বড়রা ঠিক বলেন, সরস্বতীর পুজোর আগে কুল খেতে নেই! কেন বলুন তো?

বাঙালির সেরা যেমন দুর্গাপুজো, তেমনই ছোটো বাচ্চা থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী, তাদের সেরা পুজো কিন্তু সরস্বতীপুজো। নতুন বছরের শুরুর প্রথম উৎসব ভারতীয় সংস্কৃতির। বাঙালিদের জন্য বড় স্পেশাল বাগদেবীর আরাধনা। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে সরস্বতী পুজো মানে, শীতকে বিদায় জানানোর সময় এসে গিয়েছে। লোকে বলে বটে, দোল গেলে তবে, ঠান্ডা যাবে। আর শীত সরকারিভাবে বিদায় নেয় ওই শিবরাত্রির দিনটা গেলে। কিন্তু, বাঙালি ছেলে-পুলেরা বলে, না না সরস্বতীর পুজোর দিনটা সকাল সকাল উঠে স্নান সেরে বাদদেবীর সামনে অঞ্জলি দিলেই ঠান্ডা পালাতে শুরু করে।   

কচিকাঁচারা সকালে উঠেই আনন্দে স্নান সেরে স্কুল মুখো। আবার অনেকের বাড়িতেই পুজো হয়। আর তাই কেউ কেউ বন্ধুর বাড়িতেই বাবা-মায়ের হাত ধরে কিছু গাঁদা ফুল আর মিষ্টি নিয়ে ছোটে। আজ তাদের দিন। উপলক্ষ তারাই এই পুজোর। আনন্দের ভাগ দেওয়া তাই বড় মুশকিল। শিশুমনে বসন্ত এভাবে ছোঁয়া দিয়ে যায়। আর কিশোর প্রেম বলুন বা সদ্য গোঁফের রেখা ওঠা ছেলেটা এদিন নিজেকে যুবক মন করে। কারণ, আজ তার মনের মানুষটিকে শাড়িতে দেখতে পাবে। আজ দু’জনে হাত ধরে হাঁটলে কে কি ভাবল, কোহি পরওয়া নহি। সরস্বতী পুজো মানে বাঙালির ভ্যালেন্টাইন ডে। আজ তার সঙ্গে বসে বাঙালি মেজাজে খিচুড়ি-বেগুন ভাজাও খাওয়া যায়, কেএফসি’র চিকেন বা ডমিনোজের পিৎজা চাইবে না গার্লফ্রেন্ড। আর মেয়েরা সকাল থেকেই একস্ট্রা কেয়ার নিয়ে সাজগোজ সারতে লেগে পড়ে। বয়ফ্রেন্ডের সামনে শাড়িতে আসা চাইই চাই। সরস্বতী পুজো মানে, দিনটা বাঁধন ছাড়া। কেন একস্ট্রা কেয়ার নিয়ে সাজ, তার জন্য মানানসই বাহনা বানানোর নেই বাবা-মায়ের কাছে।

সরস্বতী পুজোর কথা বললে, একটা ফলের কথা চলেই আসে। আর সেটা হলো কুল। কুল খেতে ভালোবাসে না, এমন ছেলেপুলে আছে নাকি! বাজারে তার আগে থেকে চলে এলেও, অনেকে আবার খেতে চায় না। আগে বিদ্যেদেবী খাবেন, তারপর ওইদিন অঞ্জলি দিয়ে উপোস ভাঙব কুল দিয়ে। সরস্বতী পুজোর আগে একদম কুল খেতে নেই, নইলে বাদদেবী রাগ করবেন। আর উনি রাগলে, পরীক্ষায় নাম্বার কমে যাবে।

ছোটোবেলায় আমাদের সকলেরই এরকম ধারণা ছিল। বয়স বাড়ার পর অঞ্জলি দেওয়ার রীতি অনেকেরই উঠে যায়। তখন কুল খেতে খেতে ছোটোবেলার সেই শিশু মনের ভাবনাগুলি মনে পড়ে গেলে, নিজের অজান্তেই হেসে ওঠা।Sa

সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেতে নেই, এটা ঠিক। আর তার পিছনে কারণও রয়েছে। তবে, বিদ্যেদেবী রাগেন, এটা কিন্তু ঠিক নয়। আসলে বসন্তের শুরুর ওই সময়টা পেটের রোগ বাড়ার সময়। আর স্কুলে ওই সময়টাতেই পরীক্ষা পড়ে। কুল খাওয়ার লোভে বেশি বেশি খেয়ে ফেললে, যাতে অকারণে পেটের রোগে কাবু না হয়ে পড়ে পরীক্ষার আগে আগে, তাই বড়রা আপত্তি করেন ছেলে-মেয়েদের। আর ছোটোরা তো বায়নাতে ওস্তাদ। তো কি করা যায়, বড়রা বাগদেবী রেগে গিয়ে পরীক্ষায় নাম্বার কমিয়ে দেবেন, এই ভয় দেখালে, একবাক্যে মেনে নেবে। বহুদিন থেকে এই রীতি চলে আসছে। বড়রা অনেক সময় না জেনেও, এই নিয়মের ভয়টা ছোটোদের মধ্যে অজান্তেই বপন করেন দেন। আর এভাবেই এই সরস্বতীর পুজোর দিন থেকেই কুল খাওয়া শুরুর প্রথা চলে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: