পেশা ভিক্ষাবৃত্তি, মাসে আয় চারলক্ষ টাকা; এবং ঘরে তিন স্ত্রী!

রাস্তে, ঘাটে চলত-ফিরতে হামেশাই আমাদের চোখে ভিখিরি নজরে পড়ে। নতুন কিছু নয়, এ যেন দু’বেলা নিয়ম করে দাঁত মাজার মতোই অবস্থা। রাস্তা বেরোলে চোখে পড়া। অনেকের আবার চেনা। অফিস যাওয়া বা বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে দেখতে পেলেই যৎসামান্য হলেও, পকেট থেকে কয়েকটা কয়েন বের করে দিয়ে তবেই যাওয়া। আসলে অভ্যেস হয়ে গিয়েছে কি না। বেশিরভাগ রেল স্টেশনেই ধারেই কত ভিক্ষুক দেখা যায়। নোংরা জামা আর অপরিষ্কার হাত-পা, ওটাই যেন ওঁদের দেখে ট্রেডমার্ক। বাসের স্টপেজেই বা কি কম, যেখানে-সেখানে কত কচিকাঁচাদেরও ভিক্ষা করতে নামিয়ে দেওয়া হয়। নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে করতে আচমকা এসেই আপনার জামা ধরে টেনে বলে বসে, ”ও দিদি/দাদা কিছু টাকা দাও না। খিদে পেয়েছে।” কারও দয়ামায়া খুব কম, আবার কারও এতোটাই বেশি যে না দিয়ে থাকতেই পারেন না। কয়েকটা খুচরো পয়সা দিলেই বা কি আসে যায়! কত লোকে তো দেয়। এমন ভাবনা, অনেকের মনেই এসে থাকে…


তৃতীয় বিশ্বের এই দেশ ভারতে ভিক্ষুকের অভাব নেই। রাস্তা, ঘাটে স্ট্রিট ফুডের দোকান যেখানে সেখানে, আর কোনও মন্দির বা মসজিদের আশেপাশে ওদের বেশি করে যেন খুঁজে পাওয়া যায়। রাস্তার সিগন্যালে যখন গাড়ি দাঁড়ায়, আচমকাই কে যেন এসে টোকা মেরে ওঠে। তারপর হাতটা বাড়িয়ে দেয় সামান্য কিছু অর্থের জন্য।
সিনেমার পর্দাতেও ওদের নিয়ে বহুবার দেখানো হয়েছে। বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, আসলে ওটা ব্যবসা। কিছু দুষ্টু লোকে ওদের দিয়ে ওভাবে আয় করায়। কিন্তু, সত্যি সত্যি অনেক ভিক্ষুকও আছেন, যারা সত্যিই অতি দরিদ্র। কোনও রকমে খেয়ে পরে বাঁচানো। আর যাইহোক টাকা রোজগারের ধান্দায় কেউ নিশ্চয় নোংরা ময়ালা থাকতে থাকতে চামড়ার রোগ বাঁধিয়ে বসবেন না।


গল্প যাইহোক, আর কিছু সিরিয়াস সিনেমা আমাদের যা বোঝানোরই বা চেষ্টা করুক না কেন, তাও তো আপনি দেন। আচ্ছা কখনও ভেবে দেখেছেন কি, আপনার মতো তো অনেকেই কতটাকা দিয়ে যাও ওদের রোজ। রোজ এক টাকার কতো কয়েনই তো জমা পড়ে ওদের থালায়। তাহলেও, কেন গরিব এতোটা ওরা? আজ আপনাকে এমন একজনের গল্প বলব, যিনি শুধু শখে বা স্বভাবে, আবার অভাবে ভিখাবৃত্তি করেন না। আসলে তাঁর পেশাটাই ভিক্ষা করা।

ভালো করে দেখুন, এঁর নাম ছোটু। ঝাড়খণ্ডের বরাইকের বাসিন্দা…


মাস গেলে ছোটুর আয় তিরিশ হাজার টাকা। সারা সপ্তাহ কাজ করেও মাসের শেষে ছয় হাজার টাকা আয় করেন, এমন অনেক মানুষই আছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকেও সামান্য আয় করতে হচ্ছে পেটের দায়ে। অথচ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা এই ছোটু দিব্যি তিরিশ হাজার আয় করে যাচ্ছেন ভিক্ষা চেয়ে। ছোটুর কর্মস্থলই বলতে হবে চক্রধরপুর রেলওয়ে স্টেশনকে। আপনি ওখানে গেলে ওকে যে কোনও সময় দেখতে পাবেন। স্টেশনে স্টেশনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিত্যযাত্রীদের কাছে কয়েকটা খুচরো পয়সা ভিক্ষার আশায়। জানলে আরও অবাক হবেন, স্টেশনে ভিক্ষা করা ছাড়াও ভেস্টিজের ডিস্ট্রিবিউটর আবার ছোটু। স্টেশনে ভিক্ষা করার ফাঁকে ট্রেনের মধ্যেই নানারকম পণ্যও বিক্রি করেন ওই সংস্থার। চক্রধরপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতেও তাঁর বিক্রির বাজার রয়েছে।

শুধু কি তাই?

সিমদেগা জেলায় বন্দি গ্রামে তার আবার বাসনকোসনের দোকান রয়েছে। ভিখাবৃত্তি করলেও, তিনটি বউ রয়েছে ছোটুর। তার মধ্যে একজন ওই দোকান দেখভাল করে। মাসে সবমিলিয়ে ছোটুর আয় চারলক্ষ টাকা। সারা মাস হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়েও টাকার ওই অঙ্ক আপনার কাছে স্বপ্নমাত্র। আর ওদিকে ছোটু সব টাকাই বাড়িতে পাঠায়…বউদের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: