এশিয়া কাপ ফাইনালে তৈরী হলো ১০ টি বিশ্বরেকর্ড!

এই নিয়ে এ বছর দ্বিতীয়বার ভারত বাংলাদেশের মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ রোমাঞ্চকরভাবে শেষ হল শেষ বলে ভারতের জয় দিয়ে। লিটন দাসের সেঞ্চুরি সেই সঙ্গে মেহেন্দি হাসানের সঙ্গে তার প্রথম উইকেট জুটিতে করা ১২০ রান করা সত্বেও বাংলাদেশ মাত্র ২২২ রানে ধসে পড়ে। একা লিটন দাস ১১৭ বলে ১২১ রানের ইনিংস খেলেন, কিন্তু অন্যান্য বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা এই দুর্দান্ত শুরুয়াতের ফায়দা তুলতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে ভারতেরও মিডল অর্ডারের দুর্বলতাও এদিন এক্সপোজড হয়ে যায় সকলের সামনে। এদিনের ম্যাচে ভারতের টপ অর্ডার ব্যার্থ হওয়ার পর ভারতের মিডল অর্ডারও ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মত। যদিও শেষ দিকে লোয়ার মিডল অর্ডারের সহায়তায় ভারত এই ম্যাচ নিজেদের দখলে করে নেয়।

একবার দেখে নেওয়া যাক ভারত বাংলাদেশের মধ্যে এশিয়া কাপের ফাইনালে কি কি রেকর্ড হল-

১—এটাই প্রথমবার যখন ভারত কোনও ওয়ানডে ম্যাচে রান তাড়া করা শেষ করল ম্যাচের শেষ বলে। অন্যদিকে ২০০৬ এ হারারে ওয়ানডেতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে হারার পর এটাই দ্বিতীয়বার যখন বাংলাদেশ এইভাবে দারুণ খেলেও শেষ বলে ম্যাচ হারল।

১—একই আন্তর্জাতিক ম্যাচে মেহেন্দি হাসান বাংলাদেশের প্রথম প্লেয়ার যিনি ব্যাট এবং বল দুই ক্ষেত্রেই ওপেন করলেন। এছাড়াও এই ম্যাচে প্রথমবার মেহেদি হাসান তার প্রফেশনাল কেরিয়ারে প্রথমবার ব্যাট হাতে ইনিংস ওপেন করলেন।

২—এটা দ্বিতীয় উদাহরণ যখন কোনও দল ওয়ানডে ফাইনালে শেষ বএ রান তাড়া করা শেষ করল। এর আগে ১৯৮৬ সালে অস্ট্রাল এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে জাভেদ মিঁয়াদদ শেষ বলে ছয় মেরে পাকিস্থানকে জিতিয়ে ছিলেন।

৬—এই মুহুর্তে ৬ বার খেতাব জিতে ভারত এশিয়া কাপের সবচেয়ে সফল দল হওয়ার গৌরব অর্জন করল। শ্রীলঙ্কা দল পাঁচবার এই খেতাব জিতেছে। ভারত সাতবার এশিয়াকাপ সংস্করণ জিতেছে যার মধ্যে ২০১৬র একমাত্র এশিয়াকাপ টি২০ প্রতিযোগিতাও রয়েছে।

৬—নিজের পেশাদার কেরিয়ারে রোহিত শর্মা অধিনায়ক হিসেবে খেলা তার ৬টি ফাইনালই জিতলেন। তিনি চারটি টি২০ ফাইনাল জিতেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে এবং দুটি ফাইনাল জিতেছেন ভারতের হয়ে আর দুটিই ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।

৫৪—দীনেশ কার্তিক আর মহেন্দ্র সিং ধোনির মধ্যে হওয়া ৫৪ রানের পার্টনারশিপ গত ১৯টি একদিনের মধ্যে প্রথমবার ৫০ রানের পার্টনারশিপ, চতুর্থ বা তার নীচের উইকেট জুটিতে যার মধ্যে রোহিত, ধবন এবং কোহলি মজুত নন। এই ধরণের তাদের শেষ ৫০ রানের পার্টনারশিপ হল ২০১৭য় পুণে ওয়ানডে ম্যাচে, যেখানে কার্তিক চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫৯ রান যোগ করেছিলেন হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে।

৩১৭—এত সংখ্যক রান এই এশিয়া কাপে রোহিত শর্মা করেছেন। এমএস ধোনির পর (৩২৭ রান ২০০৮) তিনি মাত্র দ্বিতীয় অধিনায়ক যিনি একটি এশিয়া কাপে ৩০০+ স্কোর করেছেন।

৭০০—এই জয় ওয়ানডে আন্তর্জাতিকের ভারতের ৭০০ তম জয়। অস্ট্রেলিয়া (৯৯৫) এবং ইংল্যান্ডের (৭৬৭) পর তারা তৃতীয় দল যারা ৭০০ ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতেছে।

৮০০—এই ম্যাচে দুটি স্ট্যাম্প করে এমএস ধোনি তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮০০ শিকার পূর্ণ করলেন। তিন ফর্ম্যাটেই তিনি তৃতীয় উইকেটকিপার হিসেবে ৮০০ শিকার ধরলেন।

২০০২—শেষ উদাহরণ হিসেবে ভারত শেষবার একদিনের ক্রিকেটে ২০০+ রান সফল ভাবে তাড়া করেছিল কোনও প্লেয়ারের হাফ সেঞ্চুরি ছাড়াই ২০০২ সালে, যখন তারা ওভালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২০৩ রান তাড়া করে জিতেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: