ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজটা যে ৬টা কারণে খুব গুরুত্বপূর্ণ

কাল, বৃহস্পতিবার ডারবানে শুরু হচ্ছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। বিরাট কোহলিরা টেস্ট সিরিজে হারলেও জোহানেসবার্গে শেষ টেস্ট দারুণভাবে জিতে মনোবল বাড়িয়ে নিয়ে নামছে এই ওয়ানডে সিরিজে। এই সিরিজে বিরাট কোহলিদের ভাল কিছু করে দেখাতেই হবে। তা না হলেই কথা উঠবে তাহলে আর গত দেড় বছর ধরে কী আর ভাল খেললেন কোহলিরা। টেস্ট সিরিজে হারের পর ওয়ানডে সিরিজে হারলেও বিরাট কোহলিদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠে যাবে। এই সিরিজে ৪-২ জিতলে ওয়ানডে ranking-এ শীর্ষস্থানে ওঠার হাতছানি থাকবে কোহলিদের সামনে। তবে এসবের বাইরেও এই সিরিজটা ভারতের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ এই কারণগুলির জন্য-

৬) ওয়ানডে-তে আসলে শীর্ষস্থানে থাকার যোগ্য কারা

ICC টেস্ট Ranking-এ যেমন ভারত একে, দক্ষিণ আফ্রিকা দুইয়ে। ওয়ানডে-তে ঠিক তার উল্টো। বিরাট কোহলির দল ওয়ানডে Ranking-এ দ্বিতীয় স্থানে, ফাফ দু প্লেসি-রা শীর্ষে। যে কোনও খেলাধুলোতেই Ranking-নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। Ranking-পদ্ধতি, পয়েন্ট সিস্টেম কাঠগড়ায় ওঠে। যেমন টেনিসে এতগুলো গ্র্যান্ডস্লাম জেতা সেরেনা উইলিয়ামস তুলনায় অনেক কম সপ্তাহ Ranking-এ এক নম্বরে ছিলেন। তাই পেশাদার টেনিসে অনেক সময়ই Ranking-গুরত্ব দেওয়া হয় না। দেওয়া হয় বড় টুর্নামেন্ট জেতাকে। ক্রিকেটে Ranking-নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ওঠে। ঘরের মাটিতে জিম্বাবোয়ে, ও.ইন্ডিজের মত দলকে হারালেও অনেক পয়েন্ট পাওয়া যায়। তাই বিদেশে হারলেও ঘরের মাঠে একগাদা ম্যাচ খেলে Ranking-এ শীর্ষে থাকা যায়। টেস্ট সিরিজে ভারতকে প্রথম দুটো টেস্ট খারাপভাবে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রি্কা প্রমাণ করেছিল, বিরাট কোহলিরা Ranking-এ খাতায় কলমে শীর্ষে থাকলেও আসলে সেখানে থাকার যোগ্য নয়। যদিও তৃতীয় টেস্টে জিতে কোহলিরা সেটা খণ্ডনের চেষ্টা করেছেন। ওয়ানডে-তে এই অভিযোগটা বেশি করে ওঠে। এই সিরিজে সেটা ফয়সালা হয়ে যাবে। ভারত সিরিজ জিতলে টিম কোহলি-র শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠবে না। তবে হারলেই প্রশ্ন উঠবে, গত দেড় বছরে ওানডে-তে টিম ইন্ডিয়ার ধারাবাহিক সাফল্যের কথা।

৫) বিশ্বকাপ আর ১৬ মাস পরে, তার আগে দারুণ প্রস্তুতির মঞ্চ


২০১৯-এর মে মাসে ইংল্যান্ডে আয়োজিত হবে বিশ্বকাপ। তার মানে আর মাস ১৬ পরেই বিশ্বকাপ। টিম গড়ার এটাই সেরা সুযোগ। দেশের মাটিতে খেলে বিদেশের মাটিতে হতে চলা বিশ্বকাপের দল গড়া সম্ভব নয়। এই সিরিজে যারা ভাল খেলবেন তাদের জায়গা পাকা হবে। খারাপ খেললে প্রশ্নচিহ্ন উঠবে। ঘরের মাঠের পারফরম্যান্স ভুলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে কে কেমন করেন সেটা দেখেই গড়া উচিত বিশ্বকাপের দল।

৪) বিরাটের দলের আসল শক্তি পরীক্ষা


ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শক্তি পরীক্ষা হয়নি। এমনকী ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েও হয়নি। তবে এবার হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারলে। বিদেশে সিরিজ জিততে না পারলে কিছুতেই শক্তিশালী দল হওয়া যাবে না।

৩) বেঞ্চ স্ট্রেন্থ দেখে নেওয়া

বিশ্বকাপের আগে বেঞ্চ স্ট্রেন্থ দেখে নেওয়া। শার্দুল ঠাকুর, অক্ষর প্যাটেলদের দেখে নিতে হবে।

২) কেদার যাদব, দীনেশ কার্তিকের বড় পরীক্ষা


টি টোয়েন্টি দলে গুটিগুটি করে ঢুকে পড়েছেন সুরেশ রায়না। আইপিএল আসছে। সেখানে পৃথ্বি শাহ, শুভমিন গিলরা ভাল খেললে তাদেরও জায়গা দিতে হবে। তাই মিডল অর্ডারে কেদার যাদব, দীনেশ কার্তিক, মনীশ পান্ডে-র বড় পরীক্ষা। প্রথম দুজের কাছে তো সিরিজটা ডু অর ডাই। এমনকী শিখর ধাওয়ানকেও ভাল কিছু করতে হবে। উপমহাদেশের বাইরে ধাওয়ানের ফর্ম কিন্তু তেমন নয়। টেস্ট সিরিজেও প্রথম ম্যাচে খারাপ খেলে বাদ পড়েছিলেন ধাওয়ান। অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়াকেও নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। কেপটাউনে ৯৩ রানের ইনিংসটা ছাড়া হার্দিক পুরো ফ্লপ। শেষ দুটো টেস্ট চারটে ইনিংস কোনও উইকেট পাননি। রানও করতে পারেননি। হার্দিক মাঝেমাঝে ব্যাটে ঝলসে উঠলেই হবে না, উইকেট নিতে হবে। কারণ তিনি খেলবেন একজন স্পেশালিস্ট পেসারের জায়গায়।

১) টেস্ট সিরিজে রাবাদা-লুঙ্গিদের কাছে পরাস্ত হওয়ার পর এবার পাল্টা দেওয়া

কাগিসো রাবাদ, এনগিদি লুঙ্গিরা টেস্ট সিরিজে জ্বালিয়ে খেয়েছেন। এবার কিছুটা পাটা উইকেটে কোহলিরা পাল্টা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: