যে কারণে ধোনির থেকে দাদাকে এগিয়ে রাখা যায় ভারত অধিনায়ক হিসেবে…

গত পঁচাশি বছরে ভারতীয় ক্রিকেটে বহু বড় মাপের নেতা এসেছে। দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য় করেছেন। আজকে ভারতীয় ক্রিকেট দল যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার জন্য় প্রত্য়েক অধিনায়ককেই আলাদা আলাদা করে সম্মান জানাতে হবে। তাঁদের হাতে যেমন ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল, তেমন এটাও মনে রাখতে হবে, দুর্দিন হোক কিংবা সুদিন, সেই অর্পিত গুরুদায়িত্বের মর্যাদা রাখতে, তাঁরা ক্রিকেটার হিসেবে নিজের নাম বাজি রেখে দেশের মর্যাদাকে সবার আগে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আর এই কারণেই সকল ভারতীয় অধিনায়ককে তাঁদের প্রাপ্য় স্বীকৃতি দিতেই হবে, কারণ, একটি মজবুত ইমারত তৈরি করতে গেলে, খুব যত্ন করে একটি একটি করে ইঁট দিয়ে তা গাঁথতে হয়। তবেই তা বহু ঝড়-জল সামলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে, যে কোনও প্রতিবন্ধকতার সামনে।

আরো পড়ুন-বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদবানি এই ভারতীয় খেলোয়াড়ের সাথে যেতে চান নৈশভোজে!

ভারতীয় ক্রিকেট দলকে যে ক’জন অধিনায়ক নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্য়ে সর্বকালের সেরাদের মধ্য়ে তিনজন ভারত অধিনায়কের নাম উঠে আসে। প্রথমজন মহম্মদ আজহারউদ্দিন, দ্বিতীয় জন সৌরভ গাঙ্গুলি আর তৃতীয় ব্য়ক্তি মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতীয় ক্রিকেটের মসনদে বসার ইতিহাস, তিনজনের ক্ষেত্রেই ভিন্ন। আজহারের আমলে ভারতীয় দল সবচেয়ে বেশি টেস্ট ড্র করে আর জেতে। সেই সঙ্গে কলঙ্কেও মুখ পোড়ায়। সৌরভের আমলে ভারতীয় ক্রিকেটে কলঙ্কের কালিমা মুছে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়ে। আর ধোনি – তাঁর আমলে ভারতীয় ক্রিকেট দল সেই সব ট্রফি জিতেছে, যা স্বপ্ন দেখে আসত বাস্তবে পরিণত করার।

আরো পড়ুন-তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেক্স করেছেন বলে দাবি করা দশ অভিনেত্রী

বর্তমানে সর্বকালের সেরা অধিনায়কের লড়াইটা সৌরভ এবং ধোনির মধ্য়েই সীমাবদ্ধ। কারণ, এই দুই নেতার আমলেই ভারতীয় ক্রিকেটে পরিবর্তন এসেছে। সাফল্য়ের বিচারে ধোনি দাদার থেকে বহুকদম এগিয়ে থাকলেও তর্কের খাতিরে গাঙ্গুলিকেই ভারত অধিনায়ক হিসেবে এগিয়ে রাখতে হচ্ছে কয়েকটি কারণে।

আরো পড়ুন-শচীন-কোহলি নয়, সাঙ্গার সর্বকালের সেরা একাদশে মাত্র এক ভারতীয়!

৫. ম্য়াচ-ফিক্সিং পর্ব

২০০০ সালে সৌরভ যখন ভারতীয় দলের নেতা হন, সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেট দল নুয়ে পড়েছিল একেবারে। ম্য়াচ-ফিক্সিং কাণ্ডে একের পর এক বড় বড় ক্রিকেটার নাম জড়িয়ে পড়ায়, তাদেরকে নির্বাসিত করা হয়। তার চেয়ে বড় কথা, ক্রিকেট খেলাটার ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে গিয়েছিল। সেই অবস্থায় শচীন তেন্ডুলকর পর্যন্ত ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিতে চাননি। যদিও ক্রিকেটার হিসেবে তিনি সৌরভকে সমস্ত রকম সাহায্য় করেছিলেন। তবে, দাদা ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন, লড়াকু ও আগ্রাসী নেতা হিসেবে ভারতীয় দলকে নতুন করে গড়ে তুলে ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে ফের বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য়। সেই তুলনায় ধোনি ভারতীয় দলের নেতা হন অনেক কম প্রতিকূল পরিস্থিতি। গ্রেগ চ্য়াপেল পর্ব এবং নেতা রাহুল দ্রাবিড়ের প্রস্থানে ভারতীয় দল মনোবল তলানিতে পড়লেও, ম্য়াচ ফিক্সিং কাণ্ডের মতো ততটা প্রতিকূল ছিল না পরিস্থিতি।

আরো পড়ুন-দাদা, ধোনি না বিরাট – অশ্বিনের মতে দেশের সেরা অধিনায়ক কে?

৪. বিদেশের মাটিতে রেকর্ড

সৌরভকে যাঁরা চেনেন, নেতৃত্ব দিতে দেখেছেন, তাঁরা এই ব্য়াপারটি সবসময় আলোচনার টেনে আনেন। আর তার পিছনে যুক্তিও রয়েছে। বিদেশের মাটিতে সৌরভের সময়ে ভারতীয় দলকে অনেক বড় বড় মাপের টিমের সঙ্গে লড়তে হয়েছে। সৌরভের নেতৃত্বে ভারত যে ২৮টি টেস্ট খেলেছে দেশের বাইরে, তার মধ্য়ে ১১টি বিদেশের মাটিতে। এক্ষেত্রে দাদা ধোনির থেকে এগিয়ে। উইনিং পার্সেন্টেজ ৩৯.৩ শতাংশ।
উল্টোদিকে ধোনির নেতৃত্বেও ভারত ২৮টি টেস্ট ম্য়াচ খেলেছে বিদেশের মাটিতে। কিন্তু, জয় এসেছে মাত্র ছ’টি ম্য়াচে। উইনিং পার্সেন্টেজ ২১.৪ শতাংশ। অবশ্য় দাদা বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতে আসতে পারেননি নেতা হিসেবে। কিন্তু, ইংল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ড্র করা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিরুদ্ধে লড়াই ছুঁড়ে দেওয়া, ভারতীয় দলের মানসিকতাকে অন্য় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিল।

আরো পড়ুন-আফ্রিদির কাছ থেকে ব্যাট ধার করেই পাকিস্তান হারিয়েছিলেন সৌরভ!

৩. আগামী দিনের তারকা

সৌরভের আমলে ভারতীয় দলে যাঁরা আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু করেছিলেন বা নতুন মাত্রা পেয়েছিল, তাঁদের মধ্য়ে প্রায় সবাই আজ অবসর নিয়েছেন। তবে, ভারতীয় ক্রিকেটে সকলেই আজ বড় নাম। নেতা সৌরভ সে সময় তরুণ ক্রিকেটারদের পাশে না দাঁড়ালে ভারতীয় দল আজ এইসব তারকাদের নাম জানতেই পারত না। বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, জাহির খান, যুবরাজ সিং, হরভজন সিংয়ের মতো বিশ্বমানের প্রতিভারা দাদা হাত ধরেই প্রস্ফুটিত হন। নেতা হিসেবে তাঁদের মধ্য়ে আস্থার বীজবপন দাদাই করেছিলেন। আর তার ফল ভারতীয় ক্রিকেট পেয়েছে।
ধোনির আমলে ভারতীয় দলের সাফল্য়ে তার মধ্য়ে অনেক ক্রিকেটারই বড় ভুমিকা রেখেছেন। ভারতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট ইতিহাসে ভিভিএস লক্ষ্মণ আজ লেজেন্ড, তার একটাই কারণ ব্য়াটিং অর্ডারে ঠিক জায়গায় দাদা তাঁকে ব্য়বহার করেছিলেন। তেমনই সেহওয়াগের সফল ওপেনার হয়ে ওঠার পেছনে দাদার অবদান উল্লেখযোগ্য়।

আরো পড়ুন-দশ জন অধিনায়ক, যারা টি ২০ ক্রিকেটে সব থেকে বেশি রান করেছেন!

২. ভারতীয় ক্রিকেটে পরিচিতি

২০০০ সালের আগে ভারতীয় ক্রিকেটে সেভাবে বড় শক্তি হিসেবে কোনওদিনই পরিচিত ছিল না ক্রিকেট মানচিত্রে। অর্থবল নয়, সম্মানের কথা বলা হচ্ছে। দাদার আমলে সেই সম্মান ভারতীয় ক্রিকেট আদায় করে নেয়। আর সেই কারণে সৌরভের বিশেষ স্বীকৃতি প্রাপ্য়। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্য়ান্ডের স্লেজিং ট্য়াকটিক্সের প্রতিবাদে ভারতীয় দলও পাল্টা হুঙ্কার দেওয়া সেই সময় থেকেই শেখে। শ্রীলঙ্কার অর্জুনা রণতুঙ্গার মতো দাদাও ভীষণ সাহসী ছিলেন। আর তাঁর সেই অদম্য় মেজাজটা ভারতীয় ক্রিকেটে গেঁথে দিয়ে যান তিনি।

আরো পড়ুন- সৌরভকে এখনও কেন পছন্দ করেন সবাই!

১. অধিনায়ক হিসেবে উপমহাদেশের বাইরে ব্য়াটিং রেকর্ড

এনিয়ে কোনও দ্বিমত নেই সৌরভ ও ধোনি – ভিন্ন ব্য়াটিং পজিশনে ব্য়াট করতেন। তবে, পরিসংখ্য়ানটাই শেষ কথা। নেতা হিসেবে ব্য়াটিংয়ের রেকর্ড দাদাকে এগিয়ে রেখেছে। উপমহাদেশের বাইরে অধিনায়ক হিসেবে সৌরভের ব্য়াটিং গড় ৪০.২৩। আর তার মধ্য়ে বেশ কয়েকটি ম্য়াচের ভাগ্য় গড়ে দেওয়া ইনিংসও ছিল। হেডিংলিতে ইংল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে ১২৮ রান এবং ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৪৪ রান বিশেষ উল্লেখযোগ্য়।
অন্য়দিকে, ধোনি উপমহাদেশের বাইরে শতরান পাননি। আবার ব্য়াটিং গড়ও দাদার থেকে অনেক নিচে। তবে, এটা মাথায় রাখতেই হচ্ছে, ধোনি সাত নম্বরে ব্য়াট করতেন এবং লোয়ার-অর্ডার/ টেইল এন্ডারদের নিয়ে রান করা অতটা সহজ নয়। সেই তুলনায় দাদা কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময়টাই ওপর দিকে ব্য়াট করতেন, পরের দিকে নিচে নেমে এলেও মিডল-অর্ডারেই খেলেছেন।

আরো পড়ুন- টেস্ট ক্রিকেটে সব থেকে বেশি বার ‘ম্যান অফ দ্যা সিরিজ’ জেতা ১০ ভারতীয় খেলোয়াড়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: