২০১৭ সালে বিশ্বের বাজারে ছ’টি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ড, দেখুন তো আপনার পছন্দেরটি আছে কি না!

রাস্তাঘাটে এখন যেদিকেই তাকান, সেদিকেই লোকজনের হাতে স্মার্টফোন। কিছু ব্র্যান্ড আপনার খুব পছন্দ, আবার কিছু ব্র্যান্ড মোটেই না। এখনও অনেকে নামি ব্র্যান্ড বলতে যেগুলিকে চেনেন, সেই কোম্পানির ফোন দেখলে হাঁ করে চেয়ে থাকেন। আবার অনেক কোম্পানির নাম শুনে হয়ত আপনার পছন্দ না হলেও নিজের চোখে অন্যের হাতে সেই কোম্পানির হ্যান্ডসেট দেখলে, লুক খুব পছন্দ হয়।

এমনটা নয় যে লোকে তুনলায় কম নামি ব্র্যান্ডের ফোন কেনেন না। বরং বেশিই কেনেন। কমদামে যেখানে আপনার হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছে অন্য সংস্থা, সেখানে তুলনায় নামি ব্র্যান্ডের লোগো, ফিচার্সের সঙ্গে একটু কম্প্রোমাইজ করাই যায়। সত্যি কথা বলতে ফোনে অনেক ফিচার্স থাকে, যেগুলি বেশিরভাগ মানুষের কাজেই লাগে না। আর তার পিছনে অর্থ খরচ করার কোনও মানেও হয় না। এমন ভাবনা অনেকেই পোষণ করেন। আপনার আশেপাশেও কথাগুলি শুনে থাকবেন।

একসম নোকিয়া ফোন ভারতের বাজারে রাজত্ব করেছে। সময়ের সঙ্গে স্মার্ট হতে না রেরে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। এখন অবশ্য নতুন করে ফেরার চেষ্টা করছে তারা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে। যাইহোক গত তিনচার বছরে কিন্তু ভারতীয় বাজারে আরও বেশ কয়েকটা অন্য ব্র্যান্ডের ফোন জায়গা করে নিয়েছে। মার্কিনী অ্যাপল ব্র্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংকে টেক্কা দিয়ে ভালো বাজার ধরছে চিনা মোবাইল সংস্থাগুলি। একবার তাদের আয়ের দিকে চোখ বোলান বুঝে যাবেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও ছেয়ে গিয়েছে সস্তার চাইনিজ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন। সদ্য বিগত হওয়া ২০১৭ সালে দেড় বিলিয়ন ডলার বিক্রির মাত্রা ছাড়িয়েছে সম্মিলিতভাবে চিনা ব্র্যান্ডের ফোনগুলি। এর আগে এমন বাজার করতে দেখা যায়নি তাদের।

২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া স্মার্টফোন ব্র্যান্ড –

৬. শাওমি

শাওমি নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে তাদের হ্যান্ডসেট বিক্রি করে লাভ হয়েছে ৪১ শতাংশ। এক নম্বরে যে ব্র্যান্ড আছে, তাদের থেকে লাভের অঙ্কে পিছিয়ে থাকলেও লাভ অনেকটাই বাড়িয়েছে শাওমি। আর তার মূল কারণ অনলাইনে নয়, হুয়াওয়ে আর ওপো’র মতো অফলাইন বাজার ধরার চেষ্টা অন্যান্য দেশে। যদিও চিন্তার বিষয় থাকছেই। কারণ, লাভের অঙ্ক বেশিটাই এসেছে কমদামের স্মার্টফোন থেকে। তাদের ফ্ল্যাগশিপ ফোন এমআই মিক্স ২ এবং ৬-এর বিক্রির ওপর আরও জোর দিতে হবে। প্রতি হ্যান্ডসেট শাওমি’র লাভ এখন ২ ডলার।

৫. ভিভো

বিক্রির বাজারে লাভের অঙ্ক দেখলে ভিভো পাঁচে। অন্যান্য দেশে বাজার করলেও, তাদের মূল বাজার চিনই। হ্যান্ডসেট প্রতি ভিভো’র লাভ ১৩ ডলার।

৪. ওপো

সারা বিশ্বে হ্যান্ডসেটে বেচে লাভের দিক থেকে ওপো রয়েছে চার নম্বরে। এই কোম্পানিরও বাজার মূলত চিন। হ্যান্ডসেট প্রতি ওপো কোম্পানির লাভের পরিমাণ ১৪ ডলার।

৩. হুয়াওয়ে

২০১৭ সালের ত্রৈমাসিকে হুয়াওয়ে ৬৭ শতাংশ লাভের পরিমাণ বাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে। কোম্পানি নামি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হ্যান্ডসেটের দাম বাড়ানোয় লাভের পরিমাণ এতোটা। মেট এবং পি সিরিজের হ্যান্ডসেট বাজারে আনার পর থেকে ৬ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে কোম্পানির। হ্যান্ডসেট প্রতি লাভের পরিমাণ ১৫ ডলার।

২. স্যামসাং

দক্ষিণ কোরিয়ান এই কোম্পানি গত বছরের ত্রৈমাসিকে আবার ফিরে এসেছে। নোট ৮, গ্যালাক্সি ৮ সিরিজ মূলত বাজার ধরেছে। বছরের শেষেও বিক্রির পরিমাণ একই রকম ছিল। ২০১৬ সালে বাজারে আসা গ্যালাক্সি নোট ৭-এর কারণে আয় কমেছিল স্যামসাং’য়ের। সেই তুলনায় বিক্রি ২৬ শতাংশ বেড়েছে। নোট ৮-এর সঙ্গে মিড-রেঞ্জের জে সিরিজের হ্যান্ডসেটের চাহিদা লক্ষ্য করা গিয়েছে। সারা বিশ্বে মোবাইল বিক্রির বাজারের চল্লিশ শতাংশের মধ্যে প্রায় পুরোটাই স্যামসাংয়ের দখলে।

১. অ্যাপল

মার্কিন এই মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাই বিশ্বের বাজারের ষাট শতাংশ দখল করে রেখেছে। যদিও গত বছর লাভের অঙ্ক নেমে ৮৬ শতাংশে দাঁড়ায়। আইফোন ৮ সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। ২০১৬ সালে স্যামসাংয়েরও বাজার এরকম খারাপ হয়েছিল গ্যালাক্সি নোট ৭ রেঞ্জের হ্যান্ডসেট ঠিকমতো বাজার ধরতে না পারায়। অ্যাপল বর্তমানে প্রতি হ্যান্ডসেট দেড়শো ডলার লাভ করছে। আগামী দিনে এই পরিমাণ আরও বাড়বে। কারণ, ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ ফোন আইফোন টেন খুবই জনপ্রিয় হয়েছে এবং চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে ২৫৬জিবি মডেলই বিক্রি হচ্ছে। ২০১৮ সালে অ্যাপল আরও বেশি আয় করবে বলে এখন থেকেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন-২০১৮ সালের নতুন পরিকল্পনা : এই বার এই জিনিসটিকেও বদলে দেবে আম্বানির জিও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: