনপত্র গ্রহণের প্রথম দিনেই রেকর্ড সংখ্যাক চাকরীপ্রার্থী প্রাইমারি টেটের আবেদন করলেন। আজ সকাল ১১টা থেকে অনলাইনে আবেদন জানাতে শুরু করলেন। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে, কিন্তু পরীক্ষার্থীদের তর সইল না। চাতক পাখির মত একটা সরকারী চাকরীর অপেক্ষায় থাকা মানুষ আজ ঝাঁপিয়ে পড়ল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবর এল বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন সাইবার কাফের বাইরে লাইন দিয়ে অনলাইনে আবেদন চলল। তবে এমনও খবর এল অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টির জন্য কিচু জায়গায় নেট সমস্যায় দেখা যায়। যদি এমন অভিযোগ খুব বেশি আসেনি। আজ রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে জারি এক বিজ্ঞপ্তিতেবলা হয়েছে, এবার প্রশিক্ষিত প্রার্থীর পাশাপাশি আবেদন করতে পারবেন প্রশিক্ষণরতরাও। আবেদনকারী ‌যেকোনও এলিমেন্টারি টিচার্স ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হলেই আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করা ‌যাবে www.wbbpe.org ও www.wbsed.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে। সাইটটি খুলে ক্লিক করতে হবে ‘ONLINE APPLICATION FOR TET-2017(PRIMARY) FOR PERSONS PURSUING ELEMENTARY TEACHER TRAINING COURSES.’ লিঙ্কে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

আসলে গতবার প্রাইমারি টেট নিয়ে গণ্ডগোলের হতাশা ঝেড়ে সবাই এবার চাকরী পেতে মরিয়া। প্রায় ১ লক্ষ পড়ুয়া নতুন করে পেতে পারেন টেটে বসার সুযোগ! প্রসঙ্গত, চলতি বছরের টেটের বিজ্ঞপ্তি খারিজের মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। এনসিটিই-র নির্দেশিকা না মেনেই প্রাথমিক টেটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। এতে পরীক্ষায় বসার সুযোগ হারাচ্ছেন প্রশিক্ষণরতরা। এই অভিযোগেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষণরত। আজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা।


ফের মামলার জটে ২০১৭ এর প্রাথমিকের টেট। পরীক্ষার জন্য জারি বিজ্ঞপ্তিই অবৈধ দাবি বলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষণরত প্রার্থী। প্রশিক্ষণ ছাড়া প্রাথমিকের টেটে বসা যাবে না বলেই জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। আর এখানেই উঠছে বিতর্ক। প্রাথমিক টেট ২০১৭ এর বিজ্ঞপ্তিটাই ভুল। এনসিটিইর নির্দেশিকার পরিপন্থী এই বিজ্ঞপ্তি। এই বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দিক হাইকোর্ট। কেন এই দাবি তুলছেন মামলার আবেদনকারীরা?
এনসিইআরটির ২০১১ সালের নির্দেশিকা বলছে টেটে পরীক্ষায় বসতে পারবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পড়ুয়ারা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণরতরাও আবেদন করতে পারবে।

প্রাথমিক টেটের বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদেরই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণরতদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই। তাই এই বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করে প্রশিক্ষণরতদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হোক।
শুক্রবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই কারণে ২০০ জন প্রশিক্ষণরতকে প্রাথমিকের টেটে বসার দরজা খুলে দেন। বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়েরও পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রশিক্ষণরতরাও প্রাথমিকের টেটে বসার যোগ্য। তারপরই সোমবার বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চে ফের টেট বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে মামলা হল।
রাজ্যে কয়েকশো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এইসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। আবেদনকারী প্রার্থনা মেনে বিজ্ঞপ্তি খারিজ করলে টেটের দরজা খুলে যেতে পারে ওই লক্ষাধিক পড়ুয়ার কাছে।

বুধবার থেকে শুরু হল প্রাইমারি টেট ২০১৭-র আবেদনপত্র গ্রহণ। অনলাইনে আবেদন করা ‌যাচ্ছে সকাল ১১টা থেকে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।

প্রসঙ্গত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণরতরাও আবেদন করার সু‌যোগ পাওয়ায় এবার প্রাইমারি টেটে আরও বেশকিছু প্রার্থী পরীক্ষায় বসতে পারবেন। তবে কেবলমাত্র ২ বছরের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করা প্রার্থীদেরই যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: