২০১৯ লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপি-র সবচেয়ে ভরসার পাঁচ মুখ

লোকসভা ভোটে অলআউট লড়াই। রাজ্যে এসে বিজেপি কর্মীদের বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি । লোকসভা ভোটে এরাজ্যে ৫০ শতাংশ আসন দখলের লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিলেন অমিত শাহ। প্রায়োরিটি পশ্চিমবঙ্গ। লোকসভা ভোটে এরাজ্যে থেকে বড় সাফল্যের আশায় গেরুয়া শিবির। রাজ্যে এসে তাই দলীয় নেতা-কর্মীদের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, হিংসা বাংলার সংস্কৃতি নয় ৷ আগে বাংলায় রবীন্দ্র সংগীত চলত ৷ এখন বোমা-গুলির শব্দ শোনায় তৃণমূল ৷ সন্ত্রাস করে বেশিদিন সরকারে থাকা যাবে না৷ পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়নে বাধা দেওয়া হয় ৷

মানুষকে ভোট দিতেও বাধা দেয় তৃণমূল৷ আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে৷ ঘরে ঘরে গিয়ে ভয় দেখিয়েছে শাসকদল ৷ বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে৷ ভোটে ২০ জন বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছে৷ এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার যোগ্যতা নেই ৷ তৃণমূল সরকারকে উপড়ে ফেলুন ৷ কিন্তু ২০১৯ লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপি-র সবচেয়ে ভরসার পাঁচ মুখ কোন নেতা-নেত্রী সেটাই আজ আলোচনার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের মতে তাঁরা কারা দেখে নেওয়া যাক –

৫) বাবুল সুপ্রিয়

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় যে আবার আসানসোলেই দাঁড়াচ্ছেন, তা প্রায় নিশ্চিত। তবে আর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া দার্জিলিং থেকে সম্ভবত লড়বেন না। ২০১৪ সালে বিমল গুরুঙ্গদের সমর্থন পেয়ে দার্জিলিং থেকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন অহলুওয়ালিয়া। কিন্তু গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার রাশ এখন আর বিমল গুরুঙ্গের হাতে নেই। মোর্চার বর্তমান নেতৃত্ব যাঁদের হাতে, সেই বিনয় তামাঙ্গ-অনীত থাপাদের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতাই বেশি। ফলে দার্জিলিং থেকে বিজেপি প্রার্থীর জয় এ বার খুব কঠিন। তাই অহলুওয়ালিয়াকে অন্য কোনও আসনে বা অন্য রাজ্যে প্রার্থী করা হতে পারে। প্রয়োজনে লোকসভায় টিকিট না দিয়ে পরে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে বলেও মনে করছেন বিজেপির একাংশ। তবে বাবুলের উপর নির্ভর করবেই দল।

৪) রূপা গাঙ্গুলি

তিনি সাংসদ। লড়াকু নেত্রী। লোকসভা ভোটে বিজেপি তাঁকে প্রচারে যথাযথ ব্যবহার তো করবেই। সেই সঙ্গে তাঁর উপর দায়িত্ব থাকতে পারে অনেক।

৩) দিলীপ ঘোষ


মেদিনীপুর থেকে দিলীপ ঘোষ লড়তে পারেন— এই জল্পনার আরও কিছু কারণ রয়েছে। দিলীপ ঘোষ যে কেন্দ্রের বিধায়ক, সেই খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রটি মেদিনীপুর লোকসভাতেই পড়ে। ২০১৬-য় বিধায়ক হওয়ার পর থেকে দিলীপের কার্যকলাপ মূলত খড়্গপুর সদরেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মেদিনীপুর শহর, খড়্গপুর গ্রামীণ, দাঁতন, কেশিয়াড়ি-সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে দিলীপ ঘনিষ্ঠরা অত্যন্ত সক্রিয় হয়েছেন। বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওই সব এলাকার জন্য দিলীপের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। কিন্তু দিলীপ ঘনিষ্ঠরা এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত যাতায়াত করছেন, সংগঠন দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, নানা প্রয়োজনে এলাকার লোকজনকে সাহায্য করে জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রই মেদিনীপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত। পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে দাঁতনে বিজেপির বেশ বাড়বাড়ন্তও নজরে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: