নিউ ইয়ার অফার ডিসকাউন্টে মানুষের মাংসের দাম কমিয়ে দিল সেই রেস্তোরাঁ, মানুষের মাংসের কত দাম জানুন

নিউ ইয়ারে সব কিছুতেই ডিসকাউন্ট মেলে। টিভি থেকে মোবাইল, পোশাক থেকে জুতো। নিউ ইয়ার সেল মানেই বাম্পার ডিসকাউন্ট। তা সব কিছুতেই যখন ডিসকাউন্ট মেলে তাহলে মানুষের মাংসই বা পিছিয়ে থাকবে কেন! আরে আঁতকে উঠলে না কি! ক দিন আগে বিশ্বের প্রথম মানুষের মাংস খাওয়ার রেস্তোরাঁ খুলে ছিল জাপানে। যেখানে চিকেন, মটন নয় একেবারে মানুষের মাংসের কিমা-লেগ পিস বসে পাত পেড়ে খাওয়া যায়। সেই মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁয় দাম কমানো হল। বর্ষবরণের উত্সবে জাপানে বিদেশের বহু মানুষের সমাগম হয়েছে। তাদের এই মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ মুখি করতে ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা। যতই হোক মানুষের মাংস বলে কথা। তাই কম টাকায় খাওয়া যাবে শুনে লোকও হল। এমনতি ১০০ ইউরো (৮ হাজার ৫০০ টাকা) থেকে এক হাজার ইউরোতে বিভিন্ন ডিশে মানুষের মাংস পরিবেশন হয় রেস্তোরাঁয়। কিন্তু নিউ ইয়ার পার্টিতে প্রায় ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়েই ৭০ ইউরো (হাজার ছয়েক টাকা)-তে মিলল মানুষের মাংস।

খাসি, মুরগী, বিফ খেয়ে মুখটা একটু হেজিয়ে গিয়েছে। তাই এবার একটু অন্য রকম মাংস ট্রাই করুন। এভাবেই প্রথম বিজ্ঞাপনটা দিয়েছিল জাপানের এক রেস্তোরাঁ। রেস্তোরটার নামটা হল ‘ “The Resoto ototo no shoku ryohin”। যার বাংলা মানেটা শুনলে হাড়হিম হয়ে যাবে। বাংলা মানে করলে দাঁড়ায়-ভোজ্য ভাই (“Edible Brother”)। মানে ভাইয়ের মাংস। হ্যাঁ, একেবারে মানুষের মাংস খাওয়া যাবে এই রেস্তোরাঁয় বসে। টোকিও-র এক অন্ধকার গলিতে এই রেস্তোরাঁ।

দামটা একটু বেশি, কিন্তু মানুষের মাংস বলে কথা। ১০০ ইউরো (৮ হাজার ৫০০ টাকা) থেকে এক হাজার ইউরোতে বিভিন্ন ডিশে হাজির মানুষের মাংস। সাধারণ রেস্তোরাঁয় যেমন চিকেন কোপ্তা, চিকেন রোস্ট, চিকেন ফিঙ্গার্স পাওয়া যায়। তেমনই “Edible Brother” রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় মানুষের মাংসের কোপ্তা, মানুষের মাংসের রোস্ট, মানুষের মাংসের ফিঙ্গার্স। তবে মশলাটা একটু বেশি দিতে হয়। তা না হলে নাকি গন্ধটা একটু বেশি হয়, যাতে খেতে সমস্যা হয়। তবে রাঁধুনীদের হাত যশে মানুষের মাংস চেটেপুটে খাওয়া যাবে বলেই দাবি রেস্তোরাঁর মালিকের।

শোনা যাচ্ছে টোকিও-তে ঘুরতে যাওয়া আর্জেন্টিনার এক সাংবাদিক প্রথম এই রেস্তোরাঁয় মানুষের মাংস খেয়েছেন। ১২০ ইউরো খরচা করে যে মানুষের মাংসের মেন্যুটা তিনি খেয়েছেন তা নাকি অনেকটা পর্কের (শুয়োরের মাংস) মত খেতে। কিন্তু এবার বড় প্রশ্ন এই মানুষের কাঁচা মাংস কীভাবে আসছে। “Edible Brother”রেস্তোরাঁ-র মালিকের দাবি মৃত্যুর পর যারা তাদের দেহ বিক্রি করে দিতে চান তাদেরই মাংস কিনছেন তারা। জাপানের অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ ৩০ হাজার ইউরোর বিনিময়ে তাদের মৃতদেহকে মাংস হিসেবে বিক্রির অনুমতি দিয়ে বন্ডে সই করেছে। রেস্তোরাঁ মালিকের দাবি অন্তত ৭৫টি মানুষের মৃতদেহ তাদের কাছে এসেছে। যা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী মাংস কেটে কেটে রেস্তোরাঁয় বিক্রি হচ্ছে।

তবে সবার মাংস কিন্তু নেওয়া হয় না। একমাত্র ৩৫ বছরের কমে মারা যাওয়া মানুষের মাংসই নেওয়া হয়। তাও আবার বন্ডে সই করলে বিশেষ ধরনের ডায়েটে থাকতে হয়। ডায়েটে ফল বেশি খেতে হয়। তাহলে নাকি মাংসটা ফ্রেশ আর সুস্বাদু হয়। বয়স্ক মানুষদের মাংসটা অনেকটা বুড়ো খাশির সঙ্গে তুলনা করা হয়। রেস্তোরাঁর মালিকের বক্তব্য, “Edible Brother”প্রথম তিনটে দিন কেউ আসেনি। কিন্তু বাইরে থেকে অনেক মানুষের তাঁর রেস্তোরাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে মানুষ আসতে শুরু করেছে। মানুষের মাংসের গন্ধে মানুষের ভিড় বাড়তে চলেছে। এর আগে নাইজেরিয়ার এনামব্রা`র একটি রেস্তোরাঁ মানুষের মাংস বিক্রির দায়ে বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। এ ঘটনায় জড়িত ১০ জনকে আটক করা হয়। জানা যায়, এনামব্রা`র ওই রেস্তোরাঁয় মানুষের মাংস বিক্রি হচ্ছে- স্থানীয়দের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে হোটেলের ভেতর থেকে মানুষের রক্তাক্ত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়াও রক্ত পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত পলিব্যাগও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, গ্রেনেড এবং সেলফোনও জব্দ করা হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিনই তিনি সেখানে যেতেন এবং হোটেলে অদ্ভুত কার্যক্রম দেখতেন। হোটেলের লোকজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পড়ে কাজ করতেন না প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান সেফ মার্কাস ভলকি তার বান্ধবীকে হত্যা করে রান্না করার অভিযোগে আটক হন। একই বছর, ব্রাজিলে সম্ভাব্য আয়া প্রার্থীকে হত্যা করে রান্না করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: