এখন মমতা ব্যানার্জির সবচেয়ে বড় ছয় শত্রূ, যাদের জন্য তাঁর ঘুম না আসারই কথা

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ভারী অদ্ভুত জায়গায় রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। দীর্ঘ ৩৫ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে বাঙলায় ক্ষমতায় এসে সাত বছর কাটানো হয়ে গেল মমতা ব্যানার্জির। বেশ কিছু কাজ করে তিনি খুশি, আবার অনেক কিছু না করার আক্ষেপও তাঁর রয়েছে। কিছু জিনিস ঘটেছে বলে তিনি দারুণ খুশি। আবার সারদা, নারদা কেলেঙ্কারির মত ঘটনা না ঘটলেই ভাল হত বলে রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন।

এখন রাজ্যের গণ্ডি ছাপিয়ে তাঁকে এখন দেশের রাজনীতি বড় দায়িত্ব নিতে হতে পারে। তবে নরেন্দ্র মোদী যেভাবে দেশজুড়ে ঝড় তুলে একের পর এক রাজ্যে বিজেপি-কে ক্ষমতায় নিয়ে আসছেন, তাতে মমতার নিজের সিংহাসনটা ধরে রাখাও হঠাত্॥ই চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠেছে। দেখে নিন এখন মমতা ব্যানার্জির সবচেয়ে বড় ৬টা শত্রু কে। না, মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘ সংগ্রামী-উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক কেরিয়ারে সিপিএম নামক শত্রুটা আর নেই। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, গৌতম দেব। নানা সময় মমতা, সিপিএম নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান চড়িয়েছেন। তবে কার্যত মিউজিয়ামে চলে যাওয়া সিপিএম এখন আর মমতার শত্রু নয়।

দেখুন তা হলে মমতার সবচেয়ে বড় শত্রু কারা-

৬) মুকুল রায়


তাঁর ছত্রছায়াতেই বেড়ে উঠেছেন। তাঁর ম্যাজিক, তাঁর ক্যারিশ্মার আলোতেই বেড়ে উঠেছেন। অথচ সেই মুকুল রায় তৃণমূলের কঠিন সময় ফুল বদল করলেন। মুকুল জোড়া ফুল ছেড়ে পদ্ম ফুলে ফুটলেন। মুকুল রায়কে খুব ভরসা করতেন দিদি। সব কাজে তাঁর মুকুলকে চাইই। অনেকটা দিদির পার্সোনাল সেক্রেটারির ভুমিকাতেই দেখা যেতে মুকুলকে। দিদি দেখতেন প্রশাসন, আর মুকুল সামলাতেন পার্টি। সময় দিতে পারতেন না বলে দলের কাজের সবভার মুকুলকেই দিয়েছিলেন মমতা। সেই সুযোগে মুকুল তৃণমূলের সব নাড়ি নক্ষত্র জানেন। তৃণমূলের এমনও অনেক ফাইল, ব্যাঙ্ক ডিটেলস আছে য়া মুকুল রায় নিজের নামে রেখেছেন। সেই মুকুল রায়কে ছোঁ মেরে তুলে নেয় বিজেপি।

যে বিজেপি অসম, ত্রিপুরা সহ দেশের কিছু রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিক্ষুব্ধ প্রধান নেতাকে কাজে লাগিয়েই বাজিমাত করেছেন মোদী-অমিত শাহ। মুকুল যাতে তেমন কিছু করতে না পারেন সেটাতেই চিন্তা তৃণমূল। মুকুল রায়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল তিনি তৃণমূলের সবটা জানেন। নেতাদের নাড়িনক্ষত্র, তৃণমূলের ফান্ডিং, সবই জানা আছে মুকুলের। দিদির কাছে মুকুল এখন বেশ বড় শত্রু। কে না জানে, এক সময়ের প্রিয় বন্ধু যদি বিপক্ষ শিবিরে যায় তার থেকে বড় শত্রু আর কেউ হয় না কি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: