শোভন চ্যাটার্জির জায়গায় কলকাতার মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা যে পাঁচ তৃণমূল হেভিওয়েটের

এতদিনের জল্পনাতে সিলমোহর পড়তে চলেছে কলকাতার মেয়র তথা সরকারে মমতার সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের ভারপ্রাপ্তমন্ত্রী শোভন চ্যাটার্জির বিদায়-ঘন্টা বেজে গিয়েছে। তৃণমূলে এটাই চেনা রেওয়াজ। দূর থেকেও বোঝা যায় নেত্রীকে কেন্দ্র করে বহাল থাকা মিউজিক্যাল চেয়ারে, কে ‘চেয়ার’ মিস করলেন। সেই অনুসারে আপাতত এটা নিশ্চিত, বড়সড় কোনও সমীকরণ গজিয়ে না উঠলে বা শোভনের কান্নার ফুটেজ ফের দেখা না গেলে, এই উইকেট পড়েই গিয়েছে।

এবার দেখে নিয়ে যাক শোভন চ্যাটার্জি সরলে কলকাতার মেয়র কাদের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৫) অতীন ঘোষ (মেয়র পারিষদ, স্বাস্থ্য)


এর আগের বারই শোনা যাচ্ছিল শোভন চ্যাটার্জির জায়গায় উত্তর কলকাতার দাপুটে নেতা অতীন ঘোষকে কলকাতার মেয়র করা হতে পারে। কাজের মানুষ অতীন অনেক চেষ্টা করেও বিধায়ক হতে পারছেন না। কিন্তু অতীন যেমন কাজ করেছেন তাতে তাঁর যোগ্যতা আছে কলকাতার মেয়র হওয়ার। কিন্তু দিদি বরাবর মেয়র হিসেব দক্ষিণ কলকাতার নেতাদের বেছে নেন বলে নাকি সে যাত্রায় কাননে বাধা পড়েছিল অতীনের মেয়র হওয়ার আশা। তবে এর মাঝে মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) হিসেবে ডেঙ্গির প্রকোপের মাঝে ভাল কাজই করেছেন অতীন। ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ায় দিদি যে তাঁর ওপর রাগ করেননি তা নয় তবে পরিশ্রম করে অতীন সেটা মেকআপও করেছেন।

শোভনের জায়গায় অতীনের নাম উঠছে। তবে শোনা যাচ্ছে, অতীন ঘোষকে উত্তর কলকাতা লোকসভা আসনে দলীয় প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করার ঝুঁকি আছে। রোজ ভ্যালি কাণ্ডে ভালোভাবেই ফেঁসেছেন সুদীপ। ভোটের মুখে ”প্রার্থী” সুদীপ ফের গ্রেফতার হলে, তার প্রভাব পড়বে 42 আসনেই। বিজেপি’র সুবিধা হবে একশো গুন। তাই এসব ঝুঁকিতে ঢুকতে রাজি নয় তৃণমূল। তাই ভাবা হয়েছে অতীনকে নিয়ে। তাই সুদীপের জায়গায় অতীন প্রার্থী হবেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে মেয়র নাও করে হতে পারে। সবটাই অবশ্য দিদির মর্জি। দিদি অনেক সময়ই যাকে দেন সব দিয়ে দেন।

৪) সুব্রত মুখার্জি (পঞ্চায়েত মন্ত্রী, প্রাক্তন মেয়র)

Minister Subrata Mukherjee along with other minister at Nabanna, Howrah, after the first cabinet meeting in the new West Bengal secretariat which has been transferred from Writers Building Kolkata. Express Photo by Partha Paul. 22.10.2013. Kolkata.

কলকাতার মেয়র হিসেবে এত ভাল করেছেন যে এই সিংহাসনটার কথা এলে তাঁর নাম আসবেই। তিনি এখন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী হয়ে দারুণ করছেন। মমতা ব্যানার্জি তাঁর কাজে বেজায় খুশি। মমতা ব্যানার্জির সরকারের অনেক দুর্বলতা সুব্রত একা ঢেকে দিয়েছেন। সেই সুব্রত এখন কাউন্সিলর নন ঠিকই, নিজে মন্ত্রী ঠিকই, কিন্তু দিদির ইচ্ছা হলে সে সব কোনও ব্যাপার নয়। এদিকে, আরও এক হেভিওয়েট মন্ত্রী সম্পর্কে নানা গুঞ্জন নেত্রীর কানে গিয়েছে। নেত্রী রুষ্ট। এড়িয়ে চলছেন নেত্রী। তবে পঞ্চায়েতের আগে তাঁকে সরানো হচ্ছে না। এখনই সরালে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিরোধী শিবিরকে শক্তিশালী করার ক্ষমতা রাখেন। তাই এই নেতার নির্বাসন পাকা হলেও, এখনই তাঁকে ঘাঁটাতে চায়না তৃণমূল। তবে এখনই বা কিছুদিন পর, এই নেতার ঘাড়ে ছাঁটাইয়ের কোপ আসতে চলেছেই।

৩) মনীশ গুপ্ত (প্রাক্তন মন্ত্রী)


২০১৬ বিধানসভায় জিতে শোভন চ্যাটার্জি মন্ত্রী হওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর জায়গায় কলকাতার মেয়র হিসেবে নতুন কাউতে হবে না। এদিকে, সেই বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুরে সুজন চক্রবর্তীর কাছে হারেন মনীশ গুপ্ত। ব্যস, দুইয়ে দুইয়ে চার হয়। তৃণমূলের অন্দরেই একাধিক নাম ঘোরাফেরা করছে নতুন মেয়র হিসাবে। যদিও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশই মনে করছেন দলের হেভিওয়েট নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মনীশ গুপ্তকে মেয়র করার কথা ভাবতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু শেষ অবধি শোভনকেই মন্ত্রী-মেয়রের দ্বৈত দায়িত্ব দিয়ে রেখে দেন মমতা। এখন মনীশের হাতে বঅনেক দায়িত্ব। তবে দিদি যদি তাঁর প্রিয় মনীশকে মেয়রের দায়িত্ব দেন অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

২) মালা রায় (কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন)

একটা সময় মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে লড়েছেন। তবে এখন মমতা ব্যানার্জির বৃত্তে রয়েছেন। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর মালাকে যদি মেয়রের মালা পরিয়ে দেন দিদি তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শোভন এখন আবাসন, দমকল এবং পরিবেশ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পূর্ণমন্ত্রী। দলের খবর, শোভনকে কিছুটা হালকা করে তাঁর হাত থেকে আবাসন ও দমকল দফতর ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশেই এখন ‘কানন’ বিরাজ করবে। বদল হতে পারে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল সভাপতির মুখও। এখন ওই পদে আছেন সেই শোভন। শোভনের সঙ্গে ওই জেলার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক এখন নেহাতই আনুষ্ঠানিক। তাই “কর্তার ইচ্ছায় কর্ম” হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।

১) দেবাশীষ কুমার (মেয়র পারিষদ, উদ্যান)


মেয়র শোভন চ্যাটার্জির নাম যখন নারদ কাণ্ডে জড়িয়েছিল, তখনই তাঁর জায়গায় কলকাতার মুকুট দেবাশীষ কুমারকে পরানো হবে বলেই পুরো ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শোভনকে সরালে বিরোধীরা আন্দোলনের জমি পেয়ে যাবে বলে রেখে দেওয়া হয় শোভনকে। ভদ্র মানুষ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির দেবাশীষ কুমারের মেয়র হওয়ায় হয়নি। তবে এবার নাকি সোভন সরছেনই। আর শোভন সরলে তাঁর হটসিটে দেবাশীষই হট ফেভারিট।

তৃণমূল অন্দরের খবর, মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্ভাবনা আছে কলকাতার মেয়র-বদলেরও। যদিও মন্ত্রিসভায় বা দলে ছোট বা বড় রদবদলের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা আলোচনার কোনও রেওয়াজ নেই তৃণমূলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: