বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কলকাতার মেয়র শোভন চ্যাটার্জি! যে কথাটা শুনে পরিষ্কার হল

তৃণমূলে তিনি একেবারেই কোণঠাসা। যে কোনও দিন তাঁকে কলকাতার মেয়র সহ রাজ্যের তিনটি মন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতা সেই শোভন চ্যাটার্জি কী বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? উত্তরটা জানার আগে জেনে রাখুন শোভনের ওপর কেন রুষ্ট হলেন দিদি।চলতি সপ্তাহেই মন্ত্রী-মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে যাবতীয় জল্পনার অবসান হতে চলেছে৷

বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার পুরসভার বাজেট অধিবেশনে জবাবী ভাষণ দেওয়ার পরই মন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা দেবেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷তাঁর পদত্যাগপত্র তৈরি হয়ে গিয়েছে৷ এদিকে, তৃণমূল সূত্রের খবর, মেয়র পদ থেকে তিনি নিজে ইস্তফা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনা হতে পারে৷

আসলে প্রথম নারদায় জড়িয়ে, তারপর স্ত্রী-র সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক। শোভেনর সম্পর্ক অনেক অভিযোগ পাচ্ছিলেন মমতা। তবু দিদি সুযোগ দিচ্ছিলেন। কিন্তু দিদি ক্ষিপ্ত হন, যখন দেখেন কাননের আর কাজে মন নেই। তারপর শোভনের বিকল্প হিসেবে কলকাতার মেয়র হিসেবে দেবাশীষ কুমারের নাম উঠে আসে।

শোভন চ্যাটার্জির জায়গায় কলকাতার মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা যে পাঁচ তৃণমূল হেভিওয়েটের

এই মুহূর্তে তিনটি দফতর রয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাতে৷ সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন মন্ত্রীত্ব থেকে৷ তবে মেয়র পদ থেকে তিনি এই সপ্তাহেই সরছেন কিনা তা বুধবার অর্থাৎ পুরসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে স্পষ্ট হয়ে যাবে৷

গোলপার্কের বাসভবনে হামলার আশঙ্কা নিয়ে থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শোভন। যদিও আলিপুর আদালত রত্না চট্টোপাধ্যায়ের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে। রত্নার পাল্টা দাবি, ‘গোলপার্কের বাসভবন আমার ভাইয়ের। শোভনকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে। ভাই চাইলে, আইনি পদ্ধতিতে বাড়ির দখল ফেরত নিতেই পারে।‘

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে চিড় ধরেছে অনেক আগেই। তার আগে আজ মেয়র শোভন চ্যাটার্জির দাম্পত্য কলহ এখন সংবাদ শিরোনামে। কিন্তু এবার সেই ফাটলে মোলম লাগাতে এগিয়ে এলেন স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। একদিকে যখন ভিটে হারানোর আশঙ্কা নিয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে গোলপার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করছেন শোভন, রত্না জানালেন, ‘ও চাইলে ফিরে আসতেই পারে। এখনও আমি শোভনের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি আছি। আমি চাই ও ফিরে আসুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওর শুভবুদ্ধি উদয় হোক।‘

এখন মমতা ব্যানার্জির সবচেয়ে বড় ছয় শত্রূ, যাদের জন্য তাঁর ঘুম না আসারই কথা

একসময়ের দলীয় সতীর্থ, কিন্তু আজ তাঁদের পথ আলাদা। শোভন যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, দলের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ যখন কেবল সময়েরই অপেক্ষা, ঠিক তখনই শোভন চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুকুল রায়। মুকুল বললেন, ‘উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ লোক। মমতার সমস্ত ও জানে।’

তৃণমূল সূত্রে যেটা জানা গিয়েছে, মেয়র পদ থেকে শোভন নিজে ইস্তফা না দিলে তাঁকে অপসারণ করা হতে পারে৷ সেক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে পুরসভায় অনাস্থা আনা হবে। যেহেতু মেয়র নির্বাচিত পদ, তাই সেই প্রক্রিয়াটি এক্ষেত্রে সময়সাপেক্ষ ও জটিল। সূত্রের মতে, শোভন নিজে নয়, তাঁর সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা সাংগঠনিক স্তরেই নেবে তৃণমূল। অর্থাৎ তিনি ইস্তফা দিতে চাইলেন কি না, সেটা প্রাসঙ্গিক নয়। দল যদি মনে করে তাঁর আচরণে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কমিটি শাস্তির সুপারিশ করতে পারে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে সোমবার নদিয়ার রানাঘাটে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শোভন প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। আর তাতেই জল্পনা তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে।

মুকুল বলেন, ‘বহু নেতাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সেরকম হলে তৃণমূল দলটাই ভেঙে যাবে।‘ মুকুলের এই কথা যথেষ্টই ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শোভন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, কেনই বা মুকুল একথা বললেন, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: