মোদীকে হারাতে হলে যে ৮টা কাজ করতে হবে বিরোধীদের, পড়ে জানান তা হলে কী সত্যি হারানো যাবে!

দেশের একের পর রাজ্যে বিজয়ধ্বজা ওড়াচ্ছেন নরেন্দ্রী মোদী। দেখতে দেখতে একাই দেশের ১৬টা রাজ্যে পদ্মফুল ফুটিয়েছেন মোদী। জোট ধরলে এখন ২১ রাজ্যে বিজেপি। মোদী ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন দেশের সব ছোট বড় নেতা। এভাবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে দেশের কোন নেতা এভাবে গোটা দেশে জয়ের রথ ছোটাতে পারেননি। তা হলে কী ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে হাসতে হাসতে ক্ষমতায় আসতে চলেছেন মোদী?

আপাতভাবে মনে হবে হ্যাঁ, মোদী সহজেই ২০১৯ সালে ভোটে জিতে ফের ক্ষমতায় আসবেন। কারণ যে রাজ্যের দিকেই তাকাও সেখানেই বিজেপি-র সরকার। ত্রিপুরা, অসমের মত রাজ্যে যেখানে বিজেপি বলে কোনও পার্টিই প্রায় ছিল না, সেখানেও মোদী ঝড় উঠেছে। তাহলে উপায়?

জানুন কীভাবে বিজেপিকে হারানো সম্ভব-

৮) সব ইগো, বিভেদ ভুলে বিজেপি বিরোধী দলদের যে কোনও ভাবে এক হওয়া

নরেন্দ্র মোদী এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু মোদীর জনপ্রিয়তা যে কোনও সমীক্ষাতেই দেখা গিয়েছে ৪৮ শতাংশের বেশি নয়। তার মানে এখনও অধিকাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীকে চান না। এখানেই বিরোধী জোটের বড় ভূমিকা আছে। বিজেপি ঝড়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের কোমর ভেঙেছে। তবে পূর্বের তৃণমূল কংগ্রেস-বিজেপি, পশ্চিমের শিবসেনা, উত্তরের সপা- আম আদমি পার্টি। দক্ষিণের চন্দ্রশেখর রাও। সব প্রান্তের সব বিরোধীরা প্রকৃত অর্থে জোট করতে পারলে মদী বিরোধী হাওয়া তুঙ্গে তোলা সম্ভব। তবে দিদি-কেজরি-সিপিএম-টিডিপি-শিবসেনা-ডিএমকে-সমাজদাবী পার্টি এক জায়গায় হয়ে ভোটে লড়ার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হল ইগো-ইতিহাস সামনে আসে। সেটাকে দূরে রাখতে হবে।

অবিজেপি দলগুলোকে এক জায়গায় করতে সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রাজ্যসভার নির্বাচনেও তিনি সেই চেষ্টা বহাল রাখলেন৷মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের কাছে অনুরোধ এসেছিল৷ আর অভিষেক মনু সিংভি, কপিল সিব্বাল এঁরা আমাদের রাজ্য সরকারের হয়ে অনেক মামলা লড়েছেন। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কংগ্রেসকে সমর্থন করার৷”বাকি চার আসনে তৃণমূলের প্রার্থীরা হলেন নাদিমূল হক, শুভাশিস চট্টোপাধ্যায়, আবির বিশ্বাস, শান্তনু সেন৷কয়েকদিন আগেই বিধান ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাজ্যসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন৷ কিন্তু বাস্তবে সেটা হল না৷ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধীর চৌধুরী বলেন, আমরা আমাদের প্রতীকে লড়াই করছি৷ কেউ যদি আগ বাড়িয়ে সমর্থন করে করে সেটা তাদের ব্যাপার৷ আমাদের প্রার্থী এমনিতেই জিতবে৷ রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্যসভায় কংগ্রেসকে মমতার সমর্থন জোটের পথে আরও একধাপ এগোলো৷ এ প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, ভবিষ্যতে কী হবে সেটা হাইকমান্ড ঠিক করবে৷ আমরা শুধু এটুকুই জানি যে আমাদের এখানে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে জিততে হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: