১৮ মাসেরও কম সময়ে লাভের মুখ দেখল জিও, কীভাবে সম্ভব হল জানুন

সব ফ্রি, সব সব ফ্রি। কল, ডেটা সব। ফ্রি শব্দটা দিয়েই দেশের টেলিকম ব্যবসায় ঢুকে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে রিলসায়েন্স জিও। জিও-র ধাক্কায় টালমাটাল দেশের সব টেলিকম সংস্থা। এত দিন যা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি সেটাই করে দেখিয়েছিলেন মুকেশ আম্বানি। সবার হাতে মোবাইল পৌঁছে দেওয়া আম্বানিরা, এবার ,সবার কাছে পৌঁছে দেন ইন্টারেনট।

বিপুল বিনিয়োগ করে জিও কীভাবে লাভের মুখ দেখবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু ১৮ মাসেরও কম সময়ে লাভের মুখ দেখলে রিলায়েন্স জিও। মার্কেট ভ্যালু-র বিচারে ভারতের সবচেয়ে বড় কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড জানায়,তাদের টেলিকম স্ট্রাট আপ জিও দেড় বছরেরও কম সময়ে লাভের মুখ দেখেছে। আর্থিক বছরের সেকেন্ড কোয়ার্টারে ২৭১ কোটি টাকা ক্ষতিতে ছিল জিও। সেখান থেকে থার্ড কোয়ার্টারে ৫০৪ কোটি টাকার লাভে উঠে এল জিও।

আগামী পাঁচ বছর জিও রেকর্ড পরিমাণ লাভের মুখ দেখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সস্তা আরও সস্তাই হবে জিও-র নীতি। কিন্তু কীভাবে সম্ভব হল লাভ! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম এক বছরে নিজেদের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারায়, এই সাফল্য পেল জিও। কিন্তু কীভাবে! আসলে জিও কাস্টমাররা এখন ডেটা নির্ভর জীবনযাপন করছেন। আগের চেয়টে অনেক বেশি টাকার রিটার্জ হচ্ছে, জিও-র সঙ্গে ব্যবসায়ীক গাঁটছাড়া বাধছে বহু সংস্থা, সঙ্গে রয়েছে তাদের নিয়ে মানুষের উত্॥সাহ। আসলে কাস্টমার বেস তরি করতে পারায় এল এই সাফল্য। জিও-র পাশাপাশি রিলেয়ান্সের মূল ব্যবসা পেট্রোকেমিক্যালস-তেল-গ্যাস সেক্টরেও মোটা লাভ কামিয়েছেন মুকেশ আম্বানি।

বিশ্ববাংলা শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গে জিও-র বিস্তারে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন রিলায়েন্স-এর কর্ণধার মুকেশ আম্বানি। জানান, গোটা বাংলায় জিও-র নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে তাঁর সংস্থা। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে আগামী ৩ বছরে জিও ছাড়া রাজ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। দেখা যাচ্ছে সব সেক্টরেই লাভ আছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

মুকেশ আম্বানি ক দিন আগে বলে ছিলেন, ‘রিলায়েন্সের কাছে জিও আলাদা কোনও ব্যবসা নয়। জিও সবসময় উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। জিও যে শুধু ডেটা বা নেটওয়ার্ক পরিষেবাই দিচ্ছে তাই নয়, জিও-র মাধ্যমে বহু মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি কর্ম সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষ জিওকে আপন করে নিয়েছে। এর জন্য আমি গর্বিত।‘

মুকেশ আম্বানি বলেন, ‘ডিজিট্যাল ব্যবসায় আমার বেশি নজর দেওয়ার মূল কারণ হল, বিশ্বে এখন ডিজিটাল বিপ্লব চলছে। বিশ্বজুড়ে এখন সবকিছুই ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। গান, সিনেমা, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, গাড়ি-বাড়ির ঋণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা-সহ জীবনের সমস্ত প্রয়োজনীয় কাজই ক্রমশ ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ব্যবসাও ডিজিটাল হচ্ছে। ডিজিটাল হওয়ার কারণে আগের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে এগোচ্ছে দেশ।

মুকেশ আম্বানির মতে, রাজ্যকে আরও ডিজিটাল করা দরকার। আর এটাই লক্ষ্য জিও-র। বাংলার প্রত্যেকটা মানুষকে ডিজিটাল হয়ে উঠতে সাহায্য করবে জিও। তাদের আরও স্মার্ট করবে। বাংলার দূর-দূরান্তের গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল পরিষেবাকে পৌঁছে দেবে জিও। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জিও আরও ডিজিটাল হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। দেশে ২ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জিও পরিষেবা দেবে। এছাড়া, কলকাতা এবং জেলা মিলিয়ে হাজারেরও বেশি হাসপাতালে জিও-র পরিষেবা পাওয়া যাবে।‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: