দারিদ্রতাকে দূরে ঠেলে ক্রিকেটার হয়েছেন এই ১০ ভারতীয়; দেখে নিন

ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলতে এসে দেশের বহু ক্রিকেটার যেমন হারিয়ে গিয়েছেন, আবার তেমনই অনেকে সুপারস্টার হয়েছেন। নামের সঙ্গে সঙ্গে আয় করেছেন প্রচুর অর্থ। সংসারে ফিরেছে আর্থিক সঙ্গতি। বলতে গেলে ক্রিকেট তাঁদের জীবনের দৈন্যদশা দূর করেছে। আজ ভারতীয় দলে খেলা এমন দশ ক্রিকেটারকে নিয়ে এই প্রতিবেদন, যাঁরা একসময় প্রচণ্ড দারিদ্রের মধ্যে কাটিয়েছিলেন বড় ক্রিকেটার হয়ে ওঠার আগে।

১০. রমেশ পওয়ার


ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২টি টেস্ট ও ৩১টি ওয়ান ডে ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মুম্বইয়ের এই অফস্পিনার। দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। ছোটোবেলাতেই মাকে হারান। দিদির কাছেই মানুষ। ভারি চেহারা নিয়ে ক্রিকেট খেলতে আসার জন্য কেরিয়ারের শুরুতে কম আওয়াজ খেতে হয়নি রমেশকে। কিন্তু, সমস্ত প্রতিকূলতা দূরে সরিয়ে ভারতীয় দলে ঠিক জায়গা করে নিয়েছিলেন। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সাড়া জাগিয়ে শুরু করেও অল্পেতেই থেমে যাওয়া।

৯. উমেশ যাদব
বর্তমানে ভারতীয় টেস্ট দলের সদস্য। পেস বোলার উমেশের বাবা ছিলেন পেশায় খনি শ্রমিক৷ এতোটাই দারিদ্রের মধ্যে তাঁর জন্ম যে ক্রিকেট শেখার জন্য ছেলেকে অর্থ দিতে গেলে পরিবারকে না খেতে পেয়ে মরতে হবে। টেনিস বল নিয়ে ক্রিকেট অনুশীলন করতেন ছোটো থেকে।৷ আর্থিক অনটনে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নের জায়গাটা পুলিশের চাকরি করার ইচ্ছে নিয়ে নেয়। কিন্তু, ভবিতব্য যে অন্যদিকে নিয়ে যাবে তাঁকে। আচমকাই ট্রায়ালে সুযোগ পেয়ে যান এবং সেখান থেকেই ক্রিকেটার তৈরি হওয়ার যাত্রা নতুন করে শুরু। ২০১০ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জিম্বাবোয়ে সফরে তাঁকে সুযোগ দেন নির্বাচকরা। ২০১১ সালে বিদর্ভের এই ক্রিকেটারের টেস্টের আসরে অভিষেক হয় য়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। উমেশ আগে এখানেই থাকতেন

৮. মহম্মদ সামি


উত্তরপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বাংলার ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। সেখানার আমরোহা জেলার সাহসপুর গ্রামে জন্ম সামির। বাবা দরিদ্র কৃষক৷ নিজেও একসময় ক্রিকেট খেলতেন। কিন্তু, সংসারে অভাবের টান তাঁকে ক্রিকেট থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ছেলেকে ক্রিকেট খেলতে দেখে বিরল প্রতিভা চিনে নিতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। দেরি না করে গ্রাম থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে মোরাদাবাদে বদরুদ্দিন সিদ্দিকির ক্রিকেট কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানেই ক্রিকেটার হয়ে ওঠা৷ উত্তরপ্রদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ না হওয়ায় প্রতিভা যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, তাঁর বাবা-মাকে, ছেলেকে কলকাতায় পাঠানোর পরামর্শ দেন কোচ বদরুদ্দিন৷ কলকাতায় এসে বাংলা দলে জায়গা করে নিতে অনেক খাটতে হয়েছে। ক্লাব তাঁবুতে শুয়ে কাটাতে হয়েছে রাত। শেষে সৌরভ গাঙ্গুলির নজরে পড়ে বাংলা টিমের সম্পদ হয়ে ওঠার পর ২০১৬ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে ভারতীয় দলে অভিষেক সামির। টেস্ট টিমে ভারতীয় পেস বিভাগের সম্পদ হয়ে উঠেছেন এখন বাংলার এই ক্রিকেটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: