আয়কর নিয়ে বড় ঘোষণা মোদী সরকারের, জানুন কত টাকা দিতে হবে আয়কর

কোনও পরিবর্তন নয়, আয়কর হারে। তবে আয়করে বড় ছাড়। বেতনভূকদের আয় করে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন নীতির প্রত্যাবর্তন। ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়করে ছাড়। অন্তর্ভক্ত থাকবে ট্রাভেল অ্যালাউন্স, স্বাস্থ্য ও পরিবহন ভাতায়। সাধারণ বাজেটে এমনই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। বেতন ভুগিদের স্বাস্থ্য বিমান আওতায় আনার উদ্যোগের কথা ঘোষণা হতেই হাততালি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ক্ষুদ্র শিল্পে ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ী কর জমা করেছেন, ৪১ শতাংশ রির্টান ফাইল বেড়েছে। প্রত্যক্ষ কর আদায় বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ। আয়করদাতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮.২৭ কোটি

বছরে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনকারী করপোরেট সংস্থাকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত করছাড়। বছরে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনকারী কৃষিতে উত্সাহদানকারী সংস্থাকে ১০০ শতাংশ কর ছাড়। দেশের আয়করদাতাদের গত আয়কর দান বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন ফাইল করেছেন অতিরিক্ত ৪৭ শতাংশ মানুষ। কর ফাঁকি রুখে গত ২ বছরে সরকারে আয় ৯০ হাজার কোটি টাকা।

২০১৭-১৮ সালে আর্থিক ঘাটতি ছিল জিডিপির ৩.৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত আর্থিক ঘাটতি ৩.৯ শতাংশ। সাংসদের বেতন কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রস্তাব। পাঁচ বছর পরপর পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত। ১ মার্চ থেকেই এই নিয়ম লাগু। পাঁচ কোটি গ্রামবাসীকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেওয়া হবে। বিলগ্নিকরণের মাত্রা বেড়েছে।

পাশাপাশি দেশের রেলব্যবস্থা বড়সড় পরিবর্তনের পথে। দেশের ৬০০টি স্টেশনে তৈরি হবে চলমান সিঁড়ি। সব রেলস্টেশনে ওয়াই-ফাই, সিসিটিভি বসছে।  রেলের জন্য বরাদ্দ ১ লক্ষ ৪৮ ৫২৮ কোটি টাকা কুয়াশার মধ্যে ট্রেন চালানোর জন্য আনা হচ্ছে নয়া প্রযুক্তি। প্রতিটি ট্রেনে ওয়াই ফাই ব্যবস্থা রাখার লক্ষ্য। রেলে পরিকাঠামো উন্নয়েনে জোর। বৈদ্যুতিকরণ করা হবে ৪ হাজার কিমি নয়া রেলপথকে।

এদিকে, ন্যাশনাল হেল্থ প্রোটেকশন স্কিমে ১০ কোটি দরিদ্র পরিবারের জন্য পরিবার পিছু প্রতি বছর বরাদ্দ ৫ লাখ টাকা । এটি বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ১২০০ কোটি টাকা। ১.৫ লক্ষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়া হবে। ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

সংসদে বাজেট পেশ করছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। দেখুন কী কী বড় দশটা ঘোষণা আপাতত তিনি করেছেন।

১) বড় তিনটি ঘোষণা- ২০২২-এর মধ্যে দেশের প্রতিটি গরীব পরিবারের মাথায় ছাদের ব্যবস্থা করা হবে। বলে জানালেন, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। উজ্জ্বলা যোজনায় ৮ কোটি মহিলাকে রান্নার গ্যাসের সংযোগ  গ্রামীণ বিদ্যুত্ সংযোগে ১৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে।

২) বড় বরাদ্দ- তপশীলী উপজাতিদের জন্য একলব্য মডেল স্কুল। কৃষককদের প্রাতিষ্ঠানিক লোনের জন্য বরাদ্দ ১১ লক্ষ কোটি টাকা। মত্স্যচাষ ও পশুপালনে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার্য করা হল। বাঁশ উত্পাদন খাতে ১২৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

৩)স্কুলে ব্ল্যাকবোর্ড উঠে যাচ্ছে আসছে ডিজিটাল বোর্ড। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন করা হবে।

৪) স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নতিকরণে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ।। সেচে ২৬ হাজার কোটি টাকার ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। দেশজুড়ে ২ কোটি শৌচালয় বানানোর পরিল্পনা।

৫) হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লিতে নাড়া পোড়ানোর জন্য বিশেষ প্রকল্প। কৃষি রপ্তানি নিয়ম শিথিল করবে সরকার। ৪২টি রপ্তানি কেন্দ্র তৈরি করা হবে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ১৪০০ কোটি টাকা ধার্য।জৈবকৃষিতে ২০০ কোটি টাকা ধার্য করা হল : জেটলি

৫) ১০০ দিনের কাজের মাধ্যেমে গ্রামীণ হাটের উন্নয়ন করবে সরকার। নয়া গ্রামীণ বাজার ই-ন্যাম তৈরির ঘোষণা। ৪২ টি মেগা ফুড পার্ক তৈরি করা হবে। কৃষিজ পণ্যের বাজার তৈরির জন্য দু’হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল সরকার। কিষাণ ক্রেডিট কার্ড পাবেন পশুপালকরাও। মত্স্যচাষেও এই কার্ড পাওয়া যাবে।

৬) ক্ষুদ্র জলসেচে জোর। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জাতীয় আয় ৬.৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। বায়ুদূষণ রোধে বিশেষ তহবিল।হরিয়ানা, পঞ্জাব, দিল্লি , উত্তরপ্রদেশের বায়ু দূষণ রুখতে পদক্ষেপ।

৭) আগামী চাষের মরশুম থেকে ফসলের নূন্যতম দাম চাষের খরচের দেড়গুণ করা হবে। চাষের খরচের ৫০ শাতাংশ আয় নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ছোট ও মাঝারি শিল্পে ৩৭৯৪ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার।

৮) একই জমিতে বেশি ফলস ও ফসলের সঠিক দামবৃদ্ধি লক্ষ্য। কৃষকদের আয়বৃদ্ধির আমাদের লক্ষ্য। জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৪ শতাংশ। জিডিপি থেকে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা মিলেছে। আমাদের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা আনতে একাধিক কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

৯) প্রত্যেক তিনটি সাংসদীয় ক্ষেত্রে একটি করে মেডিক্যাল কলেজ। ২৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ। ন্যাশনাল হেল্থ প্রোটেকশন স্কিমে ১০ কোটি দরিদ্র পরিবারের জন্য পরিবার পিছু প্রতি বছর বরাদ্দ ৫ লাখ টাকা । এটি বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ১২০০ কোটি টাকা। ১.৫ লক্ষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়া হবে। ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

১০) তপশিলি জাতির উন্নয়নের জন্য ৫৬,৬১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ। তপশিলি উপজাতিদের উন্নয়নের জন্য ৩২,৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: