জানেন বিশ্বের কোন দেশের হাতে কতগুলি পরমাণু বোমা আছে, আর সেগুলি কোথায় লোকানো!

বিশ্বের ৯টি দেশ পরমানু শক্তিধর। স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হচ্ছে মাত্র পাঁচটি – আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ও চিন। তবে ভারত, পাকিস্তান, ইজরায়েল, উত্তর কোরিয়া ভারত, ইসরায়েল আর পাকিস্তান কখনো পরমাণু অস্ত্র-বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটিতে সই করে নি। উত্তর কোরিয়া সই করেও ২০০৩ সালে এ থেকে বেরিয়ে যায়। তা তাদের স্বীকৃত পরমানু শক্তিধর দেশ বলা হয় না। তাই এসব দেশগুলির কাছে কত পরমাণু অস্ত্র আছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে সম্প্রতি এক গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা গিয়েছে কোন দেশের কাছে কত পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।

পৃথিবীর মোট ১০ টি দেশের হাতে এখন ৯ হাজার পরমাণু বোমা আছে। পরমাণু বোমাগুলো অনেক ক্ষেত্রে বসানো আছে ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায়। তা ছাড়া আছে বিভিন্ন সামরিক বিমান-ঘাঁটিতে বা অস্ত্রের গুদামে। আমেরিকা আর রাশিয়া- এই দুটি দেশের কাছে পরমাণু বোমা আছে প্রায় ১৫ হাজার বোমা। তবে এই হিসেবে এমন বোমাও ধরা হয়েছে যেগুলো এখন ‘অবসরে’ যাচ্ছে অর্থাৎ এগুলো অচিরেই খুলে ফেলা হবে। স্টকহোমের একটি পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, ১৯৮০ দশকে পারমাণবিক বোমা বা ওয়ারহেডের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ হাজার।

১০. ইরান 

৯. উত্তর কোরিয়া (পরমান অস্ত্র ৫০)

উত্তর কোরিয়া যে কী করে সেটা কেউ জানে না। সবাই বলে, পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ, উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয় উত্তর কোরিয়াকে।এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ থেকে ২০টির মতো পারমাণবিক বোমা রয়েছে৷ তবে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ধোঁয়াশা আছে। দেশটির নিজেদের এ ধরনের বোমা তৈরির সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়৷

৮. ইজরায়েল (পরমাণু অস্ত্র আছে ৮০টি)


পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলোর মধ্যে বিতর্কিত অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল। ধারণা করা হয়, তাদের হাতে বর্তমানে কমপক্ষে ৮০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। তবে দেশটির কাছে ষাট থেকে ৪০০টির মতো পরমাণু ‘ওয়ারহেড’ আছে বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে৷ ইসরায়েল অবশ্য নিজের দেশের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তেমন কিছু জনসমক্ষে প্রকাশ করে না৷ ফলে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

৭. ভারত (পরমাণু অস্ত্র আছে ১৩০টি)

ভারত মুলত তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯৪৪ সালে। ১৯৫৪ সালের দিকে পরমাণু বিজ্ঞানী হমি ভাভা পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র বানানোর দিকে নিয়ে যান। নব্বইয়ের দশকে ভারত পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়নে বিস্ময়কর সাফল্যের দেখা পায়। ভারত প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৭৪ সালে৷ দেশটির কাছে আণবিক বোমার সংখ্যা ১২০ থেকে ১৩০টি৷ ভারতের নীতি হচ্ছে- আগে কোনো দেশকে আঘাত করবে না, আর যেসব দেশের পারমাণবিক বোমা নেই, সেসব দেশের বিরুদ্ধে তারা এ ধরনের বোমা ব্যবহার করবে না কোনোদিন৷ সুইডেনের অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিপরির গবেষক শানোন কিলে বলেছিলেন, ‘ভারত যেভাবে তার আন্তমহাদেশীয় অস্ত্রের পাল্লা বাড়াচ্ছে, তাতে এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে, ভারতের লক্ষ্য পাকিস্তান নয় বরং চীন।

৬.পাকিস্তান (পরমাণু অস্ত্র আছে ১৪০)


খেতে পাক না পাক, পাকিস্তান কিন্তু পরমানু বোমা বানিয়েই চলেছে। এতে তাদের প্রচুর আর্থিক খরচ হচ্ছে। দেশে গরীবি বাড়ছে। পাক সরকারের সেসবের তোয়াক্কা নেই। একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়লে ভারতকে যাতে পরমাণু বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেয় সেই চেষ্টাই করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়নে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। যে হারে দেশটি পারমাণনিক অস্ত্রে বিনিয়োগ করছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যেই পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে পঞ্চম শীর্ষস্থানে উঠে আসবে। নিউক্লিয়ার নোটবুকের প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। অ্যাটোমিক সায়েন্টিস্টদের এই রিপোর্টে জানানো হয়, পাকিস্তানের কাছে এখন ১১০-১৩০টির মতো পরমাণু অস্ত্র মজুদ রয়েছে।

৫. গ্রেট ব্রিটেন (পরমাণু অস্ত্র আছে ২১৫টি)

একসময় ব্রিটেন ছিল পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সবার থেকে এগিয়ে। ১৯৭০ সালে ব্রিটেন সরকার ৫২০টির বেশি পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ করেছিল। বর্তমানে ২১৫টি পরমাণু বোমা রয়েছে ব্রিটেনের কাছে৷ যার মধ্যে ১৫০টি বোমা এখনো সক্রিয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এই দেশ ১৯৫২ সালে প্রথম পরমাণু পরীক্ষা চালায়৷ প্রায় ৪৫টি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে নিজেদের সক্ষমতা ভালোভাবেই প্রমাণ করেছে তারা।

৪. চিন (পরমাণু অস্ত্র আছে ২৭০টি)


পরমাণু অস্ত্রের শক্তিতে সবচেয়ে দ্রুত শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে চীন। মাত্র তিন দশকের ব্যবধানে তারা পরমাণু অস্ত্রের অভূতপূর্ব উন্নয়নে সফল হয়। মনে করা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও, জলতলে ও ভূমিতলে আঘাত হানতে সক্ষম এমন প্রযুক্তির পরমাণু অস্ত্রও তারা উন্নয়ন করে যাচ্ছে। ২৭০টি পারমাণবিক বোমা আছে চিনের। তবে অনেকেই বলেন, ভিতরে ভিতরেল অতি গোপনে চিনের পরমানু বোমার সংখ্যা অনেক বেশি। গোটা বিশ্বকে উড়িয় দেওয়ার ক্ষমতা রাখারও পরমানু অস্ত্র তৈরর চেষ্টাও নাতকি চিন করছে।

৩. ফ্রান্সের (পরমাণু অস্ত্র আছে ৩৫০টি)

পরমাণু অস্ত্র সফলভাবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধকরণে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। ফ্রান্স ১৯৬০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। ১৯৬৮ সালের ২৩ আগস্ট প্রথম ফিউশন বোমার পরীক্ষা চালায়।১৯৬০ সাল থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে ২১০টি পরীক্ষা চালিয়েছে। ফ্রান্সের পরমাণু অস্ত্র আছে ৩৫০টি৷ যার মধ্যে অন্তত ২৯০টি সক্রিয়া বোমা। ফ্রান্সের পারমাণবিক বোমার বেশির ভাগই রয়েছে সাবমেরিনে৷

২. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র (পরমাণু অস্ত্র আছে ৬ হাজার ৮০০)

আমেরিকান ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বসানো আছে বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, এবং তুরস্কে – সব মিলিয়ে এগুলোর সংখ্যা প্রায় ১৫০। এছাড়াও আমেরিকার বিভিন্ন ছোট শহরের ফাঁকা জায়গায় কড়া নিরপত্তায় রাখা আছে পরমাণু বোমা। তবে পরমাণু বোমা যে জায়গায় আছে তার হদিশ গোটা আমেরিকায় জানেন মাত্র পাঁচজন।

১. রাশিয়া (পরমাণু অস্ত্র আছে ৭ হাজার ৩০০)


১৯৪৯ সালের ২৯ আগস্ট সেদেশ প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা করেছিল৷ সর্বোচ্চ ক্ষমতার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল ১৯৬১ সালের ৩০ অক্টোবর।২০১৫ সালে রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রভান্ডারকে আরো শক্তিশালী করতে চল্লিশটি আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করা হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্র যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে।পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধকরণে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিধর দেশ রাশিয়া। উন্নত প্রযুক্তির পরমাণু অস্ত্র তাদের সমৃদ্ধ করেছে। রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। রাশিয়ার কাছে পরমাণু ওয়ারহেড আছে ৪৫ হাজারের মতো।নিউক্লিয়ার মিসাইল প্রায় ৮ হাজার।

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: