লোকসভার আগে এই পাঁচ বড় নেতাকে দলে টেনে বাজিমাত করতে চায় বিজেপি

তৃণমূল নেতৃত্ব মুখে যাই বলুন, এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে বিজেপি তাঁদের বাড়তি চাপে ফেলে দিয়েছে, তা নিয়ে বিশদ কাটাছেঁড়া চলছে অন্দরে। তৃণমূল সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের তিনটি এবং দক্ষিণের একটি জেলায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে জয় মোটেই মসৃণ হচ্ছে না। বিশেষত বিজেপির আশ্চর্যজনক উত্থানের বড়োসড়ো প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দক্ষিণের পশ্চিম বর্ধমানে। পুরুলিয়া আর বীরভূমের সাফল্যের রেশ লোকসভায় সারা বাংলায় ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি।

যদি বেশ কয়েকজন নেতারে বিজেপি দলে টানতে পারে তাহলে এককথায় বাজিমাত কিন্তু বিজেপি করে দিতে পারে। কিন্তু কারা তাঁরা ? একবার আলোচনা করে নেওয়া যাক-

৫) দীনেশ ত্রিবেদী

২০১২ সালের মার্চ মাসের ১৪ তারিখ বিতর্কিত রেল বাজেট পেশ করার কারণে খোয়াতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্ব। তাঁর মুকুটেই উঠতে চলেছে দেশের সেরা সাংসদের পালক। তিনি তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী।
ইন্ডিয়ান পার্লামেন্টারি গ্রুপ বা আইপিজি একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর বছরের সেরা সাংসদের নাম প্রকাশ করে। বিশাল আইনসভার কোন সদস্য সেরা তা ঠিক করে অ্যাওয়ার্ড কমিটি। সাংসদদের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন বিষয়ে সম্যক জ্ঞান ও যুক্তির সাহায্যে নিজের কথা তুলে ধরার ক্ষমতা, সাংসদদের আচরণ ও সংসদে কার্যকলাপে অবদান প্রভৃতি বিষয় খতিয়ে দেখে সেরা সাংসদের নাম ঘোষণা করে ২৪ সদস্যের আইপিজি।
তবে আইপিজি চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করলেও এর পিছনে অ্যাওয়ার্ড কমিটির সুপারিশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন যে কমিটির প্রধান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি, কংগ্রেস নেতা করণ সিং প্রমুখেরা এই কমিটির সদস্য। আইপিজি ২৪ জন দেশের বর্তমান এবং প্রাক্তন সদস্যদের নিয়ে গঠিত। যার মাথায় রয়েছেন স্পিকার।
এরকম এক ব্যক্তিত্বতকে বিজেপি দলে টানলে লাভই হবে।

৪) আব্দুল মান্নান

পাঁচ বারের বিধায়ক। এক বার বিধানসভায় কংগ্রেসের দলের মুখ্য সচেতকও ছিলেন। কংগ্রেসের মধ্যে যে নেতারা জোট গড়ার জন্য প্রথম দিন থেকে সওয়াল করছিলেন, তাঁদের অন্যতম মান্নান সাহেব। সারদা-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবি থেকে গত তিন বছরে বাম নেতাদের সঙ্গে যৌথ ভাবে বহু আন্দোলন কর্মসূচিতেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ফলে সব দিক থেকে বিবেচনা করেই আজ আবদুল মান্নাকেই পরিষদীয় নেতার পদে নিযুক্ত করে জাতীয় কংগ্রেস৷ এখন তিনি বিরোধী দলনেতা। এরকম ব্যক্তিত্বকে দলে টানলে বিজেপি এ রাজ্যে বাজিমাত করবেই।

৩) আরাবুল ইসলাম

জেলে থেকেও পঞ্চায়েতে জয় ছিনিয়ে নিলেন আরাবুল ইসলাম। ভাঙড়ের মাছিভাঙা পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের প্রার্থী দুহাজারেরও বেশি ভোটে জিতলেন তিনি। পোলেরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়ের মুখ দেখলেন আরাবুল পুত্র হাকিমুলও। তবে আরাবুলদের চিন্তা বাড়িয়ে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি আসনে জয়লাভ করেছে জমিরক্ষা কমিটি সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা। পঞ্চায়েত ভোটের দিন তিনেক আগে থেকেই চড়ছিল ভাঙড়ের রাজনৈতিক উত্তাপ। নির্দল কর্মীর খুন ঘিরে আরও উস্কে ওঠে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী জমিরক্ষা কমিটির আন্দোলন। খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি হন সেখানকার তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। তবে তাতেও তৃণমূলের জনসমর্থনে বিশেষ ভাঁটা পড়েনি। মাছিভাঙা পঞ্চায়েত সমিতির একটি আসনে জয়ী হয়েছেন আরাবুল। ভোটের ব্যবধান ২২৬৫। অন্য দিকে, পোলেরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের আসনে ১২৮৭ ভোটে জয়ের মুখ দেখলেন আরাবুল পুত্র হাকিমুলও। পোলেরহাট ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬টি আসনের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮টি আসনে জয় আগেই নিশ্চিত করেছিল তৃণমূল। অর্থাৎ আরাবুলের সংগঠনের জন্য তাঁর কথা বিজেপি ভাবতেই পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: