এমন পাঁচ জন, যাদের ওপর খুব বিশ্বাস করে ঠকেছেন মমতা

এক সময় এদের ওপরেই খুব ভরসা করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদের নাম না নিলে মমতার কাজ হত না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও না কোনও সময়ে এদের ওপর খুব ভরসা করতেন। মমতা বলতেন, তৃণমূলে এরা বড় ভূমিকা নেবেন। কিন্তু ভরসা হল ভারী অদ্ভুত জিনিস। রাজনীতিতে সেই অদ্ভুতটা আরও কিম্ভুত হয়ে যায়। দেখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

৫) কুণাল ঘোষ


দিদি দিদি করে পুরো পাগল ছিলেন। দিদি কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, সেসব একেবারে বন্দনার আকারে লিখে মমতার একেবারে পেয়ারের লোক হয়ে গিয়েছিলেন সাংবাদিক কুণাল ঘোষ। আক্ষরিক অর্থেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন কুণাল ঘোষ। ক্ষমতায় এসে কুণাল বড় পদে বসান। তারপর সটান রাজ্যসভার সাংসদ। কুণাল ঘোষকে ২১ জুলাইয়ের সভার সঞ্চালক, তৃণমূলের হিসাবরক্ষক, তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলার দায়িত্ব। সব সব দেন মমতা। কিন্তু সেই কুণাল এরপর মমতার দেওয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। সারদার সব ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, দিদির নাম ডোবান।

৪) শঙ্কুদেব পণ্ডা

নন্দীগ্রামের বাম বিধায়ক মহম্মদ ইলিয়াসের বি্রুদ্ধে স্টিং অপারেশন করে দিদির নয়নের মণি হয়েছিলেন। শঙ্কুদেবকে ছাত্র সেলের সব দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কথাও দিয়েছিলেন আর একটু বয়স হলে সাংসদ, বিধায়ক সব করে দেবেন। অবশ্য প্রাচীন ইতিহাস— ২০০৮। তিনি এর পর সাংবাদিকতা ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে চলে আসেন। শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের দাপুটে নেতা হিসেবে খ্যাতিও পাচ্ছিলেন। আচমকা সারদা-নারদের জোড়া কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গেল নাম। দলে একরকম ব্রাত্যই হয়ে পড়লেন তিনি।

শঙ্কুদেব পণ্ডা এখন বলছেন, ‘‘রাজনীতি থেকে এখন আমি অনেক দূরে। তবে আমার ছবি রাজনীতির বাইরে নয়।’’ ‘তাঁর’ ছবি। প্রথম ছবি। নাম— ‘কমরেড’। সাংবাদিক থেকে নেতা, নেতা থেকে পরিচালক। ছবি বানাচ্ছেন শঙ্কু। পুরোদস্তুর রাজনৈতিক থ্রিলার!

শনিবারের শ্যুটিং লোকেশন ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা। কাজের ফাঁকে নবীন পরিচালক বললেন, ‘‘সাংবাদিকতা করতে গিয়ে যা যা অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তার সবটা লিখে উঠতে পারিনি। কমরেড-এ সেই না-বলা কথাই বলার চেষ্টা করব।’’ জানা গেল, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-জঙ্গলমহলে সিপিএমের ‘কার্যকলাপ’, তাপসী মালিক, রাধারানি আড়ি— তাঁর ‘না-বলা কথা’য় রয়েছে সবই।ছবির প্রযোজক আত্রেয়ী ইজেল। অভিনয়ে খরাজ মুখোপাধ্যায়, সাহেব ভট্টাচার্য, এনা সাহা, মৈনাক। ছবির সঙ্গীত পরিচালক ‘ভূমি’-খ্যাত সুরজিৎ। অকপট শঙ্কু জানালেন, চিত্রনাট্য লিখতে তাঁকে খুবই সাহায্য করেছে যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েক জন ছাত্রের গবেষণা। এবং বললেন, ‘‘এ ছবিতে এমন ‘মশলা’ থাকবে, যা হল-এ ছাড়া দেখা যাবে না।

টিভিতে অথবা ইন্টারনেটে ডাউনলোড করে দেখলে ছবির ‘ফিল’-ই আসবে না।’সেই চ্যালেঞ্জ! কোথাও যেন উঁকি দিয়ে গেলেন পুরনো ‘শঙ্কু-স্যার’। যিনি ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) রাজ্য সভাপতি। তৃণমূল শাসনের প্রথম কয়েক বছরে যাঁর উত্থান হয়েছিল উল্কার মতোই। পরপর দুই শিক্ষামন্ত্রী তাঁকে বাগে আনতে বিস্তর বেগ পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত টিএমসিপি-র পদ গেলেও তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে তুলে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শঙ্কু থাকতেনও বাইপাসের ধারে, তৃণমূল ভবনে। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। আচমকা সারদা-কাণ্ডে নেমে শঙ্কুকে জেরা করে সিবিআই।

দলও তাঁকে আস্তে আস্তে ঝেড়ে ফেলতে শুরু করে। সেই ঘা শুকোনোর আগেই প্রাক্তন সাংবাদিক টিভিতে দেখেন, নারদ নিউজের স্টিং অপারেশনে তাঁর নিজের ছবি! আরও বাড়তে থাকে ব্যবধান। এই মুহূর্তে দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন? শঙ্কু নিজে কিছু বলতে না চাইলেও সম্প্রতি ‘দূরত্বের’ প্রমাণ পেয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের সরস্বতী পুজোয় গিয়েছিলেন শঙ্কু। তা জানতে পেরে প্রথমে যাবেন বলেও সেই পথ মাড়াননি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়!

৩) কবীর সুমন


সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে দিদির পাশে ছিল কবীর সুমন। দিদির হয়ে গান ধরতেন, সুর বাঁধতেন। সিপিএমকে কথায় কথায় গাল পারতেন। সেই সুমনে দলের কয়েকজনের বিরোধিতা সত্ত্বেও ভোটে দাঁড় করিয়ে সাংসদ করে এনেছিলেন। সুমন অবশ্য সাংসদ হওয়ার বছরখানেক পরেই মমতাকে, তৃণমূলকে যা নয় তাই বলে অপমান করেন।

২) বিমল গুরুং

মমতা ভেবেছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুংকে পাহাড়ে দায়িত্ব দিলেই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু সেসব কিছু হয়নি। উল্টে মমতার দেওয়া ক্ষমতা পেয়ে বিমল আক্কেল গুরুম করে দেন।

১) মুকুল রায়


প্রিয় মুকুলকে সব দিয়েছিলেন মমতা। সব মানে সব। দলের এ টু জেড মুকুলকেই সোঁপেছিলেন মমতা। সারদা চিফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মুকুল রায়ের সঙ্গে দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধ চলছিল। দলে ঝামেলা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে মুকুল রায়কে অপসারণ করেন মমতা। মুকুল রায় ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের মূল কান্ডারি। মুকুল রায়ের দাবি, ১৯৯৭ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের উদ্যোগ নেন। ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর তিনি নতুন দল গঠনের আবেদন করেন ও নিজে সাধারণ সম্পাদক হন। সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলটির সদস্য হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: