দেশের এই পাঁচ নেতাকে এবার হারাতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন মোদী

দেশের একের পর রাজ্যে বিজয়ধ্বজা ওড়াচ্ছেন নরেন্দ্রী মোদী। দেখতে দেখতে একাই দেশের ১৬টা রাজ্যে পদ্মফুল ফুটিয়েছেন মোদী। জোট ধরলে এখন ২১ রাজ্যে বিজেপি। মোদী ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন দেশের সব ছোট বড় নেতা। কিন্তু সিংহাসন ধরে রাখতে মোদীর এখন টার্গেট এই পাঁচ নেতা-নেত্রী। এই পাঁচ নেতা-নেত্রীরা যেমন কোমর বেধে মোদীকে হারাতে ময়দানে নেমেছেন।

মোদী তেমন আদাজল খেয়ে নামছেন এঁদের হারাতে। হাজারো কাজের ফাঁকে মোদী আলাদা করে এই পাঁচ নেতা-নেত্রীদের হারাতে ছক কষেন। দেখুন সেই সব নেতা-নেত্রীদের,যারা মোদীর শত্রু তালিকায় একেবারে ওপরের দিকে রেখেছেন-

৫) নবীন পট্টনায়ক (ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী)

ওডিশায় ১৮ বছর ধরে তিনি ক্ষমতায়। জয় জগন্নাথের রাজ্যে বিজু জনতা দলের ধ্বজা তিনি উড়িয়ে চলেছেন। অটল বিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার সদস্য হয়ে আত্মপ্রকাশ নবীন পট্টনায়েকের। তাঁর বাবা বিজু পট্টনায়েক ছিলেন ওডিশার জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী। নবীন বিজেপি-র সঙ্গে হাতমিলিয়ে শুরু করলেও পরে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসে একা লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাজপেয়ীকে পছন্দ করলেও মোদীকে একদমই পছন্দ করেন না নবীন। ওডিশায় বিজেপি দাঁত ফোটাতেই নবীন তৃতীয় ফ্রন্ট খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। নবীন গড়ে বিজেপি ফুল ফোটাতে শুরু করছে। আগামী বছর ওডিশায় বিধানসভা ভোট, তার নবীনকে প্রাক্তন করে মোদী-শাহ জুটি আদা জল খেয়ে নেমেছেন।

২০১৪–‌র বিধানসভা নির্বাচনে ১৪৭টি আসনের ওড়িশা বিধানসভায় বিজেডি পায় ১১৭। কংগ্রেস ১৬টি, বিজেপি ১০টি এবং সিপিএম–‌সহ অন্যরা ৪টি আসনে জেতে। কিন্তু, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফল নবীন পট্টনায়কের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মোট ৮৫৪টি আসনের মধ্যে শাসক দল বিজেডি পেয়েছে ৪৬০ এবং বিজেপি–‌র দখলে চলে গেছে ৩০৪টি, কংগ্রেস ৬৬ এবং অন্যরা ২১টি। ২০১২–‌র নির্বাচনে বিজেডি–‌র হাতে ছিল ৬৫১টি আসন, কংগ্রেসের ছিল ১২৬টি। ফলে কী ঘটছে তা স্পষ্ট। বিজেডি–‌র লোকসভার সাংসদ বৈজয়ন্ত (‌জয়)‌ পান্ডা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি–‌র দিকে ঝুঁকে রয়েছেন। অন্যদিকে, লোকসভার দলনেতা ভর্তৃহরি মহতাবকেও বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যায় না। এই দুই প্রভাবশালী নেতা বিজেপি–তে যোগ দিয়ে নবীনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, এমন জল্পনা রয়েছে।‌ কাজেই বিজেডি–র সামনেও বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়া ছাড়া পথ তেমন খোলা নেই।‌

বিহারে নীতীশ কুমার বিজেপি–‌র সঙ্গে হাত মেলানোর পর নীতীশের জনতা দল (‌ইউনাইটেড)‌–কে আবারও এনডিএ–তে পেতে চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। একদিকে যখন বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি,‌ তখন বিজেডি–র সঙ্গে সম্ভাব্য পূর্ণ বিচ্ছেদ নিয়ে আক্ষেপ নেই বিজেপি–‌র। কারণ, মোদি–‌শাহর দল এখন ‌ওড়িশা‌জয়ের স্বপ্ন দেখছে। বিজু জনতা দলের এক প্রবীণ সাংসদের বক্তব্য, ‘‌রাজনীতিতে বন্ধুত্বের মেয়াদ ততক্ষণ যতক্ষণ না আসন কেড়ে নেওয়ার ভয় আসছে। ওড়িশায় বিজেপি–‌র কাছ থেকে সেই ভয় দেখছে বিজেডি। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এখন অঙ্কের হিসেবে প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। প্রধান বিরোধী দলের জায়গা দখল করে নিয়েছে বিজেপি। চলতি বছর রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর কেন্দ্রে বিজেপি–‌র সঙ্গে আর সুসম্পর্ক রাখা হবে কিনা তা নিয়ে আমাদের তাই ভাবতেই হচ্ছে।’‌

৪) উদ্ভব ঠাকরে (শিবসেনা প্রধান)


তিনি ছিলেন যেন ঘরের শত্রু বিভীষণ। নরেন্দ্র মোদীর সরকারের শরীক দল হলেও শিবসেনা বরাবর বিজেপি-কে খোঁচা দিয়ে এসেছে। মোদীর নিন্দা করে রাহুল গান্ধীর প্রশংসা ও করেন শিবসেনার প্রধান উদ্ভব ঠাকরে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনাকে পাত্তা না দিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বিজেপি-র দেবেন্দ্র ফডনবীশ শিবসেনাকে একেবারে গুরুত্বহীন করে দেন। সেই রাগে উদ্ভব ঠাকরে নমোদীর বিরুদ্ধে সরব। মোদীও চাইছেন উদ্ভবকে আরও বড় শিক্ষা দিতে। আসন্ন লোকসভা ভোটে শিবসেনাকে হারাতে মোদী দারুণ জোর দিচ্ছেন।

৩) প্রফুল্ল প্যাটেল (এনসিপি-র শীর্ষনেতা)


শরদ পাওয়ারের দল এনসিপি-র সব দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। দেশের ফুটবলের মাথা প্রফুল্ল এখন মোদী সরকারকে হারাতে ময়দানে নেমেছেন। মমতা ব্যানার্জি, লালুপ্রসাদ, ফারুক আবদুল্লা, নবীন পট্টনায়েকদের এক জায়গায় তিনিই আনছেন। মোদী চান প্রফুল্লকে হারাতে।

২) রাহুল গান্ধী (কংগ্রেস সভাপতি)


তাঁর পয়লা নম্বর শত্রু। দেশের প্রধান বিরোধী দলের মুখ রাহুল গান্ধীকে অপ্রসাঙ্গিক করতে নানা চেষ্টা করছেন মোদী। গুজরাটে রাহুল মোদীকে ধাক্কা দিয়েছিলেম, শেষমেশ অবশ্য মোদীর দল কোনওরকমে জিতেছিল। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে পুরো মুছে যাওয়া রাহুল অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এখনও তিনিই মোদীর সিংহাসনের সবচেয়ে বড় থ্রেট।

১) মমতা ব্যানার্জি (তৃণমূল সুপ্রিমো)


গত ক টা বছরে তিনিই সবচেয়ে বেশিবার চড়া সুরে নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেছেন। মোদী দাঙ্গাবাদা, কোমরে দড়ি বেধে ঘোরাবেন..মোদীর বিরুদ্ধে নানা সময় এভাবে তোপ দেগেছেন মমতা। মোদী এসব মোটেও ভালভাবে নেননি। নেননি বলেই মুকুল রায়কে নিয়ে এসে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, দিদিকে হারালে বড় পুরষ্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: