‘পদ্মাবতী’র পাশে থাকা মমতা ব্যানার্জির নাক কেটে সুর্পণখা বানিয়ে দেওয়ার হুমকি বিজেপি নেতার

দীপিকা পাডুকোনকে যিনি মাথা কাটতে চেয়েছেন তিনিই এবার মমতা ব্যানার্জি-র নাক কাটার হুমকি দিলেন। দীপিকা পাড়কোনের পদ্মাবতী-কে সমর্থন করায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাক কাটার হুমকি দিলেন বিজেপির বিতর্কিত নেতা সুরজ পাল আমু। হরিয়ানা বিজেপির নেতা সুরজ পাল আমু-র এই মন্তব্য ঝড় উঠেছে। সুরজ পাল আমু-কে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা।

হরিয়ানার এই বিজেপি নেতা বলেন, যারা পদ্মাবতীর চরিত্রকে বিকৃত করে লোককে দেখিয়ে ইতিহাস বিকৃত করে তাদের যেমন বেঁচে থাকার অধিকার নেই, তেমনই যারা ওদের সমর্থন করে তাদের নাক নিয়ে ঘোরার অধিকার নেই। এরপর সূরজ পাল আমুকে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, 

”শয়তানের মতো আচরণ করলে কোনও মহিলার পরিণতি সুর্পণখার মতো হবে। এটা মনে রাখা উচিত মমতার।” এভাবেই কার্যত মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে নাক কাটার হুমকি দিলেন আমু। শুধু দীপিকা বা বনশালীর উদ্দেশে হুমকি দিয়েই থেমে ছিলেন না হরিয়ানার এই বিজেপি নেতা। একইসঙ্গে ছবিতে আলাউদ্দিন খলজীর ভূমিকায় অভিনয় করা রণবীর সিংয়ের পা ভেঙে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ‘পদ্মাবতী’র মুক্তি আটকানোর জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও। ছবি মুক্তি আটকাতে দরকারে দল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন আমু।

যাবতীয় বিরোধিতাকে অগ্রাহ্য করে সোচ্চারে পদ্মাবতী ছবির পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আলোচনাসভায় তিনি বলেন, ”অন্য রাজ্যে ‘পদ্মাবতী’ মুক্তি না পেলেও ছবি দেখানোর জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করতে তৈরি পশ্চিমবঙ্গ। এটা করতে পারলে বাংলা গর্বিত ও খুশি হবে। সঞ্জয়লীলা বনশালি ও টিম পদ্মাবতীকে পশ্চিমবঙ্গে স্বাগত জানাচ্ছি।”বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে সঞ্জয় লীলা বনশালী পরিচালিত সিনেমা পদ্মাবতী। মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটে ইতিমধ্যেই পদ্মাবতীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এবার হয়তো রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশের মত বিজেপি শাসিত রাজ্যেও পদ্মাবতীর দরজা বন্ধ হবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঞ্জয় লীলা বনশালী-দীপিকা পাড়ুকোনের বিতর্কিত এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া সিনেমার জন্য দরজা খুলে দিলেন। পদ্মাবতী-বিতর্কে ছবির নির্মাতাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

কয়েকদিন আগেই, টুইটারে মমতা জানিয়েছিলেন, ছবি ঘিরে এই বিতর্ক শুধুমাত্র হতাশাজনক নয়। দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ‘সুকৌশলে’ ধ্বংস করাই হল আসল পরিকল্পনা। আমরা এই সুপার-এমার্জেন্সির নিন্দা করছি। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সকলের এগিয়ে এসে এক সুরে প্রতিবাদ করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যদি তাঁরা (বনশালী ও প্রযোজক) পদ্মাবতীকে অন্য কোনও রাজ্যে মুক্তি না করাতে পারেন, তাহলে আমরা এরাজ্যে বিশেষ ব্যবস্থা করব। এর জন্য বাংলা খুশি এবং গর্বিত অনুভব করবে। আমরা সবকিছুর দায়িত্ব নেব। সঞ্জয় লীলা বনশালী ও তাঁর গোটা টিম আমাদের রাজ্যে স্বাগত।

এর আগে পদ্মাবতী সিনেমার প্রধান অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন ও পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালীর মাথার দাম ১০ কোটি হাঁকিয়ে ছিলেন হরিয়ানার এই বিজেপি নেতা সুরজ পাল আমু।

এর আগে মেরঠের ঠাকুর নেতা অভিষেক সোম বনশালী ও দীপিকার মুণ্ডচ্ছেদের জন্য ৫ কোটি রুপি দর হেঁকেছিলেন।

ক দিন আগে এক সভায় সুরজ পাল আমু বলেন, ‘যে বা যারা দীপিকা ও বনশালীর মুণ্ডচ্ছেদ করতে পারবে, তাদের ১০ কোটি রুপি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তাদের পরিবারের সব দায়িত্বও নেব।’

সূত্র : ABP Ananda

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: