ভোট দিতে যাওয়ার আগে জেনে রাখুন এই সাতটা জরুরী তথ্য

দীর্ঘ টালবাহান পর অবশেষে, সোমবার পঞ্চায়েত ভোট। সোমবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে যাবে ভোটগ্রহণ। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জেলায় জেলায় এদিন চলল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে ভোটের অপেক্ষায় গ্রাম বাংলা। ভোটকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার হচ্ছে ব্যালট বাক্স। সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী। থাকছেন সিভিক ভলান্টিয়াররাও। শান্তিপূর্ণ ভোট করানো নিয়ে কমিশন ও রাজ্য প্রশাসন একে অপরের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ২০১৩ সালে ২৫ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান নামিয়ে ভোট হলেও, তাতেও হিংসা থামানো যায়নি। এবার সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই। ফলে চিন্তায় রয়েছে কমিশন।

সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে বিরোধীরা বার বার কেন্দ্রীয় বাহিনীর আর্জি জানালেও, রাজ্য সরকারের তরফে সে দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়। বরং দাবি করা হয়, পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তায় রাজ্যের হাতে মোট যে পুলিস আছে, তা-ই যথেষ্ট।উল্লেখ্য, এবারই প্রথম ভোটে কারারক্ষী, আবগারি কর্মী, বনরক্ষী, হোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এতদিন যাঁরা বন সামলেছেন, তাঁরাই এবার বুথ সামলাবেন। যদিও তাতে এতটুকু দমছেন না বনরক্ষীরা। রীতিমত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করলেন, তাঁদের অনেকরই অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ রয়েছে। অন্যদিকে, একদা মাওবাদী এলাকা বলে পরিচিত ঝাড়গ্রামে মোতায়েন করা হয়েছে মাওবাদী দমনে বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী। বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়ারি, কেশপুর, গড়বেতা প্রভৃতি অঞ্চলের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির জন্যও।

ভোট দিতে যাওয়ার আগে জেনে রাখুন এই সাতটা জরুরী তথ্য-

৭) কোনও দলীয় প্রতীক নিয়ে বা দলীয় প্রতীক যুক্ত জামা বা শার্ট পরে ভোট দিতে গেলে গ্রেফতার হতে পারেন কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়ে বা দলীয় প্রতীক যুক্ত জামা বা শার্ট পরে ভোট দিতে যাবেন না। তাহলে আদর্শ নির্বাচন বিধি ভঙ্গের দায়ে গ্রেফতার পর্যন্ত হতে পারেন।

৬) আপনার ভোট গোপন রাখুন, অন্যকেও রাখতে দিন আপনার ভোট গোপন রাখুন, অন্যকেও রাখতে দিন। ভরসা নেই কমিশন ও পুলিসে। তাই পঞ্চায়েত ভোটে যে কোনও অনিয়ম বা হিংসার ছবি দলীয় কর্মীদের মোবাইল ফোনে তুলে রাখতে নির্দেশ দিল বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। দলের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই ছবি সঙ্গে সঙ্গে পাঠাতে হবে দলের নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে। এভাবেই পঞ্চায়েত ভোটে কার্যত নিজেদের সমান্তরাল পর্যবেক্ষণ বাহিনী ময়দানে নামাল গেরুয়া শিবির।

৫) ভোট দিতে যাওয়ার সময় পরিচয় পত্র অবশ্যই সঙ্গে রাখুন ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড, বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মত কোনও পরিচয় পত্র অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। ভোটার স্লিপ সঙ্গে রাখলে সুবিধা হয়।

৪) কেউ ভোট দিতে বাধা দিলে প্রশাসন ও মিডিয়াকে জানান

৩) ভোট দিতে গিয়ে কখনও অযথা বচসায় জড়াবেন না

রাজ্যের ৩৩০টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে শাসক দল ইতিমধ্যেই ১২৫টি পঞ্চায়েত সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে (যদিও সুপ্রিম কোর্টে এই জয়ের মীমাংসা হবে)। এর বাইরে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ সংখ্যালঘু আসনে বিজেপি প্রার্থী দিতে পারেনি। ওবিসি-এ ক্যাটাগরিভুক্ত সংরক্ষিত দশ শতাংশ আসনের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজেপি কোনও প্রার্থী দিতে পারেনি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর যেমন রয়েছে তেমনই দক্ষিণবঙ্গের বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং এমনকী নদিয়ার সংখ্যালঘু প্রধান অধিকাংশ জায়গায় বিজেপি প্রার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা। রাজ্যের ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষকে এখনও বিজেপি শাসক বিরোধী লড়াইয়ে সামিল করতে পারেনি। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় থেকে জ্যোতি বসু হয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— সকলেই রাজ্যপাটে বসেছিলেন সংখ্যালঘুদের বিপুল সমর্থন নিয়ে। সংখ্যালঘু সমর্থন বাদে বিজেপির পক্ষে রাজ্যে পরিবর্তন ঘটানো আদতেও কি সম্ভব?

২) কোনও প্রার্থীকে পছন্দ না হলে নোটায় ভোট দিন, তবে ভোট অবশ্যই দিতে যান


পঞ্চায়েত ভোটে নেই ইভিএম। নেই ‘নোটা’র মতো অপশনও। কিন্তু তবু ভোটারদের কথা মাথায় রেখেই ব্যালট পেপার ‘রিটার্ন ক্যানসেল’ করার ব্যবস্থা রাখছে নির্বাচন কমিশন। কীভাবে এই ‘রিটার্ন ক্যানসেল’-এর ব্যবহার হবে তাও জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পোলিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার হাতে নেওয়ার পরও কোনও ভোটারের মনে হতেই পারে তিনি ভোট দেবেন না। অর্থাত্‍ তালিকাভূক্ত কোনও প্রার্থীই তাঁর পছন্দের হয়নি। সেক্ষেত্রে পোলিং অফিসারের কাছে ব্যালট পেপার নিলেও তা ভোট বাক্সে পড়বে না। তা ‘রিটার্ন ক্যানসেল’ হয়ে চলে যাবে আলাদা খামে। বুথের প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরের পর বিশেষ খামবন্দি করা হবে তা। এবং সেই ব্যালটও পৌঁছবে রিসিভিং সেন্টারে। তবে তা গণনা হবে না। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশকে ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণের সময় জানিয়ে দিচ্ছে প্রশাসনই। অর্থাত্‍ ব্যালটে অপশন না থেকেও কার্যত ব্যবহার থাকবে নোটার।

১) ইভিএম নয়, ভোট হবে ব্যালট পেপারে


পুরুলিয়া জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”পঞ্চায়েত ভোটে নোটা না থেকেও যেন কোথাও তার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। ব্যালট গ্রহণের পর ভোট দিতে না চাইলে তা নষ্ট না হলেও ফেরত দেওয়া যাবে। সেই ব্যালট ‘রিটার্ন ক্যানসেল’ হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের সই-এর পর আলাদা খামে বন্দি হবে।” আর কোন ব্যালট নষ্ট হলে তা অবশ্যই ‘স্পয়েল ব্যালট’ বলে চিহ্নিত হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণভাবে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ছাড়া চারজন পোলিং অফিসার-সহ মোট পাঁচজন ভোট কর্মী থাকবেন। তবে যেসব বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২৫০ থেকে ১৪০০-র মধ্যে সেখানে প্রিসাইডিং অফিসার সহ মোট ছ’জন ভোট কর্মী দেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন। তবে যেসব বুথে ভোটার সংখ্যা ১৪০০ হবে সেখানে অক্সিলিয়ারি বুথের মাধ্যমে দু’ভাগে ভাগ করে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: